হাইকিঙের সময় যে ১০টি জিনিস সঙ্গে নেয়া জরুরী

সামনেই আসছে শীতকাল। আর শীতের এক বাড়তি উন্মাদনা হাইকিং। চাইলেই বন্ধুদের নিয়ে ঘুরে আসতে পারেন বান্দরবন, রাঙামাটি। চলে যেতে পারেন সিলেটের হাওড় আর প্রাকৃতিক ঝর্ণার কাছাকাছি। কিংবা বিশ্বের সবচে বড় ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট সুন্দরবন। লম্বা সময়ের জন্য হোক কিংবা দুই দিনের ছোট হাইকিং হোক নিজের যাবতীয় জিনিসের সাথে এই ১০ টি জিনিস নিতে কখনওই ভুলবেন না

 

১. জুতা

একদিনের ছোট হাইকিং এ সাধারণ জুতায় কাজ হলেও আপনার যদি কয়েকদিনের জন্য পরিকল্পনা থাকে তবে চেষ্টা করেন ভাল হাইকিং উপযোগী কেডস জুতা পরার। আরামদায়ক জুতা হাইকিঙের লম্বা পথে আপনাকে খুব বড় সাহায্য করবে।

হাবকিং বুট; image source : gettyimages

প্রায়শই আপনাকে হাইকিঙের সময় থাকতে হবে পানির কাছাকাছি। তাই লক্ষ্য রাখবেন আপনার কেডস যেন পিচ্ছিল পাথরের উপর আপনাকে ভাল একটি গ্রিপ দিতে পারে।

২. ম্যাপ, কম্পাস এবং জিপিএস

হাইকিং এ সবচে বড় দুর্ঘটনা পথ হারিয়ে ফেলা। বর্তমানে মোবাইলের কল্যাণে জিপিএস সবার হাতে হাতে থাকলেও আপনার উচিত সাথে একটি কম্পাস এবং ম্যাপ রাখা। কারণ, যেকোন সময় আপনি চলে যেতে পারেন নেটওয়ার্কের বাইরে। আর একটি ম্যাপ আপনাকে পানির সন্ধান, ক্যাম্পের অবস্থান কিংবা যেকোন দুর্ঘটনায় প্রতিকূল পরিবেশ থেকে বেরিয়ে আসার পথের সন্ধান দিতে পারে। তাই একটু সেকেলে হলেও কম্পাস এবং ম্যাপ নিতে ভুলবেন না।

ম্যাপ ও কম্পাস; image source : gettyimages

কম্পাসের আরেকটি বড় সুবিধা হবে রাতের আশ্রয় খুঁজে নিতে। কোন কারণে রাতে ক্যাম্প ছাড়লে ঘন পরিবেশে পথ হারিয়ে ফেলা খুব স্বাভাবিক। সেক্ষেত্রে কম্পাস সবচে বড় উপকারী বস্তু।

৩. অতিরিক্ত পানি

পর্যাপ্ত পানি সাথে রাখুন। সম্ভব হলে খানিক অতিরিক্ত। সামান্য পানির অভাবেই আপনার শরীরের মাংসপেশি সঠিকভাবে কাজ করতে অক্ষম হয়ে পড়বে। হাইকিঙের সময় ঘামের সাথে বেরিয়ে যাওয়া পানিশূন্যতা পূরণে সাবধান থাকুন। কেবল তৃষ্ণা মেটাবার জন্যেই না, পানি বড় কোন অসুস্থতা ঠেকাবার জন্যেও দারুণ কার্যকরী।

সঙ্গে রাখুন অতিরিক্ত পানি; image source : pixabay

আপনি যে রঙের পানি পান করছেন প্রস্রাবের সাথে যদি সেই একই রঙের উপস্থিতি না পান তবে বুঝতে হবে আপনার শরীর পর্যাপ্ত পানি পাচ্ছেনা। ক্লান্তি এবং অবসাদ তখন খুব দ্রুত আপনাকে কাবু করে দিতে পারে।

 

৪. শুকনো খাবার

লম্বা হাইকিং এ আপনার প্রচুর পরিমাণ ক্যালরি প্রয়োজন হবে। দিনের শুরুতে ভাল কিছু খাবার যেমন হাঁটতে সাহায্য করবে তেমনি দিনশেষে ক্লান্তি দূর করে প্রয়োজন শক্তিটাও ফিরে পেতে প্রয়োজন হবে ভাল খাবারের। হাইকিং প্ল্যানে তাই বাড়তি কিছু খাবার আপনার যুক্ত করে নিতে পারেন। এনার্জি বার বা বিস্কুট সবসময় সাথে রাখুন। পেট ভরার চেয়ে বেশি মনোযোগ দিন ক্যালরি ঘাটতি পূরণ করার প্রতি। কারণ ভরা পেটে হাঁটার কষ্ট খানিক বাড়তিই হবে আপনার কাছে।

 

৫. বাড়তি কাপড়

ব্যাগ গুছিয়ে নেবার সময় বাড়তি ১/২ সেট কাপড় রাখবেন। বৈশ্বিক উষ্ণতার এই সময়ে আবহাওয়ার উপর খবরদারি চলে না। তাই সতর্ক থাকতে হবে নিজেকেই। এক্ষেত্রে দুটো উপদেশ – সুতিকাপড় এড়িয়ে চলুন কারণ এটি শরীরে আর্দ্রতা ধরে রাখে এবং সাথে একটি হ্যাট রাখুন। সেই সাথে বৃষ্টি সতর্কতার জন্য একটি রেইনকোট সাথে রাখাটা বুদ্ধিমানের কাজ হবে।

কাপড়ের রঙের দিকেও খানিক লক্ষ্য রাখুন। অবশ্যই এক সেট লাল কাপড় রাখবেন। যেকোন বিপদে এই লাল কাপড় সংকেত হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন। আর হাটার সময় যতটা সম্ভব ঢিলেঢালা এবং হালকা রঙের কাপড় পড়ুন।

 

 

৬. আগুন, টর্চলাইট, হুইসেল

হাইকিঙের অতি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ আগুন। রাত কাটাতে হলে আগুন আপনাকে হিংস্র পশু থেকে নিরাপত্তা দিবে, এছাড়া পানি বিশুদ্ধিকরণ, বিপদে সংকেত পাঠানো সহ বিভিন্ন কাজে আগুন দারুণ সহায়ক। তাই আগুন জ্বালানোর সরঞ্জাম অবশ্যই ব্যাগে রাখুন। এছাড়া চলতি পথে টর্চলাইট এবং বিপদের পড়লে উদ্ধার সংকেত দেয়ার জন্য হাতের কাছে হুইসেল রাখুন।

হাতের কাছে থাকুক একটি হুইসেল; image source : gettyimages

আগুন জ্বালাবার সংকেত হিসেবে জিপ্পো বা লাইটারের সাথে অন্যতম ভাল একটি উপাদান চকমকি পাথর। সাধারণ ছুরির সাথে ঘষলেই চটজলদি আগুনের ব্যবস্থা করতে পারবেন আপনি।

৭. ফার্স্টএইড কিট

ফার্স্টএইড কিট অবশ্যই হাতের কাছে রাখুন। হাইকিঙের সময় ছোটখাটো দুর্ঘটনা বড় সমস্যা হয়ে ওঠার আগেই ব্যবস্থা করা উচিত। ফার্স্টএইড ব্যবহারের পদ্ধতিও আগেই শিখে রাখা বাঞ্ছনীয়। যেন সঠিক সময়ে সঠিক কাজটি আপনি করতে পারেন।

ফার্স্ট এইড কিট; image source : gettyimages

বাড়তি কিছু গজ ব্যান্ডেজ, তুলো এবং এন্টিসেপটিক ক্রিম সাথে রাখুন। এছাড়া মাথাব্যথার ওষুধ, ব্যাথানাশক ট্যাবলেট, ভিটামিন ডি ট্যাবলেট সাথে রাখলে নানাভাবে উপকার পাবেন।

৮. ছুরি

ছুরির মত একটি মাল্টি পারপাস টুল ছাড়া কোনভাবেই আপনার হাইকিং প্ল্যান করা উচিত হবেনা। সাধারণ দড়ি কাটা থেকে শুরু করে বিভিন্ন বড় কাজে একটি ছুরি আপনার নির্ভরতার প্রতীক হতে পারে।

নাগালের মাঝেই রাখুন নিজের ছুরি; image source : gettyimages

ছুরির মাধ্যমে মাছ ধরার কাজও আপনি চালিয়ে নিতে পারেন। একটি লম্বা বাঁশের মাথায় কয়েকটি শলাকা তৈরি করে মাঝে ছুরিটি বেঁধে নিলেই দারুণ কার্যকরী মাছ ধরার উপকরণ পেয়ে যাবেন আপনি।

৯. সানস্ক্রিন এবং সানগ্লাস

বাংলাদেশের মত উষ্ণ দেশে সানস্ক্রিন এবং সানগ্লাস আপনার হাইকিঙের ক্ষেত্রে বেশ কাজে দিবে। সানবার্ন কিংবা রোদ পোড়া অস্বস্তিকর আবহাওয়া থেকে পরিত্রাণ দিতে পারে সানস্ক্রিন আর সানগ্লাস।

 

১০. ব্যাগ

অবশ্যই হাইকিঙের জন্য একটি ভাল এবং উপযুক্ত ব্যাগ সাথে নিন। আপনার ব্যাকপ্যাক যেন আপনার পক্ষে খুব ভারী না হয় সেদিকে খেয়াল রাখুন। সেই সাথে দেখুন ব্যাগটি আপনার সকল প্রয়োজনীয় জিনিস ধারণ করতে সক্ষম কিনা। ব্যাগের কাঠামো এবং আয়তন আপনার উচ্চতার সাথে সামঞ্জস্য হওয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ। মনে রাখবেন হাইকিং এ ব্যাগের উপর নির্ভর করছে আপনি পুরো যাত্রা কতটা উপভোগ করতে পারছেন।

হাইকিং ব্যাগ; image source : outdoorrevival.com

ব্যাগ বাছাই করার সময় আরেকটি দিক হলো ব্যাগটি ওয়াটারপ্রুফ কিনা। বৃষ্টি, পানির সাথে আপনার ব্যাগ তাল মিলিয়ে চলতে না পারলে যাত্রাপথে বেশ বড় ঝামেলাই পোহাতে হতে পারে। তাই ব্যাগের ইস্যুতে কোন প্রকার ঝুঁকি নেয়া উচিত হবেনা।

 

উপরের ১০ টি বিষয়ের সাথে যদি সম্ভব হয় একটি ছোট ব্যাগ সাথে রাখুন। আপনি যে জায়গায় সৌন্দর্য উপভোগ করতে চাইছেন সেটি পরবর্তী আরো অনেককে উপভোগের সুযোগ করে দেয়া একজন নাগরিক হিসেবে আপনার দায়িত্ব। ছোট একটি ব্যাগে ছোটখাটো আবর্জনা (যেমন – চকলেট / চিপসের প্যাকেট, দড়ির বাড়তি অংশ, বাতিল ব্যান্ডেজ) জমা করে রাখুন। পরে তা নির্দিষ্ট স্থানে ফেলবেন। এতে করে পরিবেশ যেমন সুন্দর থাকবে তেমনি আপনিও নিজের মনে স্বস্তি পাবেন।

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.