পৃথিবীর সবচেয়ে দামী কিছু প্রাইভেট জেট

বিলাসিতা দেখাতে মানুষ কত কিছুই না করে, কেউ গাড়ি কেনে, কেউ বাড়ি বানায়, কেউবা টাকা উড়ায়। কিন্তু কিছু ধনী ব্যক্তি আছে যারা বিলাসিতা হিসেবে বেছে জেট প্লেনকে। জি হ্যাঁ, জেট বিমান যা তাদের নিজেদের বহন করার কাজে, কিংবা ভ্রমণের কাজেই শুধুমাত্র ব্যবহার করা হয় অথবা তাদের পরিবারের সদস্যরা ব্যবহার করে থাকে।

যেখানে আপনি আমি যারা সাধারণ বিমানের ভাড়া গুনতেই হিমসিম খাই সেখানে তারা একটা বিমানই কিনে নিয়ে বসে আছেন, কেউ কেউ আবার একটা বিমান কিনেই ক্ষ্যান্ত হন নি, কিনেছেন দু-তিনটে বিমান। যার মানে দাঁড়ায় তাদের কাছে এতই টাকা আছে যে তারা সেগুলো রাখার জায়গা পাচ্ছেন না কিংবা ব্যয় করার উৎস খুঁজে পাচ্ছেন না, তাই তারা কিনে ফেলেছেন বিমান। আবার এমনটাও হতে পারে যে, তাদের কাছে টাকার অভাব নেই, তাই বিলাসিতার জন্য কিংবা আরামপ্রিয়তার জন্য কিংবা ভ্রমণের ক্লান্তি কমিয়ে ভ্রমণকে আনন্দদায়ক করতে তাদের এই আয়োজন।

চলুন জানি এরকম কিছু বিলাসিতা পছন্দকারী মানুষের ব্যবহৃত প্রাইভেট জেট বিমানগুলোর সম্পর্কে,

বোয়িং ৭৩৭

মূল্যঃ ৮০ মিলিয়ন ডলার

‘বোয়িং ৭৩৭; source: img.gta5-mods.com’

বিমানটির মালিকের নাম অজানা, তবে ধারণা করা হয় তিনি আমেরিকান একজন ব্যবসায়ী। যেটি কয়েক বছর আগে এশিয়ান বিজনেস এভিয়েশন কনফারেন্স ও এক্সিবিশনে সকলের সামনে নিয়ে আসা হয়েছিল। যদিও বিমানটির দাম ৫৭ মিলিয়ন ডলার কিন্তু ভেতরের নানান সাজসজ্জ্বার কারণে টাকার অংকটা বেড়ে গিয়ে ৮০ মিলিয়ন ডলার হয়েছে।

প্লেনটিতে ১৯ জন যাত্রী যাত্রা করতে পারে আর ৮ জন মানুষের ঘুমানোর জন্য জায়গা রয়েছে। আর বেডরুমগুলো একেকটি বিশাল আকারের। সাথে রয়েছে সুসজ্জিত রান্নাঘর, একটি সম্পূর্ণ বাথরুম ও শাওয়ারের ব্যবস্থা এবং একটি কনফারেন্স রুম। আর প্রযুক্তির সহায়তায় স্যাটেলাইটের সহযোগিতায় ব্যবস্থা করা হয়েছে ইন্টারনেটের।

এয়ারবাস এ৩১৯ কর্পোরেট জেট

মূল্যঃ ৮০.৭ মিলিয়ন ডলার

‘এয়ারবাস এ৩১৯; source: http://www.chartermadesimple.com’

পৃথিবীর সেরা প্রাইভেট জেট কোম্পানিগুলোর কথা যদি জিজ্ঞাসা করা হয় তবে যার নাম আসবে সেটি হচ্ছে এয়ারবাস। আর তাদের দ্বিতীয় সবথেকে দামী বিমান হচ্ছে এই এ৩১৯ মডেলটি।

আপনি চাইলে বিমানটিকে সম্পূর্ণরূপে নিজের ইচ্ছামত ডিজাইন করতে পারবেন আবার চাইলে তাদের ডিজাইন করা মডেলটিও নিতে পারবেন। বিমানটিতে আপনি আটজন অতিথিকে নিয়ে ভ্রমণ করতে পারবেন।

বোয়িং ৭৫৭

দামঃ ১০০ মিলিয়ন ডলার

‘বোয়িং ৭৫৭; source: i.ytimg.com’

ডোনাল্ড ট্রাম্পকে চেনে না এমন মানুষের অভাব নেই, এটা তারই ব্যবহৃত বিমান। যদিও একজন রাষ্ট্র প্রধানের এই লিস্টে থাকাটা তেমন কিছু না, তারপরেও কেমন যেন একটা অনুভূতির সৃষ্টি হচ্ছে।

তবে এই বিমানটি মি. প্রেসিডেন্টেরই। তিনি এটি মাইক্রোসফটের কো-ফাউন্ডার পল অ্যালেনের থেকে কিনেছিলেন। যদিও কেনার পরে বিমানটির যথেষ্ট সংস্কার করা হয়েছে এবং স্বর্ণের প্লেট ব্যবহার করা হয়েছে বিমানটির বিভিন্ন জায়গায়। প্রেসিডেন্টের মাস্টার বেডরুম ছাড়াও বিমানটিতে আরো রয়েছে ভিডিও রুম, হোম সিনেমা সিস্টেম ও ৫২ ইঞ্চির স্ক্রীন ডিসপ্লে।

গলফস্ট্রিম ।।।

মূল্যঃ ১২৫ মিলিয়ন ডলার

‘গলফস্ট্রিম ।।।; source: http://www.luxurybusinessjets.com’

আমেরিকান প্রডিউসার, অভিনেতা ও ডিরেক্টর টেইলর পেরি এই বিমানটির মালিক। বিমানটিকে তিনি একটি উড়ন্ত থিয়েটারের মত করে সাজিয়েছেন যেখানে আছে বিশাল লাইব্রেরি এবং বড়সড় ডিসপ্লে। আর আপনার যাত্রা যাতে বাজেভাবে না কাটে সেজন্য তিনি প্লেনটির সাধারণ জানালার পর্দার বদলে এক বিশেষ পর্দার ব্যবস্থা করেছেন যা স্বয়ংক্রিয়ভাবে আলো কমাতে বা বারাতে সাহায্য করে। যদিও বিমানটির দাম মাত্র ৬৫ মিলিয়ন ডলার কিন্তু বিভিন্ন কিছুর সংযোজনের পরে বিমানটির দাম এরকম দাঁড়িয়েছে।

বোয়িং ৭৪৭-৮১ ভিআইপি

মূল্যঃ ১৫৩ মিলিয়ন ডলার

‘বোয়িং ৭৪৭-৮১; source: i.ytimg.com’

ভিআইপি এই বিমানটিকে বলা হয় ড্রিমলাইনার। বিমানটির মালিক হং কং-এর রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ী মি. জোসেফ লিউ। বিমানটির ভেতরের বেশিরভাগ ডিজাইন ও কাজ হাতে তৈরি করা হয়েছে আর বিমানটির মধ্যে কয়েকটি ডেকও বিদ্যমান।

বোয়িং ৭৬৭-৩৩এ/ইআর

মূল্যঃ ১২০-১৭০ মিলিয়ন ডলার

‘বোয়িং ৭৬৭-৩৩এ; source: upload.wikimedia.org’

কেমন হবে যখন আপনার একটি বিমান আছে যাতে আপনি চড়ে বসেছেন এবং হাজার ফুট উপরে উঠার পরেও বাসায় বসে থাকার মত অবস্থাতেই আছেন! জি হ্যাঁ, এই বিমানটিকে সেভাবেই তৈরি করেছেন বিমানটির মালিক রোমান আব্রাহামোভিচ। বিমানোটিতে নানান সুবিধার পাশাপাশি আছে ৩০ জনের ডাইনিং টেবিলের ব্যবস্থা, মাস্টার বেডরুম ইত্যাদি। এরকম একটি সাধারণ বিমানে ৩০০ জন মানুষ ভ্রমণ করতে পারে কিন্তু মি. রোমান বিমানটিকে নিজস্ব বিমান হিসেবে ব্যবহার করেন এবং ব্যবসার খাতিরে কিছু কিছু ফুটবল দলের ভ্রমণের জন্য ভাড়া দিয়ে থাকেন।

বোয়িং ৭৪৭-৪০০

মূল্যঃ ২২০ মিলিয়ন ডলার

‘বোয়িং ৭৪৭-৪০০; source: www.albawaba.com’

বিমানটির মালিক সৌদি আরবের প্রিন্স ওয়ালিদ বিন তালাল। তবে যদি আপনি এই বিমানটিকে সবথেকে দামী ধরে থাকেন তবে ভুল করছেন কারণ এর থেকেও দামী বিমান তার আছে যা আমাদের তালিকাভুক্ত হিসেবেই আছে একটু পরে।

যদিও বিমানটিতে ৪০০ মানুষ উঠতে পারে, কিন্তু নিজস্ব বিমান বিধায় তিনি এর ভেতরের সবকিছু ঝেড়ে মুছে নিজের মত করে সবকিছু সাজিয়ে নিয়েছেন যাতে তার চড়তে কোনো অসুবিধা না হয় এবং নিজের মত করে বিমানযাত্রা উপভোগ করতে পারেন।

বোয়িং ৭৪৭-৪৩০

মূল্যঃ ২৩৩ মিলিয়ন ডলার

‘বোয়িং ৭৪৭-৪৩০; source: i.ytimg.com’

বিমানটির মালিক ব্রুনাইয়ের সুলতান, যিনি ১০০ মিলিয়ন দরে বিমানটি কেনার পরে তাতে আরো ১০০ মিলিয়ন ডলার দিয়ে বিমানটিকে নিজের মত করে সাজিয়েছেন। কিন্তু কেন এত টাকার প্রয়োজন পড়লো পরবর্তীতে(১৩০ মিলিয়ন ডলার)? কারণ বিমানটির সবকিছুই স্বর্ণের প্রলেপন দিয়ে তৈরি। বিমানের ভেতরের বাথরুম, রান্নাঘর, শোবার ঘর সবকিছুই স্বর্ণ দিয়ে প্রলেপ দেয়া যাতে করে আপনার মনে হবে আপনি যেনো একটা স্বর্ণের খনির ভেতরে আছেন আর চারদিক অনেক বেশি চকচকে মনে হবে আপনার কাছে।

ওয়ারবাস এ৩৪০-৩০০

মূল্যঃ ৩৫০-৪৫০ মিলিয়ন ডলার

‘এয়ারবাস ৩৪০-৩০০; source: cdn.airplane-pictures.ne’

রাশিয়ার বিখ্যাত ধনী ব্যক্তি অ্যালিশার উসমানোভ এই বিমানটির মালিক, যেটি বর্তমানে বিশ্বের দ্বিতীয় দামী প্রাইভেট বিমান।

বিমানটির নামকরণ করা হয়েছে মি. উসমানোভের পিতার নামে। বিমানটির নাম বুরখান, এটি রাশিয়ার সবথেকে বড় বিমান এমনকি ভ্লাদিমির পুতিনের বিমানের থেকেও এটি আকারে বড়। যদিও বিমানটির দাম ১৩৮ মিলিয়ন ডলার কিন্তু দামের এত পার্থক্যের কারণ এতে ব্যবহৃত প্রযুক্তি এবং ভেতরের ও বাইরের ডিজাইন।

এয়ারবাস এ৩৮০

দামঃ ৫০০ মিলিয়ন ডলার

‘এয়ারবাস এ৩৮০; source: www.aviationcv.com’

এটিই পৃথিবীর সবথেকে দামী প্রাইভেট বিমান, যার মালিকও সৌদি প্রিন্স ওয়ালিদ বিন তালাল।

তালাল পূর্বে ছিলেন পৃথিবীর পঞ্চম ধনী ব্যক্তি যিনি বর্তমানে সেরা পঞ্চাশ ধনী ব্যক্তির তালিকায় রয়েছেন। তার পক্ষে দুটি প্রাইভেট বিমান রাখা কোনভাবেই অসম্ভব নয়। এয়ারবাস শুধুমাত্র তালালের জন্যেই একটি এ৩৮০ মডেলের বিমান বানিয়েছিলেন যার জন্য তাকে দিতে হয়েছিল ৩৫০ মিলিয়ন ডলার। এরপরে তিনি নিজের মত করে বিমানটিকে সাজিয়েছেন। বিমানটিকে বলা হয় ‘কিংডম অব দ্য স্কাই’। যদিও বিমানটিতে স্বর্ণের প্রলেপ ব্যবহার করা হয়েছে। বিমানটিতে সবকিছুর পাশাপাশি আছে কনসার্ট হল, তুর্কিশ বাথ, রোলস রয়েসের মত গাড়ি রাখার জন্য গ্যারেজ এবং প্রার্থনা কক্ষ যাতে ব্যবহৃত হয়েছে ইলেকট্রিক মাদুর।

এই ছিল মোটামুটি বিশ্বের সবথেকে দামী প্রাইভেট বিমানগুলোর তালিকা। লেখাটি পড়তে পড়তে স্বপ্ন দেখতে পারেন আপনিও একদিন এরকম একটি বিমানে চড়ে আকাশের বুকে ভেসে বেড়াচ্ছেন!

 

featured image: cntraveler.com

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.