সময়ের সেরা ৬ গেমিং ল্যাপটপ

তরুণ সমাজের কাছে ল্যাপটপ বা ডেস্কটপ ব্যবহারের ক্ষেত্রে বেশ অনেকটা সময় জুড়ে থাকে গেমিং। কাজের ফাঁকে কিংবা অখন্ড অবসরে গেমিং, মানসিক অবস্থা অনেকটাই ভালো রাখে। কিন্তু  সাধারণ যেকোনো ল্যাপটপের বিল্ডআপ মূলত গেমিং এর জন্য উপযোগী নয়। এই ধারণা থেকেই বিভিন্ন কম্পিউটার কোম্পানি সাধারণ ল্যাপটপের পাশাপাশি নিয়ে আসছে গেমিং ল্যাপটপ। যা নিশ্চিত করে দীর্ঘসময় গেমিং এর পরেও আপনার ল্যাপটপ এর সাধারণ ব্যবহারের জন্য আদর্শ একটি অবস্থা।

গেমিং এর চাহিদায় আলাদা করে গড়ে উঠছে ল্যাপটপ; Image source: barraques.cat

গেমিং ল্যাপটপে যা দেখে নেওয়া দরকার

গ্রাফিক্স কার্ড

ভালো একটি গেমিং অভিজ্ঞতার জন্য সবচেয়ে বেশি দরকারি জিনিসের একটি হল গ্রাফিক্স। শুধুমাত্র গ্রাফিক্স কোয়ালিটিতে ঘাটতি থাকার কারণে আপনার গেমিং এর পুরো আনন্দই নষ্ট হয়ে যেতে পারে। গ্রাফিক্স কার্ড এর পাশাপাশি আরেকটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ জিনিস যা আপনার খেয়াল করা প্রয়োজন তা হলো ল্যাপটপ এর প্রসেসর। তবে আলাদাভাবে বলতে গেলে গ্রাফিক্স এর প্রতি নজর রাখা দরকার সবচেয়ে বেশি। কারণ গেমিং এর ভিডিও কোয়ালিটি আপনার কাছে ভালো বা মন্দ হিসেবে উপস্থাপিত হবে আপনার গ্রাফিক্স কার্ড এর কল্যাণে। তাই নিজের বাজেটে সর্বোচ্চ যে গ্রাফিক্স কার্ড আপনি পাবেন সেই ল্যাপটপ বা নোটবুক আপনার গেমিং এর জন্য সবচেয়ে বেশি উপযোগী হতে যাচ্ছে।

এনভিডিয়া জিফোর্স আরটিএক্স ২০৮০; Image source: nvidia

গেমিং গ্রাফিক্স এর জন্য বর্তমানে সবচেয়ে বেশি বিশ্বস্ত এনভিডিয়া। জিফোর্স ১০৫০ সিরিজ থেকে শুরু করে এনভিডিয়া ট্রিক্স ২০৮০ সবক্ষেত্রেই গ্রাফিক্স এর জন্য সবচেয়ে ভালো বিকল্প হতে চলেছে এটি। ১০৫০ সিরিজ ব্যতীত সকল এনভিডিয়া গ্রাফিক্স কার্ড আপনাকে দুর্দান্ত ভার্চুয়াল রিয়েলিটির স্বাদ দিতে সক্ষম।

স্ক্রিন

বর্তমান সময়ের সকল ল্যাপটপেই ডিসপ্লে হিসেবে আপনি পাবেন সম্পূর্ণ এইচডি (হাই ডেফিনেশন) ডিসপ্লে। এছাড়া বেশকিছু নোটবুকে বর্তমানে ফোর কে (4K) ডিসপ্লেও আপনি পেতে পারেন। যদিও আপনার ডিসপ্লে রেজুলেশন যত বেশি হবে এটি গ্রাফিক্স কার্ডে ততটাই বেশি চাপ তৈরি করবে তবুও গেমিং অভিজ্ঞতার জন্য আপনার প্রয়োজন ভালো মানের স্ক্রিন ডিসপ্লে।

ডিসপ্লে রিফ্রেশ রেট এবং রেসপন্স টাইম আপনার ল্যাপটপের ডিসপ্লে সম্পর্কে উপযুক্ত ধারণা দেবার জন্য সবচেয়ে বেশি দরকারী উপাদান। বর্তমান সময়ের সেরা কিছু গেমিং ল্যাপটপে স্ক্রিন রিফ্রেশ রেট ১২০ হার্জ, কিছুক্ষেত্রে অবশ্য ১৪৪ হার্জের ল্যাপটপও আপনি বাজারে পেতে পারেন। এক্ষেত্রে মনে রাখা দরকার রিফ্রেশ রেট যত বেশি হবে আপনার ল্যাপটপে গেমিং ততটাই বেশি সাবলীল হবে।

গেমিং এর জন্য প্রয়োজন ভিন্ন ধাঁচের ল্যাপটপ; Image source: wallpaperup.com

স্ক্রিন রেসপন্স টাইম বা সংবেদনশীলতা পরিমাপ করা হয় মিলিসেকেন্ড স্কেলে। এবং এর মাত্রা যত কম হবে ততই মঙ্গল। কম রেসপন্স রেট নিশ্চিত করে আপনার পিক্সেল খুব দ্রুত সাদা থেকে কালো, কিংবা ধূসর বা অন্য যেকোনো রঙে খুব দ্রুত পরিবর্তিত হতে পারে। যা আপনার ফেমিং এর জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় একটি দিক।

এএএ/ ট্রিপল এ গেমস

বর্তমান সময়ের সেরা সব ল্যাপটপের জন্য এটি বেশ বড় একটি বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। মুভি ইন্ডাস্ট্রিতে যেমন ‘ব্লকব্লাস্টার’ গেমিং জগতেও একটি গেইমের জন্য একটি ক্যাটাগরি ট্রিপল এ বা এএএ। এটি মূলত একটি একধরনের গেমিং শ্রেণী। সাধারণত একটি ভালো মানের গেমিং ল্যাপটপের জন্য সেকেন্ডে ৬০টি করে ফ্রেম প্রদর্শন এর আদর্শ মান নিশ্চিত করে। তবে নিদেনপক্ষে ৩০ বার ফ্রেমিং আপনার ল্যাপটপে থাকা প্রয়োজন ভালো মানের গেমিং অভিজ্ঞতা লাভের জন্য।

সাধারণত গেমিং এর ক্ষেত্রে চারটি ধাপ থাকে। নিম্ম, মাঝারি, উচ্চ এবং অতি উচ্চ। একটি ভালো মানের গেমিং ল্যাপটপ আপনাকে সবসময় নিজের পূর্ণ ডিসপ্লে ক্ষমতায় এবং সর্বোচ্চ গ্রাফিক্স মানে গেমিং করার জন্য নিশ্চয়তা প্রদান করে থাকে।

সময়ের সেরা ৬ গেমিং ল্যাপটপ       

১। এইচপি ওমেন গেমিং ল্যাপটপ

ইন্টেল কোর আই সেভেন-৮৭৫০ এইচ সিপিউ আর ৮ জিবি মেমরির এনভিডিয়া জিফোর্স জিটিক্স ১০৭০ গ্রাফিক্স কার্ড সমৃদ্ধ এইচপি ওমেন গেমিং ল্যাপটপ বর্তমান সময়ের সেরা কইছু গেমিং ল্যাপটপের মধ্যে অন্যতম। এর ১৫ ইঞ্চির এইচডি ডিসপ্লের রিফ্রেশ রেট ১৪৪ হার্জ যা আপনার গেমিং এর জন্য বেশ ভালো কাজে দিবে। ৩২ জিবি র‍্যাম এবং ৫১২ জিবি এসএসডি নিশ্চিত করবে গেমিং এর সময় আপনার পূর্ণ স্বাচ্ছন্দ্য।

দারুণ ডিজাইন, দারুণ হার্ডওয়্যার সিস্টেমের পাশাপাশি দারুণ চাপ সামলানোর ক্ষমতা সম্পন্ন এই ল্যাপটপের দামও থাকছে কিছুটা সাশ্রয়ী অবস্থায়। যদিও সাধারন যেকোনো ল্যাপটপের তুলনায় গেমিং ল্যাপটপের মূল্য সবসময়ই উর্ধ্বমুখী।

এইচপি ওমেন গেমিং ল্যাপটপ; Image source: amazon.com

এইচপি ওমেন গেমিং পিসিতে ব্যবহার করা হয়েছে এনভিডিয়া জিফোর্স জিটিএক্স ১০৭০ গ্রাফিক্স কার্ড, যার ফলে গেমিং এর হাই সেটিংসে আপনি লম্বা সময় ধরে গেমিং চালিয়ে যেতে সক্ষম হবেন। এনভিডিয়া জি সিঙ্ক এর সাথে যুক্ত হয়ে এর অসাধারণ ডিসপ্লে রিফ্রেশ রেট নিশ্চিত করে আপনার সাবলীল গেমিং অভিজ্ঞতা।

২। এমএসআই জিভি৬২ গেমিং ল্যাপটপ                                              

এইচপির ওমেন ল্যাপটপের তুলনায় খানিক পিছিয়ে থাকবে এই ল্যাপটপটি। যদিও মানের বিচারে যেকোনো প্রকার গেমিং এর চাপ ভালোই সয়ে নিতে সক্ষম এমএসআই জিভি৬২। ইন্টেল কোর আই ফাইভ কোয়াড কোর প্রসেসরের এই ল্যাপটপে গ্রাফিক্স কার্ড হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে ৪ জিবির এনভিডিয়া জি ফোর্স জিটিএক্স ১০৫০ টিআই। ১৫.৬ ইঞ্চির এইচডি আইপিএস ডিসপ্লের কল্যাণে গেমিং এর পরিবেশ খুব দ্রুতই আপনার মাঝে জায়গা করে নিতে সক্ষম হবে।

এমএসআই জিভি৬২ গেমিং ল্যাপটপ; Image source: MSI

যদিও র‍্যাম হিসবে মাত্র ৮ জিবির ব্যবহার এই ল্যাপটপের সবচেয়ে নেতিবাচক দিক, তবুও এর আপগ্রেডেবল হার্ডওয়্যারের ফলে আপনার ল্যাপটপ যেকোনো গেমের জন্য সবসময় প্রস্তুত থাকবে। এছাড়া ৮ জিবির র‍্যামও আপনি চাইলে বাড়িয়ে নিতে পারেন ৩২ জিবি অবধি।

এমএসআই জিভি৬২ এর আরেকতি দারুন দিক এর কিবোর্ড। দারুণ বিল্ড আপের কারণে এটি একজন গেমারের গেমিং এর সময় দারুণ সহায়তা করতে সক্ষম। ওজনে পাঁচ পাউন্ডের কম এই ল্যাপটপও দামের দিক থেকে থাকছে বাজেটের কাছাকাছি।

৩। রেজার ব্লেড ১৫ গেমিং ল্যাপটপ                  

ইন্টেল কোর আই সেভেন হেক্সা কোর প্রসেসর সমৃদ্ধ এই ল্যাপটপে পাচ্ছেন সর্বোচ্চ মানের এনভিডিয়া জি ফোর্স আরটিএক্স ২০৮০ গ্রাফিক্স কার্ড। স্বভাবতই এটি হতে যাচ্ছে আপনার গেমিং এর জন্য অন্যতম সেরা একটি ল্যাপটপ। যদিও এর বাজেট বেশ অনেকটাই বেশি থাকায় এইচপি বা অন্যান্য গেমিং ল্যাপটপ থেকে খানিক পিছিয়ে থাকবে। ১৫.৬ ইঞ্চির ডিসপ্লে যার রফ্রেশ রেট ১৪৪ হার্জ আপনাকে নিশ্চিত করবে আপনি গেমিং এর পুরো সময় উপভোগ করতে পারেন নিজের মত করে।

রেজর ব্লেড গেমিং ল্যাপটপ; Image source: pinterest

বর্তমান সময়ের সবচেয়ে বেশি ট্রিপল এ রেটিং পাওয়া এই ল্যাপটপের র‍্যাম ১৬ জিবি। হার্ডওয়্যারের অসাধারণ ক্ষমতার গুণে বেশ লম্বা সময় ধরে গেমিং এর চাপ নিতে সক্ষম রেজার ব্লেড ১৫। এছাড়া এর ৪.৬ পাউন্ডের হালকা গড়ন আপনার স্বস্তির কারণ হতে পারে।

৪। এমএসআই জিএস৬৫ স্টিল গেমিং ল্যাপটপ

বলা যেতে পারে এটি আগের রেজার ব্লেড ১৫ গেমিং ল্যাপটপেরই একতি প্রতিবিম্ব। প্রায় একই রকম প্রসেসর এবং গ্রাফিক্স কোয়ালিটি সম্পন্ন এই ল্যাপটপের সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক এর বিল্ড আপ। দুর্দান্ত ডিজাইনের এই ল্যাপটপে গেমিং আরো আনন্দদায়ক করবে এর ৪.১ পাউন্ড এর হালকা ওজন। এছাড়া অসাধারণ কিবোর্ড এবং সাউন্ড কোয়ালিটি গেমিং এর সময় গেমারকে অসাধারণ অভিজ্ঞতা প্রদান করবে।

গেমিং এর জন্য সেরা ল্যাপটপ হতে পারে এমএসআই; Image source: pinterest

এই ল্যাপটপে ডায়নোঅডিও স্পিকার গেমিং এর সময় শব্দের মাধ্যমেই দারুণ পরিবেশ সৃষ্টি করতে সক্ষম। প্রায় আট ঘন্টা ব্যাটারি লাইফ নিশ্চিত করবে নিরবিচ্ছিন্ন গেমিং সুবিধা।

৫। আসুস আরওজি জি৭০৩জিএক্স গেমিং ল্যাপটপ

আগের দুই ল্যাপটপের মত ইন্টেল কোর আই সেভেন হেক্সা কোর প্রসেসর এবং এনভিডিয়া জিফোর্স ২০৮০ গ্রাফিক্স কার্ড থাকলেও এই ল্যাপটপের সবচেয়ে বড় দিক হতে যাচ্ছে এর ১৭.৬ ইঞ্চির অপেক্ষাকৃত বড় ডিসপ্লে। অন্য যেকোনো গেমিং ল্যাপটপের তুলনায় এটি তাই বেশ অনেকতাই এগিয়ে থাকবে এর ডিসপ্লের কল্যাণে। ১৯২০*১০৮০ পিক্সেলের এই ডিসপ্লের রিফ্রেশ রেট ১৪৪ হার্জ সেইসাথে রেসপন্স টাইম বিষ্ময়কর ৩ মিলি সেকেন্ড।

আসুস্রের সেরা গেমিং ল্যাপটপ; Image source: asus

কোয়াড স্পিকার অডিও, আপগ্রেডেবল হার্ডওয়্যার দুটোই ল্যাপটপের রেটিং বাড়িয়ে দিলেও এর বিশাল আকার এবং ১০.৪ পাউন্ড ওজন ব্যবহারকারীর জন্য খানিক অসুবিধার সৃষ্টি করতে পারে।

৬। অ্যাসার প্রেডেটর হেলিওস ৫০০ গেমিং ল্যাপটপ

ইন্টেল কোর আই সেভেন প্রসেসরের এই ল্যাপটপে আপনি রাফিক্স কোয়ালিটি নিয়ে খানিক প্রশ্ন করতে পারেন। এনভিডিয়া জি ফোর্সের ১০৭০ গ্রাফিক্স কার্ড ব্যবহার করা হয়েছে এই ল্যাপটপে। ১৬ জিবি র‍্যাম থাকলেও এর হার্ডডিস্ক বিষ্ময়কর ১ টেরাবাইট ক্ষমতাসম্পন্ন। অন্যান্য ল্যাপটপের তুলনায় এর রিফ্রেশ রেটও খানিক কম। ১২০ হার্জের এই ল্যাপটপের ডিসপ্লে অবশ্য আপনার অনুকূলেই থাক্লবে। ১৭.৩ ইঞ্চির এই ডিসপ্লে এনভিডিয়া সাপোর্ট করে পুরোপুরি ভাবে।

অ্যাসার প্রেডেটর সিরিজের গেমিং ল্যাপটপ; Image source: pinterest

আপগ্রেডেবল হার্ডওয়্যার এর পাশাপাশি অ্যাসার প্রেডেটরে আপনি পাচ্ছেন কাস্টমাইজড গেমিং সুবিধা। তবে প্রায় ৯ পাউন্ডের কাছাকাছি ওজন থাকায় এটি আপনার জন্য খানিক সমস্যার হতে পারে।

Feature Image – wallpaperup.com

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.