ব্রণ দূরীকরণে অান্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন বিউটিশিয়ান শাহনাজ হুসাইনের ৮ টি পরামর্শ

Shahnaz Husain; Source: StyleCraze

আপনি জানেন কি, শুধুমাত্র ব্রণই আপনার একটি দিন নষ্ট করে দিতে পারে। শুধু তাই নয়, আপনার জীবনকে করে তুলতে পারে জটিলতর। ধরুন আপনি কোথাও যেতে তৈরী হয়েছেন, এবার বের হবেন। হঠাৎ অাপনার মনে হল, ‘যাইতো, একটু আায়নায় মুখটা একটু দেখে আসি।’ আয়নায় মুখ দেখতে গিয়ে আবিষ্কার করলেন, আপনার মুখের দেয়াল ফুড়ে কিছু ব্রণ উকি দিচ্ছে! কেমন লাগার কথা তখন?

নিশ্চয়ই মনে হবে সাজগোজ নষ্ট করে বাসায় বসে থাকতে। কেননা এক গাদা ব্রণ মুখে করে ঘুরতে ভাল লাগে কারও? মনটা দমে যায় না? ব্রন সবাইকে ভাবায়। ব্রণ ভাবিয়েছে আন্তর্জাতিক মর্যাদা সম্পন্ন বিউটিশিয়ান শাহনাজ হুসাইনকেও। আর তাই তিনি কিছু টিপস দিয়েছেন, যেগুলো মুখ মণ্ডল ব্রণ মুক্ত রাখতে সক্ষম। ব্রণমুক্ত মুখ মণ্ডল পেতে আপনিও টিপস গুলো অনুসরণ করতে পারেন।

গোলাপ জল

গোলাপ জলের সাথে আমরা সবাই পরিচিত। কেননা ধর্মীয় উৎসবে পবিত্রতা বজায় রাখতে আমরা গোলাপ জল ব্যাবহার করি। রুপ বিশেষজ্ঞ শাহনাজ হুসাইনও গোলাপ জলকে গুরুত্ব দিয়েছেন। তবে তা ব্রন দুর করতে। ব্রণ সাধারণত তৈলাক্ত ত্বকে বেশী আক্রমন করে। আর গোলাপ জল ত্বক শুষ্ক রাখতে সাহায্য করে। প্রতিদিন দিনে দুইবার সাবান দিয়ে মুখ ধোয়ার পর গোলাপ জল ব্যাবহার করলে ব্রণের অত্যাচার থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।

গোলাপ জল; Source: wildturmeric YouTube Channel

প্রয়োগ পদ্ধতি

পরিমাণ মতো গোলাপ জল হাতের তালুতে নিতে হবে।
এরপর মুখের সকল স্থান গোলাপ জল দিয়ে ভাল করে ধৌত করতে হবে।
প্রতিদিন নিয়মিত দুইবার করে গোলাপ জল এভাবে ব্যাবহার করলে ব্রণের হাত থেকে রেহাই পাওয়া সম্ভব।

বেসন অথবা মুলতানি মাটি

মুলতানি মাটি; Source: SastaSundar.com

বেসন এবং মুলতানি মাটি ব্রণ দূর করতে যথেষ্ট ভূমিকা রাখে। নিয়মিত মুলতানি মাটি ব্যাবহারের কারণে আপনি পেতে পারেন ব্রণমুক্ত চেহারা।

শসা এবং দধি

শসা ও দই শুধু আমাদের খাবার হিসেবেই ব্যাবহৃত হয় না। এরা ত্বকের অবাঞ্চিত ঝুট ঝামেলা দূরীকরণেও ভূমিকা রাখে। শসা ও দধিতে কিছু ঔষধি উপাদান আছে, যা মুখের ব্রণ দূরীকরণে সাহায্য করে। তবে এরা শুধু মুখের ব্রণ দূরীকরণেই ভূমিকা রাখে না। শসা এবং দধি আপনার মুখের ত্বক পরিষ্কার ও সতেজ করে তুলে আপনার চেহারায় নিয়ে আসতে পারে তারুণ্যের ছোয়া। আপনাকে করে তুলতে পারে উজ্জীবিত।

দধি; Source: Food Tips

ব্যাবহার বিধি

শসা ও দধিতে একসাথে মিশিয়ে পেষ্ট বানাতে হবে।
এরপর সারা মুখ মণ্ডলে লাগাতে হবে। ১৫ মিনিট মুখে দই মাখা অবস্থায় রাখার পর পানি দিয়ে ভাল করে ধুয়ে ফেলতে হবে।

ব্রণ দূর হওয়া না পর্যন্ত নিয়মিত এই পদ্ধতি অনুসরণ করলে আশাতীত ফল পাওয়া যাবে।

হলুদের দ্রবণ এবং গোলাপ জল

হলুদের গুণাগুণ সম্বন্ধে আমরা সবাই কমবেশী অবিহিত। যখন রুপচর্চা বিষয় আধুনিক পদ্ধতিগুলোর প্রসার ঘটেনি তখন থেকেই নারীরা রুপচর্চার জন্য হলুদ ব্যাবহার করে থাকেন। হলুদ ত্বক ফর্সা ও উজ্জল করে এবং চেহারায় মাধুর্য আনতে সহায়তা করে। আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন রুপ বিশেষজ্ঞ শাহনাজ হুসাইন মনে করেন মুখের ব্রণ দূর করতেও হলুদ উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করে। তবে তিনি মনে করেন মুখের ব্রণ দূরীকরণে হলুদের সাথে প্রয়োজন ব্রণ দূরীকরণের আরেকটি শক্তিশালী উপাদান গোলাপ জল।

হলুদ; Source: Poriborton

ব্যাবহার বিধি

হলুদ গুড়ার সাথে কয়েক ফোটা গোলাপ হল মেশাতে হবে।
হলুদে গোলাপ জল মিশিয়ে কিছুক্ষন কিছু একটা দিয়ে নাড়লে হলুদ ও গোলাপ জলের সুন্দর একটি দ্রবণ তৈরী হয়।
এরপর দ্রবণটি মুখ ও কপালের সমস্ত অংশ জুড়ে ভাল করে মাখতে হবে কিংবা ব্রণযুক্ত স্থানে লাগালেও চলবে।
দীর্ঘ এক ঘন্টা উক্ত পেস্টটি মুখে লাগিয়ে রাখার পর পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে।

এই পদ্ধতি অনুসরণ করলে ব্রণ মুক্ত হতে আশানরুপ ফল পাওয়া যায়।

গ্লিসারিন এবং গোলাপ জল

মুখ মণ্ডল ব্রণ মুক্ত রাখতে গ্লিসারিন এবং গোলাপ জল খুবই উপযোগী। কেননা গোলাপ জল ত্বকের ব্রণমুক্ত রাখার একটি অন্যতম উপাদান। এছাড়া গ্লিসারিনে রয়েছে ইথানল যা ব্রণের যম এবং গ্লিসারিন ত্বকের তৈলাক্ততা রোধ করে যার ফলে ব্রণ উৎপত্তির সম্ভবনা দূর হয়ে যায়।

গ্লিসারিন; Source: Amar Sangbad

ব্যাবহার বিধি

প্রথমে গ্লিসারিন নিতে হবে।
এরপর এর সাথে গোলাপজল মিশাতে হবে।
অতঃপর গোলাপ জল ও গ্লিসারিনের দ্রবণ বোতলে ভরে ফ্রীজে রেখে দিতে হবে।
এই দ্রবণটি মুখ ধোয়ার সময় একবার করে মাখতে হবে।
তবে দ্রবণটি ব্যাবহারের পূর্বে তাতে কয়েক ফোঁটা লেবুর রস মিশ্রিত করে নিলে ভাল। কেননা লেবুর রস ত্বকের উজ্জলতা বৃদ্ধিতে সাহায্য করে।

দধি

দধির প্রথম উপাদান জিংক। জিংকে ভরপুর এই দধি ব্রণের প্রধান শত্রু। কেননা এটি মুখকে রাখে ব্রণমুক্ত। পাশাপাশি দধি ত্বকের উজ্জলতা বাড়িয়ে চেহারায় আনে সজীবতা।

ব্যাবহার বিধি

একটু দধি নিতে হবে
তারপর একে হলুদ গুড়ার সাথে মিশিয়ে পেস্ট তৈরী করতে হবে।
প্রতিদিন নিয়মিত এই পেস্টটি মুখে লাগিয়ে রাখতে হবে।
১৫-২০ মিনিট পেস্টটি মুখে লাগিয়ে রাখার পর পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে।
তবে হলুদের পরিবর্তে টমেটোর রসও দইয়ের সাথে ব্যাবহার করা যায়। কেননা টমেটোর রস ত্বকের তৈলাক্ততা দূর করতে সক্ষম। আর ত্বকের তৈলাক্ততা দূর হয়ে গেলে ব্রণের প্রভাবও কমে যায়।

নিম পাতা

নিম পাতা তথা নিম গাছই একটি অতি উপকারী ঔষধী বৃক্ষ। মানব দেহের বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধে ব্যাবহৃত হয় নিম। শাহনাজ হুসাইনও মুখের ব্রণ দূর করতে নিম পাতার প্রতি বেশ গুরুত্ব আরোপ করেন। কেননা নিম পাতা খোস পচড়া সহ মুখের ব্রণ দূর করতে খুবই উপযোগী।

নিম পাতা; Source: Bangla Tribune

ব্যাবহার বিধি

নিম পাতাগুলো প্রথমে ভাল করে ধুয়ে নিতে হবে।
এবার নিম পাতাগুলো পানিতে ভিজিয়ে রাখতে হবে।
কিছুক্ষন পর দেখা যাবে পানি রং পরিবর্তন হয়েছে।
পানির রং সম্পূর্ণ রুপে পরিবর্তন হলে এই পানি দিয়ে নিয়মিত মুখ ধুলে ব্রণ দূর হয়ে যাবে।

কুমড়ার রস

কুমড়ার রস মুখের তৈলাক্ততা নিয়ন্ত্রণ করে। ফলে ব্রন মুখ মণ্ডল আক্রমণ করতে পারে না।

কুমড়া; Source: Jagonews24

ব্যাবহার বিধি

ত্বকের তৈলাক্ততা দূরীকরণে দুই চা চামচ কুমড়ার রস দুধ ও লেবুর রসের সাথে মিশাতে হবে। এবার তুলাতে দ্রবণটি নিয়ে মুখে ঘষতে হবে।

এভাবে নিয়মিত ব্যাবহার করলে মুখের ত্বক হবে পরিষ্কার, সতেজ ও ব্রণমুক্ত।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.