আইব্রো স্লিটস : ফ্যাশনের জগতে নতুন একটি নাম

চোখের ভ্রুয়ের কোণা কাটা এই বছর ইন্সটাগ্রামে ঝড় তুলে ফেলেছে। সামাজিক গণমাধ্যমে এর চল নতুন হলেও হিপহপ সম্প্রদায়ে কয়েক দশক ধরে এটি চলে আসছে। হিপ-হপ সম্প্রদায়ে এই স্টাইলটি কেবলই একটি ভিন্ন ধরণের ‘কাট’। যদিও নব্বই শতকের দিকে এটি একবার সামান্য জনপ্রিয়তা লাভ করে, তবুও বছরখানেক আগে থেকে এই চল ফিরে আসে দ্বিগুণ জনপ্রিয়তা নিয়ে। এটি আসলে কেবলই একটি চল নয় বরং এর সাথে জড়িয়ে আছে কোনো একটি সংস্কৃতি।

ভ্রুয়ের কোণা কাটার ইতিহাস আরও পুরানো; Source: Jawbreaker

একবার ভেবে দেখুন তো কেবল ‘সবাই করছে তাই আমিও করবো’ মনোভাব নিয়ে একটি সাংস্কৃতিক বিষয়কে ফ্যাশনে পরিণত করতে আপনি কতটুকু প্রস্তুত? যদিও সংস্কৃতি একে অনুমোদন দেয় না।

নতুন আঙ্গিকে পুরানো ফ্যাশন; Source: Style Craze

সব ভাবনা শেষে যদি আপনি আসলেই মনে করেন যে এই ফ্যাশন গ্রহণে আপনি প্রস্তুত তাহলে এই আয়োজন আপনার জন্যই। কয়েকটি ছোটো ছোটো ধাপে ভাগ করে আমরা চেষ্টা করেছি আইব্রো স্লিটস বা চোখের ভ্রুয়ের কোণা কাটার মতো কাজকে কিছুটা সহজ করে বর্ণনা করতে।

যেভাবে কাটতে হবে

এর কৌশল হলো ভ্রুয়ের বাহিরের কোণায় চিকন করে একটা থেকে শুরু করে তিনটা পর্যন্ত কাটার সৃষ্টি করা। আপনি এক ভ্রু অথবা চাইলে দুটি ভ্রুতেই এই কাট দিতে পারেন। তবে এক ভ্রুয়ে এই কাটের চল বেশী দেখা যায়।

যা যা প্রয়োজন

  • একটি রেজর
  • স্কচটেপ
  • টুইজার

ধাপসমূহ

প্রথম ধাপঃ দাগ কেটে নিন

কাটা শুরু করার আগে আপনি সাদা বা ন্যুড আই পেনসিল দিয়ে দাগ কেটে নিন। সরাসরি কাটতে গেলে হয়তো এদিক সেদিক হয়ে যেতে পারে। তাই সঠিক অবস্থান ধরে রাখার জন্য পুরো অংশটিতে দাগ কেটে নিন।

সাদা পেনসিল দিয়ে দাগ কেটে নিন; Source: Wikihow

দ্বিতীয় ধাপঃ সমান্তরাল ভাবে স্কচটেপ লাগিয়ে নিন

দুটি এক ইঞ্চি সাইজের স্কচটেপ কেটে নিন। এবার দাগের দুইপাশে স্কচটেপ লাগিয়ে নিন। অর্থাৎ যতটুকু দাগ কেটেছেন সেই অংশ যেন দুটি স্কচটেপের মাঝখানে থাকে। স্কচটেপ বাছাই করার সময় নেইল টেপ বা হালকা আঠার টেপ নিতে পারেন। কারণ স্কচটেপে বেশী শক্তিশালী আঠা থাকলে আশেপাশের ভ্রু উঠে আসতে পারে।

টেপ লাগিয়ে মাঝের অংশটুকু কেটে ফেলুন; Source: Youtube

তৃতীয় ধাপঃ শেভ

দুটি স্কচটেপের মাঝের অংশের উপর রেজর ধরে আলতো করে কেটে নিন। একেবারে চেপে ধরবেন না। প্রয়োজনে দুই থেকে তিনবার একটু করে চেপে চেপে ভ্রু তুলে আনুন।

শেভ করে ফেলুন; Source: YouTube, Andrew’s eyebrow

আপনি যদি রেজরে অস্বস্তি বোধ করেন তাহলে ভ্রু প্লাকের নিয়মে সুতা দিয়েও ওই অংশটুকুর ভ্রু তুলে ফেলতে পারেন।

রেজরে অস্বসতি বোধ হলে থ্রেডিং করতে পারেন; Source: Cosmopolitan

চতুর্থ ধাপঃ টেপ উঠিয়ে ফেলুন

এই ধাপে আপনাকে আরও বেশী সাবধান হতে হবে। আস্তে আস্তে করে টেপটি তুলে ফেলুন। যদি টেপের আঠা খুব শক্তভাবে ভ্রুয়ের সাথে লেগে যায় তাহলে পানিতে টিস্যু পেপার ভিজিয়ে টেপের ভেতরে একটু একটু করে পানি পৌঁছে দিন। এতে আঠা হালকা হয়ে আসবে। অথবা হেয়ার ড্রায়ার দিয়ে টেপের উপরে গরম বাতাস ব্লো করুন। টেপ নিজে থেকেই উঠে আসবে।

ব্যস, হয়ে গেলো আপনার চোখের ভ্রুয়ের কোণা কাটা। একটু সাবধানী হয়ে এবং সময় নিয়ে স্লিটস করতে পারলে পার্লারে না গিয়ে নিজেই বাসায় বসে এভাবে স্লিটস করে নিতে পারেন। একই নিয়ম অনুসরণ করে আরও দুটি কাট করে নিন।

প্রয়োজনীয় টিপস এবং সতর্কতা

ভ্রু কাটার আগে কিছু টিপস এবং সতর্কতা আপনার জানা উচিত। আসুন সেগুলো নিয়ে একটু বলা যাক

  • যদি আপনি চান যে আবার স্লিট করা জায়গায় ভ্রু গজিয়ে উঠুক, তবে আরেকটু ভেবে নিন। হয়তো আপনার ভ্রু আর নাও গজাতে পারে! জ্বি, ঠিকই পড়েছেন। অনেক আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে ভ্রু প্লাক করলে সেখানে ভ্রু আর নাও জন্মাতে পারে। সেক্ষেত্রে সারাজীবন আপনাকে এভাবেই থাকতে হবে। তাই আপনার সাধের ভ্রু আবার ফেরত পেতে চাইলে খুব ভালোভাবে ভেবে নিন। আপনি যদি পরিবর্তনশীল মনের অধিকারী হন তবে আমরা পরামর্শ দিচ্ছি আপনি একদম শতভাগ নিশ্চিত হয়েই পরে এই স্টাইলের সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।
চার্লি পুথ এবং আইব্রো স্লিটস; Source: WENN.com
  • আপনি আপনার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করার আগে একটা ছোটো পরীক্ষা করে নিতে পারেন। ভ্রুয়ের একটা ছোটো অংশ যা সাধারণত অন্যের চোখে পড়বে না তেমন জায়গায় আপনি একটু ভ্রু প্লাক করে বা শেভ করে দেখতে পারেন সেখানে আর ভ্রু জন্মায় কিনা। যদি জন্মায় তবে আপনার ভাগ্য সুপ্রসন্ন।
  • উপরের ধাপগুলো অনুসরণ না করেও আপনি ইচ্ছে করলে আইব্রো স্লিটস স্টাইল করতে পারেন। ট্যাটুর মতো একটি বিষয়ের যদি বিকল্প হতে পারে তাহলে স্লিটসের কেন নয়? এটা করা যাবে মেকআপের মাধ্যমে। দরকার শুধু আপনার নিয়মিত মেকআপ এবং কনসিলার।
কনসিলারের সাহায্যে একটু খানি ভ্রু ঢেকে দিন; Source: Youtube

কনসিলারের সাহায্যে ভ্রু-তে একটু সাদা অংশ তৈরি করে নিয়ে পরীক্ষা করে দেখতে পারেন আপনাকে কেমন দেখায়। যদি মানিয়ে যায় তবে পিছিয়ে থাকবেন কেনো?

আইব্রো স্লিটস বর্তমানে খুব জনপ্রিয় একটি ফ্যাশন হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে তরুণ তরুণীদের মাঝে এই চল খুব বেশি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এই ফ্যাশন জনপ্রিয় করার পিছনে জায়েন মালিক, ক্লো নরগার্ড, টম হার্ডি, জেসন মোমোয়া, চার্লি পুথ প্রভৃতজনের অবদান অনেক বেশি।

জেসন মোমোয়ার ভ্রুয়ের কোণা কাটা স্টাইল; Source: news.yahoo.com

কিন্তু সবচেয়ে বড়ো ব্যাপার হচ্ছে অন্ধের মতো আপনার আইডলকে অনুকরণ করতে যাবেন না। সময় নিন এবং নিজের সাথে বুঝুন কোন শৈলী আপনার সাথে খাপ খায় এবং আপনার ব্যক্তিত্বকে ফুটিয়ে তুলতে পারে। আর এক্ষেত্রে আমাদের ছোটো একটি অবদান হচ্ছে আইব্রো স্লিটস। আপনার কি মনে হয় এই হালের ফ্যাশনটির ব্যাপারে? আপনি কি চেষ্টা করে দেখবেন এটি আপনার ব্যক্তিত্বকে প্রতিনিধিত্ব করে কিনা?

Feature Image Source: The Times

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.