বাজারে সনির সেরা পাঁচ ফোন

স্মার্টফোন বাজারে, একসময় বেশ আলোড়ন তুলেছিল সনির এক্সপেরিয়া সিরিজের দারুণ সব ফোন। যদিও সময়ের হাত ধরে তাদের ব্যাপক বাজার এবং মানের দিক থেকে বেশ খানিকটা ঘাটতি দেখা দিয়েছে। সমসাময়িক অন্যান্য বিভিন্ন কোম্পানি যেমন হুয়াওয়ে এবং স্যামসাং যতটা শক্তভাবে নিজেদের মেলে ধরতে পেরেছে ততটা কখনোই পারেনি সনি। উপরন্তু জায়গা হারিয়েছে অপ্পো, রেডমি কিংবা গুগল পিক্সেলের মত বেশকিছু ফোনের কাছে।

সনির আলোচিত কিছু ফোন; Image source: android authority

তবে এতকিছুর পরেও শুধুমাত্র ব্র্যান্ড এবং অভিজ্ঞতা গুণে নিজেদের বিশাল এক বাজার এখনো ধরে রেখেছে সনি। সেইসাথে নিজেদের স্মার্টফোন বিল্ডআপ এবং কোয়ালিটির ক্ষেত্রেও বেশ কিছু পরিবর্তন স্মার্টফোন জগতেও সনিকে রীতিমতো বড় প্রতিদ্বন্দী করে তুলছে। বাজারে সনির বিভিন্ন মডেলের স্মার্টফোনের ভিড়ে এখন পর্যন্ত সেরা পাঁচ ফোন দেখে নিতে পারেন এক নজরে।

১। সনি এক্সপেরিয়া এক্সজেডথ্রি

২০১৮ সালের অক্টোবরে বাজারে আসা এক্সপেরিয়া এক্সজেডথ্রি বাজারে এসেই তুমুল বাজিমাৎ করেছিলো। হুয়াওয়ে মেইট টুয়েন্টি প্রো এবং স্যামসাং গ্যালাক্সি নোট নাইন এবং গুগল পিক্সেল থ্রি এরপর ২০১৮ সালের সেরা স্মার্টফোন ছিল এক্সপেরিয়া এক্সজেড থ্রি। ৩৩০০ মাইক্রো অ্যাম্পিয়ার ব্যাটারির এই ফোনে আপনি পাবেন এন্ড্রয়েড নাইন অপারেটিং সিস্টেম। ৬৪ জিবি ইন্টারনাল স্টোরেজের এই ফোনে র‍্যাম ৪ জিবি। টিভি এবং ক্যামেরা জগতে বিখ্যাত সনি এক্সজেডথ্রি এর ক্যামেরায় এনেছে ব্যাপক বৈচিত্র্য। ১৯ মেগাপিক্সেলের রেয়ার ক্যামেরার সাথে যুক্ত আছে ১৩ মেগাপিক্সেলের ফ্রন্ট ক্যামেরা যা ২০১৮ সালে রীতিমতো চ্যালেঞ্জ জানিয়েছিল হুয়াওয়ে আর গুগল পিক্সেল থ্রিকে। যদিও শেষ পর্যন্ত দামের প্রতি খুব একটা সুবিচার তারা করতে পারেনি। যার কারণে বেশ খানিকটা পিছিয়ে ছিল এক্সজেডথ্রি এর চাহিদাও।

সনির এক্সপেরিয়া এক্সজেডথ্রি; Image source: androidauthority.com

এখন পর্যন্ত এটিকে বলা চলে সনির সেরা ফোন। একটু বেশি বাজেট যদি খরচ করতে চান সনি এক্সপেরিয়া এক্সজেড থ্রি আপনার জন্য অসাধারণ ফোন হতে যাচ্ছে। এর ৬ ইঞ্চি এইচডিআর ওএলইডি স্ক্রিনের সাথে পাচ্ছেন কিউএইচডি প্লাস রেজ্যুলেশন যার মাধ্যমে আপনার মুভি দেখা, ইউটিউব স্ট্রিমিং এবং গেমিং হবে আরো অনন্য। নতুন এই ফোনে সনি যুক্ত করেছে ফোর কে ডিসপ্লে। যার ফলে মিডিয়া নির্ভর যেকোনো কাজে যেমন ভিডিও গ্রহন বা ভিডিও এডিটিং সহ সব কাজে এটি অন্য যেকোনো ফোন থেকে আরো ভালো সার্ভিস আপনাকে দিবে।

২। সনি এক্সপেরিয়া এক্সজেড টু প্রিমিয়াম

ওজনে খানিক ভারি হবার কারণে গত বছরের সেরা ফোন যাচাইয়ে অনেকটা পিছিয়ে আট নাম্বারে জায়গা পেয়েছিল সনি এক্সপেরিয়া এক্সজেড টু প্রিমিয়াম। প্রায় ২৩৬ গ্রাম ভরের এই ফোনে সনি প্রথমবারের মত ব্যবহার করেছিল ফোর কে ডিসপ্লে। এবং সেই পরীক্ষায়  বেশ ভালোভাবেই পাশ করে গিয়েছিল তারা। ৫.৮ ইঞ্চির স্ক্রিনের এই ফোনে সিপিউ হিসেবে ছিল স্ন্যাপড্রাগন এইটফরটিফাইভ। স্টোরেজ ক্ষমতা এক্সজেডথ্রি এর মতই ৬৪ জিবি হলেও এক্সজেডটু প্রিমিয়ামে র‍্যাম ছিল ৬ জিবি।

সনির আলোচিত এক্সপেরিয়া এক্সজেডটু প্রিমিয়াম; Image source: the verge

ক্যামেরা নিয়ে বেশ দুর্নাম কামিয়েছিল এক্সজেডথ্রি। তবে তার আগেই জুলাইতে আসা এক্সজেডটু প্রিমিয়াম ক্যামেরার দিক থেকে গ্রাহকদের পূর্ণ সন্তুষ্টি দিতে সক্ষম ছিল। পুরো ফোনে মোট তিনটি ক্যামেরা সংযোজন করে সনি। দুই রেয়ার ক্যামেরায় ক্ষমতা ছিল মোট ১৯ মেগাপিক্সেল এবং ১২ মেগাপিক্সেল। সেই সাথে ফ্রন্ট ক্যামেরা ছিল ১৩ মেগাপিক্সেল। দুর্দান্ত সেলফির সাথে যা নিশ্চিত করে নিখুঁত ছবি এবং ভিডিও। তবে ওজনের পাশাপাশি বছর শেষে এর ফিঙ্গারপ্রিন্ট সিস্টেম এর গায়ে নেতিবাচক মন্তব্য জুড়তে সহায়ক ছিল।

৩। সনি এক্সপেরিয়া এক্সজেড টু

এক্সজেড টু প্রিমিয়ামের ছোটভাই বলা চলে এই ফোনকে। এপ্রিলে মার্কিন বাজারে উন্মুক্ত করা এই ফোনের মাধ্যমেই মূলত সনি নিজেদের স্মার্টফোনের বাজারে নতুন এক বার্তা দেয়ার প্রথম প্রচেষ্টা চালায় এবং এ লক্ষ্যে তারা বেশ সফলও হয়। ফ্রন্ট ক্যামেরার বাইরে আর কোন কিছু নিয়েই খুব বেশি প্রশ্ন আসেনি সনির এই প্রচেষ্টা নিয়ে। সেইবছরের পরের দুটি আলোচিত ফোনসেটের মত এক্সপেরিয়া এক্সজেড টুতেও সনি ব্যবহার করেছে সবশেষ এন্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেম এন্ড্রয়েড নাইন। ৫.৭ ইঞ্চির এই ফোনেও সিপিউ হিসেবে থাকছে স্ন্যাপড্রাগন ৮৪৫। ৬ জিবি র‍্যামের এই ফোনে ইন্টারনাল স্টোরেজ হিসেবে ছিল ৬৪ জিবি জায়গা।

বছরের মাঝামাঝি বাজারে আসা সনি এক্সজেডটু ; Image source: androidpit

তবে এই ফোনের ক্ষেত্রে মান কমেছে এর ফ্রন্ট ক্যামেরা এবং ব্যাটারিতে। মাত্র ৫ মেগাপিক্সেল ফ্রন্ট ক্যামেরা এবং ৩১৮০ মাইক্রো অ্যাম্পিয়ার ব্যাটারি দিয়ে গ্রাহকের মনে খানিক আক্ষেপের সুরই তুলে দিয়েছিল এক্সপেরিয়া এক্সজেড টু। যদিও এর রেয়ার ক্যামেরায় অসাধারণ স্লো মোশন ভিডিও, ফোর কে ক্যামেরা এবং ফোর কে এইচডিআর ভিডিও রেকর্ডিং আপনাকে দারুণ কিছু অভিজ্ঞতার মুখোমুখি দাঁড় করাবে। এছাড়া দামের প্রশ্নেও ভালোভাবেই উতরে গিয়েছে সনির এক্সপেরিয়া এক্সজেডটু। 

৪। সনি এক্সপেরিয়া এক্সজেড টু কমপ্যাক্ট

আপনার যদি বড় স্ক্রিনের ফোনের প্রতি বিরক্তি থাকে তবে আপনার জন্য সনির এক্সজেড টু কমপ্যাক্ট বেশ ভালো একটি অপশন হতে যাচ্ছে। প্রতি বছর যেখানে স্মার্টফোনের দৈর্ঘ্য যেখানে বাড়ছে সেখানে এক্সজেড টু কমপ্যাক্ট এর স্ক্রিন ছিল মাত্র ৫ ইঞ্চি। যদিও ৫ ইঞ্চির এই ফোনেই সনি তার সমস্ত অভিজ্ঞতা এবং নিজস্বতা ঢেলে দিতে চেয়েছে। বিগত ২০১৮ সালে সনির স্মার্টফোনের ধারাবাহিকতার ভালো একটা ধারণা পাওয়া যায় এই ফোনের মাধ্যমে। এপ্রিলেই এক্সজেড টু এর সাথে একত্রে বাজারে আসে এক্সজেড টু কমপ্যাক্ট। স্ন্যাপড্রাগন ৮৪৫ সিপিউ, ৪ জিবি র‍্যাম, ৬৪ জিবি স্টোরেজ ক্ষমতা সহ বেশ অনেক ফিচারেই এক্সজেড টু এর সাথে এর মিল পাবেন আপনি। নিজের টুইনের সাথে বাজারে ভালোই টেক্কা দিয়েছিল এক্সজেড টু কমপ্যাক্ট। তবে ব্যাটারি সহ বেশ কিছু ফিচারের জন্যই চার নাম্বারে ঠাঁই পেয়েছে এই ফোন।

ছোট স্ক্রিনে বাজিমাৎ করা এক্সপেরিয়া এক্সজেডটু কমপ্যাক্ট; Image source: NDTV gadgets

দুই ফোনের মূল ব্যবধান ফোনের সাইজ, এন্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেম এবং ব্যাটারিতে। ৫ ইঞ্চির এই ফোনে ব্যাটারি ২৮৭০ মাইক্রো অ্যাম্পিয়ার। এছাড়া অপারেটিং সিস্টেম গুণেও খানিক পিছিয়ে যায় এক্সজেড টু কমপ্যাক্ট। সনি বাদ-বাকি ফোনে অপারেটিং সিস্টেম নাইন ব্যবহার করলেও এই ফোনে সেটি ছিল অপারেটিং সিস্টেম এইট।

৫। সনি এক্সপেরিয়া এক্সএ টু আল্ট্রা

কম বাজেটেই আপনার বড় স্ক্রিনের স্মার্টফোন প্রয়োজন। ব্র্যান্ড নিয়েও আছেন খানিক দ্বিধায়। তাহলে আপনার জন্য ভালো সমাধান হতে পারে সনির এক্সপেরিয়া এক্সএ টু আল্ট্রা। বেশ দারুণ কিছু ফিচার সম্বলিত এই ফোন মার্কিন বাজারে ছাড়া হয় গত বছরের একেবারে শুরুর দিকে। কিছু ক্ষেত্রে এক্সজেড টু কে টেক্কা দিলেও বছর শেষে রেটিং এর দিক থেকে পিছিয়ে থাকবে এক্সএ টু আল্ট্রা।

বিগত বছরের সনির প্রথম ফোন এক্সএ টু আল্ট্রা; Image source: cgtrader.com

আর এই পিছিয়ে থাকার জন্য মূলত বলা চলে দায় এই ফোনের ইন্টারনাল ফিচারের। বেশ কিছু ফিচারেই আধুনিকতা বা সবশেষ সংযোজন আনতে পারেনি সনি। এক্সএ টু আল্ট্রা মুলত স্মার্টফোন বাজারে সনির সত্যিকার প্রতিনিধি বলা চলে। ঠিক যেসব কারণে অপ্পো কিংবা রেডমি থেকে সনি বেশ খানিকটা পিছিয়ে যাচ্ছে তার সবকিছুই এই ফোনের বেলায় আপনার নজরে আসবে।

সনি কোম্পানির লোগো; Image source: itaniumsolutions.org

এক্সএটু আল্ট্রায় সনি ব্যবহার করেছে অপারেটিং সিস্টেম এইট। ফোনের স্টোরেজ ক্ষমতা এবং সিপিইউ দুইই ছিল কম। ৩২ জিবি ইন্টারনাল স্টোরেজের এই ফোনে র‍্যাম ছিল ৪ জিবি। আর ফোনে সিপিউ হিসেবে থাকছে স্ন্যাপড্রাগন ৬৩০। মূলত সিপিউ ক্ষমতার কারণেই এই ফোন চলে এসেছে ৫ নাম্বারে। যদিও ব্যাটারির কল্যানে এক্সজেড টু কে দারুণ জবাব দিয়েছে এক্সএ টু আল্ট্রা। ৬ ইঞ্চি ডিসপ্লের এই ফোনে ব্যাটারি ৩৫৮০ মাইক্রো অ্যাম্পিয়ার। আর ক্যামেরার দিক থেকেও মাঝারি মানেই সন্তুষ্ট ছিল সনির কর্তা ব্যক্তিরা। এক্সএ টু আল্ট্রায় রেয়ার ক্যামেরা ছিল ২৩ মেগাপিক্সেল। আর দারুন সেলফি উপযোগী দুটি ফ্রন্ট ক্যামেরা ছিল যথাক্রমে ১৬ এবং ৮ মেগাপিক্সেল।

Feature Image – itaniumsolutions.org

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.