ক্যাপ্টেন মার্ভেলঃ ক্যারল ড্যানভার্সের অভিযান

Source: imdb.com

সিনেমা ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ফ্র্যাঞ্চাইজি মার্ভেল সিনেম্যাটিক ইউনিভার্সের একুশতম ছবি ক্যাপ্টেন মার্ভেল। ডাকসাইটে সংস্থাটির জন্যে এটিই হতে যাচ্ছে প্রথম নারীকেন্দ্রিক সুপারহিরো চলচ্চিত্র। আর তাই মার্চ মাসের ৮ তারিখে, আন্তর্জাতিক নারী দিবসেই মুক্তি পেতে যাচ্ছে চলচ্চিত্রটি। আর এতে নাম ভূমিকায় অভিনয় করেছেন অস্কার বিজয়ী অভিনেত্রী ব্রি লারসেন।

ক্যাপ্টেন মার্ভেল চলচ্চিত্রটির পোস্টার; Source: IMDb

১৯৯৫ সালের প্রেক্ষাপটের ছবিটিতে আরো অভিনয় করেছেন নিক ফিউরি খ্যাত স্যামুয়েল এল. জ্যাকসন, বেন মেল্ডেনসন, ডেস্মন হন্সু, লী পেস এবং জুড ল। স্ক্রাল এবং ক্রী নামের দুটি মহাজাগতিক জাতির যুদ্ধ নিয়ে তৈরি ছবিটি পরিচালনা করেছেন আনা বোডেন এবং রায়ান ফ্লেক। ‘৯০ এর দশকের পটভূমিকার এই চলচ্চিত্রে দেখা যাবে ক্যারল ড্যানভার্সের ক্যাপ্টেন মার্ভেল হয়ে উঠার গল্প।

মহাজাগতিক সেনাবাহিনীর সঙ্গে ক্যারল ড্যানভার্স; Source: We Got This Covered

ক্যাপ্টেন মার্ভেল চলচ্চিত্রটির প্রধান চরিত্র বিমান বাহিনীর পাইলট ক্যারল ড্যানভার্স, যে কিনা পরে ক্যাপ্টেন মার্ভেলে রুপান্তরিত হয়। এবার তবে জানা যাক কমিক্সের পাতায় ক্যারল ড্যানভার্সের ইতিহাস

ছোটবেলা থেকেই মহাকাশচারী হয়ে মহাশূন্যে পাড়ি দেবার স্বপ্ন দেখতেন ক্যারল ড্যানভার্স। এরপর তার সাথে যা হয়েছে, তা ছিল তার স্বপ্নের চেয়েও বেশি কিছু। যদিও ক্যাপ্টেন মার্ভেল রুপে আবির্ভূত হবার আগে, আমেরিকার বোস্টন শহরে জন্মানো মার্কিন বিমান বাহিনীর এই পাইলটের জীবনে ঘটে যায় বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর ঘটনা।

ক্যারল ড্যানভার্স চরিত্রে ব্রি লারসেন; Source: pastemagazine.com

ক্যাপ্টেন মার্ভেল হিসেবে মিস ড্যানভার্স যে সব বিস্ময়কর ক্ষমতা লাভ করেন তার মধ্যে অন্যতম হল অতিমানবিক শক্তি, ইস্পাতদৃঢ় মনোবল, অসাধারণ তৎপরতা আর প্রচন্ড ক্ষিপ্র প্রতিক্রিয়া। একই সঙ্গে লাভ করেন উড়তে পারার ক্ষমতা। এতেই শেষ নয়। হাত থেকে ছুঁড়ে দিতে পারেন বিস্ফোরক ”ফোটন ব্লাস্ট”।

কমিক বুকের পাতায় ক্যারল ড্যানভার্সের অভিষেক ঘটে ১৯৬৮ সালে মার্ভেল সুপারহিরোস নাম্বার ১৩ তে। কিন্তু শুরুতে তিনি কোন সুপারহিরো ছিলেন। বরং তিনি ছিলেন কমিক্সটির একটি গৌণ চরিত্র। মূলত কাহিনীর নায়ক “মার-ভেল” এর প্রেমিকা হিসেবেই দেখা যায় তাকে। প্রথম দিকে একজন প্রথাগত নায়িকার চরিত্রে থাকলেও, পরের দিকে ঘটনাচক্রে নিজেই হয়ে যান “ক্যাপ্টেন মার্ভেল”।

মার্ভেল সুপারহিরোস নাম্বার ১৩; Source: Marvel Database – Fandom

কমিক্সের পাতায় ক্যারল ড্যানভার্সকে হরেক রকম ভূমিকায় দেখা যায়। কখনো দেখা যায় মার্কিন বিমানবাহিনীর কোন পরীক্ষামূলক বিমানের পাইলট তিনি। আবার কখনো ছেলেদের সাথে পালা দিয়ে গুপ্তচরের দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। একসময় নাসাতে নিরাপত্তা কর্মকর্তা হিসেবে চাকরি করেন তিনি। আর সেখানেই তার পরিচয় হয় সুপারহিরো মার-ভেলের সাথে।

মার-ভেল; Souce: thegeektwins

১৯৬৯ সালে প্রকাশিত “ক্যাপ্টেন মার্ভেল নাম্বার ১৮” তে দেখা যায় ক্রী জাতিভুক্ত খলচরিত্র ইয়ন রগ, মার-ভেলকে জব্দ করতে তার প্রেমিকা ক্যারল ড্যানভার্সকে অপহরণ করে। মার-ভেলের সঙ্গে লড়াই করতে বেআইনি “সাইকি ম্যাগনেট্রন” নামের এক প্রযুক্তি ব্যবহার করে রগ তৈরি করে “দ্য ম্যানড্রয়েড” নামের এক রোবট জাতীয় সত্ত্বাকে। এই লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত মার-ভেল বিজয়ী হলেও, ঘটনাচক্রে সাইকি ম্যাগনেট্রনটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে বিস্ফোরিত হয়। এই বিস্ফোরণে আহত হন ক্যারল। যদিও সেরে উঠতে বেশি সময় নেন নি তিনি। যদিও পরবর্তী আট বছর পর্যন্ত সাইকি ম্যাগনেট্রনের প্রভাব তার ভেতর সুপ্ত অবস্থায় রয়ে যায়।

মিস মার্ভেল হিসেবে কমিক্সের পাতায় ক্যারল ড্যানভার্সের আগমণ ঘটে ১৯৭৭ সালে। ক্যারল ড্যানভার্স নিজে বুঝতে না পারলেও তিনি আর মিস মার্ভেল, দুজন আসলে একই ব্যাক্তি ছিলেন। সাইকি ম্যাগনেট্রনের প্রভাবে প্রায়ই জ্ঞান হারাতেন ক্যারল। আর এই জ্ঞান হারানো অবস্থায় তার ভিতর জেগে উঠতো মিস মার্ভেলের অতিমানবিক সত্ত্বা। যদিও বুদ্ধিমতী পরে ঠিকই ধরতে পেরেছিলেন নিজের দ্বৈত সত্ত্বার কথা। এসময় নাসার নিরাপত্তা কর্মকর্তার চাকরি ছেড়ে দিয়ে সাংবাদিকতায় নাম লেখান ক্যারল।

ক্যারল ড্যানভার্স মিস মার্ভেলে রুপান্তরিত হচ্ছেন; Source: thegeektwins

এরপর বহু বছর কমিক্সের পাতায় মিস মার্ভেলকে নিয়ে এক রকম তামাশাই চলে। অনেক সম্ভাবনাময় চরিত্র হবার পরেও নানান ধরনের হাস্যকর এবং দুঃখজনক পরিস্থিতির শিকার হতে হয় তাকে। একাধিকবার সুপারহিরো দল অ্যাভেঞ্জার্সে যোগ দেন, আবার দল ত্যাগ করেন।

অবশেষে এল ২০১২ সাল। নিজেকে নতুন করে খুঁজে পেলেন ক্যারল ড্যানভার্স। পরিচিতি পান সেই চরিত্রটিতে, যার সাথে তার পরিচয় সেই ১৯৬৮ সাল থেকে। এ সময়ে আবার তার দেখা হয় মার-ভেলের সাথে। মার-ভেলকে ক্রী জাতি পুনর্জন্ম দিয়েছিল। এর কারন, ফিনিক্স ফোর্স নামের এক মহাজাগতিক শক্তির সঙ্গে লড়াই করতে মার-ভেলকে প্রয়োজন ছিল ক্রীদের। সেই ফিনিক্স ফোর্সের সঙ্গে লড়াই করে যখন আত্মত্যাগ করেন মার-ভেল, তার স্মৃতি রক্ষার্থে ক্যারল নিজের নতুন নাম রাখেন ক্যাপ্টেন মার্ভেল।

নতুন রুপে ক্যাপ্টেন মার্ভেল; Source: Marvel.com

এক সময়কার হাস্যরসের পাত্র ক্যারল ড্যানভার্সের ক্যাপ্টেন মার্ভেল, ধীরে ধীরে মার্ভেল কমিক্সের অন্যতম গুরত্বপূর্ণ চরিত্রে পরিণত হন। এজন্যে কমিক্সের পাতায় প্রায়ই হেলাফেলার চরিত্র হলেও, মার্ভেল সিনেম্যাটিক ইউনিভার্সের জগতে তাকে দেখা হচ্ছে অন্যতম কালো ঘোড়া হিসেবে। অনেকের মতেই উন্মাদ টাইটান থ্যানোসকে পরাজিত করতে প্রধান ভূমিকা পালন করবেন ক্যাপ্টেন মার্ভেল। কেননা অ্যাভেঞ্জার্সঃ এন্ড গেম ছবিটি মুক্তি পাবার মাত্র মাস খানেক আগেই মুক্তি পাবে ক্যাপ্টেন মার্ভেল।

২০০৪ সালের হ্যালি বেরি অভিনীত ক্যাট-ওম্যান কিংবা ২০০৫ সালের জেনিফার গার্নার অভিনীত ইলেক্ট্রার মত নারী কেন্দ্রিক সুপারহিরো মুভি একসময় হলিউডে মুখ থুবড়ে পড়লেও নতুন দশকের চিত্র অনেকটাই ভিন্ন। মাত্র বছর খানেক আগে মুক্তি পাওয়া ওয়ান্ডার-ওম্যান প্রশংসিত হয়েছিল সকলের কাছে। প্যাটি জেনকিন্স পরিচালিত গ্যাল গ্যাডট অভিনীত চলচ্চিত্রটি ঝড় তুলেছিল বক্স অফিসেও। ব্রি লারসেনের ক্যাপ্টেন মার্ভেলও সেই পদাঙ্ক অনুসরণ করতে পারে কিনা তা জানার জন্যে অপেক্ষা করতে হবে মার্চ মাসের ৮ তারিখ পর্যন্ত।

Feature Image: Polygon

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.