লিপস্টিক লাগানোর জন্য যত খুঁটিনাটি যত্ন

নারীর সৌন্দর্যে গহনার নাম উঠে আসলেও ঠোঁট রাঙ্গানোর আবেদন চলে আসছে বহু আগে থেকে। এই আবেদন কখনই ম্লান হয়নি। নারীর হাসি নিয়ে রচিত হলো কত কবিতা, গল্প এবং গান। সেই হাসিকে আরো সুন্দর ও আকর্ষণীয় করে তুলতে নারীরা ঠোঁট রাঙিয়ে আসছেন যুগে যুগে। কখনও রঙ্গেঢঙে পরিবর্তন আসলেও লিপস্টিকের জায়গা আজও দখল করতে পারেনি অন্য কোনো প্রসাধনী। সেই লিপস্টিক লাগানোর সময় সাধারণ কিছু ভুলের জন্যই সুন্দর সাজ নষ্ট হয়ে যেতে পারে। কখনো বা ভীষণ সুন্দর হাসিও হয়ে উঠতে পারে ভয়ংকর। কাজেই লিপস্টিক লাগানোর সময় যে বিষয়গুলোতে নজর রাখতে হবে আজ সেগুলোই আলোচনা করা হবে।

১. মরা চামড়া তুলে ফেলুন

লিপস্টিক লাগানোর আগে হয়তো সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজটিই আপনি করছেন না। লিপস্টিক লাগানোর ব্যাপারে অতি সাবধানী এবং রং বাছাইয়ের ব্যাপারেও খুব সচেতন এমন নারীরাও এই অংশটি প্রায়ই এড়িয়ে যান। যার কারণে ঠোঁটে সুন্দর করে লিপস্টিক বসে না এবং লিপস্টিকের রং যতই সুন্দর হোক না কেন সেটা তার নিজস্বতা হারিয়ে ফেলে। কাজটি হলো ঠোঁটের উপর থেকে মরা চামড়া তুলে ফেলা।

এটি খুব কঠিন অথবা সময় সাপেক্ষ কাজ নয়। কিন্তু তবুও এটিই নজর এড়িয়ে যায় বারবার। যার ফলে খুব সুন্দর ঠোঁটটিও ভীষণ প্রাণহীন মনে হয়। স্বাভাবিক হাসির মাঝেও ঠোঁটের কষ্ট ফুটে ওঠে। এর জন্য আপনি লিপ এক্সফলিয়েটর কিনে নিতে পারেন।এটি ঠোঁটে লাগানোর কিছুক্ষণ পর আলতো করে ঠোঁট ঘষে মরা চামড়া তুলে ফেলতে পারেন। অথবা বাড়িতেই বানিয়ে নিতে পারেন প্রয়োজনীয় মিশ্রণটি

যা যা লাগবে

  • এক চামচ মধু
  • দুই চামচ চিনি
  • এক চিমটি লবণ

সব কয়টি উপকরণ একসঙ্গে মিশিয়ে নিন। তারপর আঙ্গুলের সাহায্যে ঠোঁটে লাগিয়ে নিন। মিনিট পাঁচেক পর ঠোঁটে টান অনুভব করলে একটি ভেজা তোয়ালে ঠোঁটে ঘষে মিশ্রণটি উঠিয়ে ফেলুন। এর সাথে মরা চামড়াও উঠে আসবে। মাত্র পাঁচ মিনিটেই পেয়ে যাবেন নরম, সুন্দর এবং মসৃণ ঠোঁট।

ঘরে বসেই তৈরি করুন লিপ এক্সফলিয়েটর; Source: Pinterest

২. প্রাইমার লাগাতেই হয়

ঠোঁটে মরা চামড়া তুলে ফেলার পর যথেষ্ট আর্দ্রতার প্রয়োজন হয়। সেই আর্দ্রতা যদি আপনি ঠোঁটকে না দেন তাহলে সে কী করে সুস্থ থাকবে? তাই ঠোঁটে প্রাইমার লাগাতে ভুলবেন না। এটি ঠোঁটকে আর্দ্র করার পাশাপাশি সরাসরি ঠোঁটের সাথে লিপস্টিকের সংস্পর্শ ঘটতে দেয় না। যার ফলে লিপস্টিক লাগানো বা তোলার সময়ে ঠোঁটের ক্ষতি কম হয়।

টু ফেইসড লিপ প্রাইমার; Source: TooFaced.com

৩. লিপস্টিকের সঙ্গে লিপলাইনার ব্যবহার

লাইন ছাড়া যেমন গাড়ি চলে না তেমনি লাইনার ছাড়া লিপস্টিক ও ছড়িয়ে পড়ে জলদিই। প্রাইমার লাগানোর পর প্রথম কাজটিই হচ্ছে লিপস্টিকের শেডের সঙ্গে মানানসই লিপ লাইনার খুঁজে লাগিয়ে নেয়া। এতে করে আপনি একটি বাড়তি গাইডলাইন পাবেন, যাতে করে লিপস্টিক ছড়িয়ে পড়বে না এবং ঠোঁটে রঙটিও ফুটে উঠবে দারুণ ভাবে। যদি লিপ লাইনার এর রং বাছাই করতে অসুবিধা হয় সেক্ষেত্রে আপনি বেছে নিতে পারেন নিউট্রাল কালার লিপ লাইনার। এর কোনো রং নেই কিন্তু লিপস্টিক গার্ড হিসেবে ঠিকই চমৎকার কাজ করে।

লিপ লাইনার; Source: Sarah Loves Makeup

৪. সঠিক শেড বাছাই  করা

প্রশ্ন আসতে পারে, লিপস্টিকের সঠিক রঙ আবার কী? সঠিক রঙ হলো আপনার গায়ের রঙ, পোশাক এবং স্থানের উপর ভিত্তি করে রঙ বাছাই করা। আপনি যেমন পার্টিতে গাঢ় রঙের লিপস্টিক অনায়াসে বাছাই করতে পারেন কিন্তু কোনো ফরমাল মিটিং এ একই লিপস্টিক লাগিয়ে গেলে আপনাকে সেখানে বড়ই বেমানান লাগবে। তেমনি ভাবে খুব ভারি শাড়ি, চমৎকার গয়না এবং হালকা চোখের সাজের সাথে যদি আপনি হালকা রঙের লিপস্টিক লাগান তাহলে খুব মলিন লাগবে। তাই লিপস্টিকের রং বাছাইয়ের ব্যাপারে সচেতনতাই আপনার ঠোঁটের সৌন্দর্য বাড়িয়ে দেবে বহুগুণে।

বিভিন্ন শেডের লিপস্টিক; Source: StyleCraze

৫. ঠোঁটের আকার বুঝে ঠোঁট রাঙান

গাঢ় রঙের লিপস্টিকে ঠোঁট তুলনামূলক একটু চিকন দেখায় এবং হালকা রঙের ক্ষেত্রে ঠিক তার উলটা। তাই লিপস্টিক লাগানোর সময় এই বিষয়গুলো লক্ষ্য রাখতে হবে। কিন্তু যার ঠোঁট চিকন সে কি তাহলে গাঢ় লিপস্টিক লাগাতে পারবে না? অবশ্যই পারবে। গাঢ় লিপস্টিক লাগানোর সময় একটু বাইরে থেকে লাইনার আঁকলে এবং ঠোঁটের ঠিক মাঝখানে এক শেড উজ্জ্বল রঙের লিপস্টিক লাগালে ঠোঁট মোটা দেখায়। আবার কারো ঠোঁট মোটা হলে, হালকা রঙ ব্যবহারের ক্ষেত্রে একটু চিকন করে এক শেড গাঢ় লাইনার টানলে ঠোঁট সুন্দর দেখাবে।

৬. পাউডার দিয়ে শুধু মেকআপই নয়, লিপস্টিকও সেট করুন

আমরা মেকআপ শেষে পাউডার দিয়ে আমাদের মেকআপ সেট করি যেন ঘেমে বা পানি লেগে মেকআপ ছড়িয়ে না যায়। একই কাজ লিপস্টিকের জন্যেও কেন নয়? লিপস্টিকের জন্যেও ব্যবহার করুন পাউডার। আলাদা পাউদার না থাকলে বেবি পাউডার ব্যবহার করতে পারেন।

৭. খুব বেশি গ্লস, একদম না

অতিরিক্ত লিপগ্লস লাগালে সেই লিপস্টিক ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি। তাছাড়া এরকম গলে পড়া লিপস্টিক দেখতে ভালো ও দেখায় না। তাই গ্লস লাগান পরিমিত পরিমাণে। একবার গ্লসে ব্রাশ চুবিয়ে এক পাশের গ্লস লিপগ্লস জারের সাথে লাগিয়ে টেনে উঠিয়ে নিন। এতে আপনি একবার লাগানোর মতো সঠিক পরিমাণে লিপগ্লস পাবেন।

লিপগ্লসের সৌন্দর্য বাড়ে পরিমিত ব্যবহারে; Source: Clarine

৮. সাথে লিপস্টিক রাখুন

সারাদিনের জন্য কোনো অনুষ্ঠান, লম্বা সময় ধরে ক্লাস বা অফিসে যাবার জন্য সাথে করে লিপস্টিক নিয়ে যেতে পারেন। খাবার সময়, মুখে পানি দিতে গিয়ে বা কোনো কারণে লিপস্টিক ছড়িয়ে গেলেও পুরো লিপস্টিক মুছে নতুন করে লাগিয়ে নিতে পারবেন।

লিপস্টিক নারীর সাজে এক অপরিহার্য প্রসাধনী। তাই রঙ যাই হোক, আপনার সৌন্দর্য থাকুক অমলিন।

ফিচার ইমেজ surface85

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.