যেভাবে ঘাড়ের কালো দাগ দূর করবেন

মুখের সৌন্দর্য বৃদ্ধি, উজ্জ্বলতা বৃদ্ধির জন্য অধিকাংশ মানুষ অনেক দৌড়-ঝাঁপ করলেও ঘাড়ের সৌন্দর্যের ব্যাপারে তারা উদাসীন থাকে। ক্রিম দেয়া, লোশন মাখার সময় ঘাড়ের কথা অনেকেই ভুলে যায়। যার ফলে মুখের তুলনায় ঘাড় অনেক কালো রয়ে যায়। মুখের সাথে ঘাড়ের ত্বকের অনেক পার্থক্য থাকলে দেখতে খুব বিশ্রী লাগে।

তাছাড়া পোশাক পরিধান করলে কিংবা সাজগোজ করলে পুরোপুরি সুন্দর দেখায় না। দিনের পর দিন ঘাড় অবহেলা ও উদাসীনতার মধ্যে থেকে থেকে একসময় ঝুলে পড়ে, অতিরিক্ত কালো হয়ে যায়, বয়সের ছাপ পড়ে। তাই মুখের ত্বকের মতো ঘাড়ের যত্ন নেয়া প্রয়োজন। জেনে নিন ঘাড়ের কালো দাগ যেভাবে দূর করবেন তা সম্পর্কে।

ঘৃতকুমারীর জেল

ঘাড়ের কালো দাগ দূর করতে ঘৃতকুমারীর জেল দারুণ উপকার করে। ঘৃতকুমারীর জেল সৌন্দর্য চর্চায় বহুলভাবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে অনেক আগে থেকে। এটি ব্যবহার করার জন্য অনেক সময় কিংবা অনেক অর্থ ব্যয় করতে হবে না।

ঘৃতকুমারী; ছবিসূত্র: stylecraze.com

বাজার থেকে ঘৃতকুমারী কিনে তা থেকে জেল ছাড়িয়ে পুরো ঘাড়ে কয়েক মিনিট স্ক্রাবের মতো ম্যাসাজ করলে উপকার পাওয়া যায়। ম্যাসাজ করার পর দশ মিনিট অপেক্ষা করে পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। ভালো ফলাফলের জন্য প্রতিদিন ব্যবহার করুন।

এটি যেভাবে কাজ করে

ঘৃতকুমারী ত্বকের যত্নে অনেক আগে থেকে ব্যবহার হয়ে আসছে। ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি, কালো দাগ দূর করতে ঘৃতকুমারীর জুড়ি নেই। তাছাড়া শুষ্ক ত্বককে মসৃণ ও সতেজ করতে সাহায্য করে ঘৃতকুমারী। এতে ভিটামিন, মিনারেল, ফ্যাটি এসিড রয়েছে বলে এর ব্যবহারে ত্বক পুষ্টি পায় এবং হাইড্রেট থাকে।

আমন্ড তেল

আমন্ড তেলের ব্যবহারে ঘাড়ের কালো ত্বক উজ্জ্বল হবে। জানতে চান কীভাবে ঘাড়ের কালো ত্বক উজ্জ্বল হবে? প্রথমে কয়েক ফোঁটা আমন্ড তেল কিংবা নারকেল তেলের সাথে এক দুই ফোঁটা টি ট্রি তেল মিশিয়ে নিন। তারপর ভালো করে ঘাড় পরিষ্কার করে মুছে নিন।

ামন্ড তেল; ছবিসূত্র: stylecraze.com

তারপর আমন্ড তেল কিংবা নারকেল তেল দিয়ে ঘাড় ম্যাসাজ করুন। এভাবে দেহ পনেরো মিনিট ম্যাসাজ করতে থাকুন। ম্যাসাজ করার পর কুসুম গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। উপকার পেতে চাইলে প্রতিদিন ব্যবহার করুন।

এটি যেভাবে কাজ করে

আমন্ড তেলে ভিটামিন ই রয়েছে। ভিটামিন ই ত্বকের সুরক্ষা করে এবং ত্বক মসৃণ রাখে। এটি স্কিন টোন ভালো রাখে। টি ট্রি তেল রক্ত সঞ্চালনে ভূমিকা পালন করে এবং ত্বক সুস্থ রাখে।

বেকিং সোডা

রূপচর্চায় বেকিং সোডা ব্যবহৃত হয়। বেকিং সোডো ঘাড়ের কালো দাগ দূর করতে সহায়তা করে। দুই-তিন টেবিল চামচ বেকিং সোডার সাথে পানি মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করুন। খেয়াল করুন, পেস্ট যেন দলা আকারের না হয়। পেস্ট প্রস্তুত হয়ে গেলে ঘাড়ে লাগান এবং শুকানোর পূর্ব পর্যন্ত অপেক্ষা করুন।

বেকিং সোডা; ছবিসূত্র: stylecraze.com

শুকিয়ে গেলে ভেজা হাতে ঘাড়ে স্ক্রাব করুন এবং পরিষ্কার পানি দিয়ে ঘাড় ধুয়ে ফেলুন। তারপর তোয়ালে দিয়ে মুছে ময়েশ্চারাইজার লোশন লাগিয়ে নিন। ভালো ফলাফলের জন্য প্রতিদিন ব্যবহার করুন।

এটি যেভাবে কাজ করে

এই প্যাকটি খুব সহজে নিষ্প্রাণ ও মৃত কোষ তুলে দেয়। বেকিং সোডা রক্ত সঞ্চালন বাড়াতে সহায়তা করে এবং ত্বকে পুষ্টি যোগায়। ঘাড়ের কালো দাগ দূর করতে চাইলে অবশ্যই এটি ব্যবহার করবেন।

অলিভ অয়েল এবং লেবুর রস

অলিভ অয়েল এবং লেবু ত্বকের নানা উপকার করে। মুখ, হাত, পা এর সৌন্দর্য চর্চায় এই দুটি উপাদান ব্যবহৃত হয়। অলিভ অয়েল ও লেবুর রস ঘাড়ের কালো দাগ দূর করতে ব্যবহৃত হয়। একই পরিমাণের লেবুর রস ও অলিভ অয়েল একসাথে মিশিয়ে নিন।

লিভ অয়েল; ছবিসূত্র: stylecraze.com

রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে ঘাড়ে ব্যবহার করুন। উজ্জ্বল ত্বক পাওয়ার জন্য টানা এক মাস রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে ব্যবহার করুন।

এটি যেভাবে কাজ করে

লেবুর রসে প্রাকৃতিক ব্লিচিং রয়েছে। এটি ত্বকের নানা সমস্যা দূর করে এবং ত্বক ভালো রাখে। অলিভ অয়েল ত্বক সুস্থ রাখার পাশাপাশি ত্বক মসৃণ ও সতেজ রাখে।

আলুর রস

শতকরা পঁচানব্বই ভাগ মানুষের প্রিয় সবজি আলু। প্রায় সব তরকারিতে আলু দেয়া হয়। আলু দিয়ে রূপচর্চা করা যায়। ঘাড়ের কালো দাগ দূর করা যায় আলুর রস ব্যবহার করে।

আলুর রস; ছবিসূত্র: stylecraze.com

একটি ছোট আলুকে কেটে তা থেকে রস বের করে নিন। তারপর এটি ঘাড়ে ব্যবহার করুন এবং দশ পনেরো মিনিট অপেক্ষা করে কুসুম গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। প্রতিদিন একবার কিংবা দুইবার ব্যবহার করতে পারেন।

এটি যেভাবে কাজ করে

আলুতে থাকা প্রাকৃতিক ব্লিচিং উপাদান ঘাড়ের ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়ায়। ঘাড়ের কালো দাগ, ক্ষত ইত্যাদি থেকে মুক্তি লাভ করা যায় আলুর রস ব্যবহারে। তাই কোনো খরচ ছাড়া ঘরোয়া উপাদান ব্যবহার করে ঘাড়ের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করুন।

ওটমিল স্ক্রাব

ঘাড়ের কালো দাগ দূর করতে ওটমিল স্ক্রাব দারুণ কাজ করে। ওটমিল স্ক্রাবের জন্য প্রয়োজন এক চতুর্থাংশ ওটস, এক টেবিল চামচ টমেটোর রস, গোলাপ জল অথবা অলিভ অয়েল। প্রথমে ওটসগুলো চূর্ণ করে পাউডারের মতো করে নিন। এর সাথে টমেটোর রস ও গোলাপ জল মিশিয়ে ঘন পেস্ট তৈরি করুন।

ওটস; ছবিসূত্র: stylecraze.com

এই পেস্ট ঘাড়ে লাগিয়ে বিশ মিনিট অপেক্ষা করুন। তারপর আঙুল দিয়ে ঘাড়ের মধ্যে স্ক্রাব করতে থাকুন কয়েক মিনিট। তারপর ঠাণ্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। দ্রুত ভালো ফলাফল পাওয়ার জন্য সপ্তাহে দুই তিনবার ব্যবহার করুন।

এটি যেভাবে কাজ করে

ওটস ত্বকের মৃতকোষ, অপরিপক্ক কোষ দূর করতে সহায়তা করে এবং ত্বক মসৃণ ও সুন্দর করতে ভূমিকা রাখে। ত্বক গভীরভাবে পরিষ্কার করার পাশাপাশি শুষ্কতা দূর করে ত্বক মসৃণ রাখে ওটস।

 

Featured Image: Life With Styles

 

 

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.