কপালের ব্রণ দূরীকরণের কার্যকরী কিছু উপায়

ব্রণ ত্বকের স্বাভাবিক সৌন্দর্য নষ্ট করে দেয়। আজকাল নারী ও পুরুষ উভয়ের মুখে ও কপালে ব্রণ ওঠে। কপালের গ্রন্থি ব্যাকটেরিয়া দ্বারা আক্রান্ত হলে কপালে ব্রণ হয়। বয়ঃসন্ধিকালে নারী ও পুরুষের কপালে ব্রণ বেশি লক্ষ্য করা যায়। ব্রণ ত্বকের সৌন্দর্য, উজ্জ্বলতা নষ্ট করে দেয় এবং ত্বক রুক্ষ করে তোলে। আবার ব্রণের দাগ স্থায়ীভাবে বসে গেলে বিপাকে পড়তে হয়।

ব্রণের কালো দাগ দূর করার উপায় সম্পর্কে পূর্বে একটি আর্টিকেল লিখেছি। তাছাড়া আগের নিবন্ধে কপালে ব্রণ হওয়ার কারণ সম্পর্কে আলোচনা করেছি। আজ আলোচনা করবো  কপালের ব্রণ দূরীকরণের কার্যকরী কিছু উপায় সম্পর্কে।

কপালের ব্রণ দূরীকরণে ডিমের ব্যবহার

কপালে ব্রণ হলে আর চিন্তা নয়। ঘরোয়া উপায়ে কোনো ঝামেলা ছাড়া ব্রণ দূর করা যাবে। একটি ডিম নিয়ে  ভাঙুন। ডিমের সাদা অংশ আঙুলে লাগিয়ে নিন। অবশ্যই তার আগে হাত ভালো করে পরিষ্কার করে নেবেন। তারপর সাদা অংশ ব্রণের উপরে লাগান। দশ মিনিট অপেক্ষা করে পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। দিনে এক বা দুইবার এটি ব্যবহার করুন।

Photo: stylecraze.com

ডিমের সাদা অংশ ব্রণ দূর করতে সহায়তা করে। এটি ব্রণকে শুষ্ক করে এবং নির্মূল করতে সহায়তা করে। এটি দ্রুত ত্বক সুস্থ করে কোষের পুননির্মাণ করে।

 ঘৃতকুমারীর জেল

ঘৃতকুমারী নানা উপকার করে থাকে। এর স্বাস্থ্যগত উপকারিতা অনেক। তাছাড়া এর জেল লাগিয়ে রূপচর্চা ও চুলের যত্ন নেয়া যায়। সৌন্দর্য ও রূপলাবণ্য ধরে রাখতে ঘৃতকুমারীর জেলের ভূমিকা অগ্রগণ্য। ত্বকের শুষ্কতা দূর করে ত্বক মসৃণ ও সতেজ করতে এটি সাহায্য করে। চুল ও মাথার ত্বকের যত্নে এর জেল ব্যবহৃত হয়।

Photo: Medical News Today

এটি কপালের ব্রণ দূর করে দারুণভাবে। আপনার বাসায় যদি ঘৃতকুমারী না থাকে, তাহলে বাজার থেকে কিনে আনুন। ঘৃতকুমারীর একটি পাতা নিয়ে তা থেকে পরিমাণমতো জেল বের করে নিন। এই জেল হাতে নিয়ে কপালের ব্রণে লাগান। রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে এই জেল লাগিয়ে ঘুমান ও সকালে উঠে ধুয়ে ফেলুন।

Photo: stylecraze.com

প্রতিরাতে ঘুমানোর আগে এটি নিয়মিত ব্যবহার করলে উপকার পাবেন। ঘৃতকুমারীতে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল উপাদান রয়েছে যার ফলে কপালের ব্রণ দূর হয়। এটি ত্বক পুরু ও টান টান করতে সহায়তা করে। পুনরায় ব্রণ হওয়া থেকে রক্ষা করে ঘৃতকুমারীর জেল।

 গ্রিন টি অর্থাৎ সবুজ চায়ের নির্যাস

গ্রিন টি অর্থাৎ সবুজ চায়ের স্বাস্থ্য উপকারিতা অনেক। সবুজ চা দেহের নানাবিধ উপকার করার পাশাপাশি হার্ট ভালো রাখতে, ক্যান্সার প্রতিরোধ করতে ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে সহায়তা করে। চুল ও ত্বকের সৌন্দর্য রক্ষায় সবুজ চা ভূমিকা রাখে। ব্রণ দূর করতে এর এক বা দুই ফোঁটা নির্যাস ব্যবহার করুন। প্রতিদিন দুইবার এটি ব্যবহার করতে পারেন।

Photo: stylecraze.com

গ্রিন টি অর্থাৎ সবুজ চা শুধু আভ্যন্তরীণ কাজ করে তা নয়, বাহ্যিকভাবেও কাজ করে। এতে রয়েছে অ্যান্টি ইনফ্লেমেটরি ও অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল উপাদান। এই উপাদানগুলো ব্রণ দূর করে এবং ত্বক সুস্থ রাখে। অতিরিক্ত ঘা, ত্বকের ক্ষত দূর করতেও এর জুড়ি নেই। তাছাড়া গ্রিন টি অর্থাৎ সবুজ চায়ে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে, যা ত্বক সুস্থ করে দ্রুতগতিতে।

কপালের ব্রণ দূরীকরণে গ্লাইকোলিক এসিড

কপালের ব্রণ দূর করতে গ্লাইকোলিক এসিড ব্যবহার করতে পারেন। এটি ব্যবহার করার আগে নির্দেশনা ও ব্যবহার পদ্ধতি দেখে নিবেন। কখনো কখনো দুইবার ব্যবহার করা লাগতে পারে।

গ্লাইকোলিক এসিড হলো এমন একটি আলফা হাইড্রোক্সি এসিড যা ত্বকের এক্সফোলিয়েট করতে সহায়তা করে। এক্সফোলিয়েটের মাধ্যমে ত্বকের মরা কোষ বা অপরিপক্ক কোষ দূর হয়ে যায়।

ব্রণ সমস্যা একটি বড় সমস্যা। সব ধরণের ত্বকে ব্রণ হয়ে থাকে। অতিরিক্ত শুষ্ক এবং অতিরিক্ত তৈলাক্ত ত্বকে ব্রণ বেশি হয়। উপরিউক্ত ঘরোয়া উপায়গুলো ব্যবহার করে মুখ ও কপালের যেকোনো ব্রণ থেকে সহজে মুক্তি পাবেন। এগুলো  যে শুধুমাত্র নারী ও কিশোরীরা অনুসরণ করবেন তা নয়। পুরুষ ও কিশোরেরাও অনুসরণ করতে পারেন।

Photo: Lifestylescans.com

অল্প ব্যয়ে, অল্প সময়ে সহজেই ব্রণ দূর করতে পারবেন। ব্রণ দূর করার জন্য আপনাকে ধৈর্য ধরতে হবে। কখনো একদিনে ব্রণ দূর হতে পারে। আবার কখনো কখনো চার পাঁচ দিন লাগতে পারে।

কপালের ব্রণ প্রতিরোধ করার কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ টিপস

  • সর্বদা ত্বক পরিষ্কার রাখুন।
  • ধুলোবালি ও ঘাম থেকে যথাসম্ভব দূরে থাকুন।
  • ত্বকে যেকোনো পণ্য ব্যবহার করবেন না।
  • সিটিএম রুটিন অনুসরণ করুন।
  • ত্বকে ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন।
  • টোনার ব্যবহার করুন।
  • ত্বকে এক্সফোলিয়েট করুন। তবে খেয়াল রাখবেন সপ্তাহে দুই বারের বেশি যেন এক্সফোলিয়েট করা না হয়।
  • প্রতিদিন প্রচুর পানি পান করুন। পানি শরীর থেকে সকল বিষাক্ত পদার্থ দূর করতে সাহায্য করে।
  • প্রতিদিন সবুজ শাকসবজি ও ফলমূল পান করুন। কারণ শাকসবজি ও ফলমূলে শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় ভিটামিন ও পুষ্টি উপাদান রয়েছে।
  • তৈলাক্ত খাবার, ভাজা পোড়া খাবার গ্রহণ করা থেকে বিরত থাকুন।
  • দুশ্চিন্তাকে বিদায় জানান। দুশ্চিন্তা করলে ব্রণ হয়ে থাকে।
  • প্রতিদিন ব্যায়াম করুন। কারণ ব্যায়াম করলে শরীরে রক্ত চলাচল স্বাভাবিক থাকে।
  • মাথায় খুশকি থাকলে তা প্রতিরোধের ব্যবস্থা নিন। কারণ মাথার খুশকি কপালে ও মুখে ব্রণ সৃষ্টি করে।
  • প্রতিদিন চুল ধুয়ে নিন। কারণ তৈলাক্ত ত্বক ব্রণ সৃষ্টি করে।
  • প্রতিদিন ইয়োগা ও মেডিটেশন করুন।
  • আপনি যদি হেলমেট ব্যবহার করেন তাহলে তা পরার আগে মাথায় স্কার্ফ বা অন্য কোনো কাপড় দিয়ে নিন। ঘাম ও ধুলোবালি থেকে দূরে থাকুন।
  • অতিরিক্ত ব্রণ হলে চিকিৎসকের সাথে পরামর্শ করুন।

ফিচার ইমেজ সোর্সঃ Acne Treatment

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.