প্রবেশদ্বারের নান্দনিক সাজ

বাড়ির প্রবেশদ্বার ঘরের মতোই গুরুত্বপূর্ণ। প্রবেশদ্বারের সৌন্দর্যের ওপর নির্ভর করে বাড়িতে বসবাসকারী ব্যক্তিবর্গের রুচি ও অভিরুচির ধরন। তাই বাড়ির প্রবেশদ্বার ও গৃহের প্রবেশদ্বার হওয়া চাই নান্দনিক ও সুন্দর। সুন্দর প্রবেশদ্বার সুন্দর মনের পরিচয় বহন করে। প্রবেশদ্বার নানা উপকরণ ও উপাদানের মিশেলে সুন্দর করা যায়। কেউ কেউ পুরো বাড়ি বিভিন্ন ধরনের গাছ দিয়ে সাজায়, আবার কেউ কেউ অন্যান্য উপকরণ দিয়ে সাজায়।

সুন্দর তাকে গাছ; Source: News18 Bengali

আপনি যেভাবেই মূল ফটক সাজান না কেন পুরোটা আপনার ব্যক্তিত্বের ওপর নির্ভর করে। ঘরের প্রবেশদ্বার যদি রুচিসম্মত হয় তাহলে বাইরে থেকে যে বা যারা প্রবেশদ্বার দেখবে তারা উক্ত ঘরের মালিকের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে ব্যস্ত হয়ে যাবে। কেননা সবার ঘরের প্রবেশদ্বার রুচিসম্মত হয় না। আবার অনেকে শিল্পমনা নয়। কেউ কেউ শিল্পমনা হলেও সঠিক বিন্যাস জানে না। তাই গৃহসজ্জার সাথে গৃহের প্রবেশদ্বারটিও ওতপ্রোতভাবে জড়িত। জেনে নিন যেভাবে ঘরের প্রবেশদ্বার সাজাবেন তা সম্পর্কে।

যেমন হবে দরজার রং

ঘরে ঢোকার দরজার রং হওয়া চাই উজ্জ্বল। কেননা উজ্জ্বল রঙের দরজা বেশি আকর্ষণীয় হয়। লাল, হলুদ, কমলা রং ব্যবহার করে দরজার সৌন্দর্য কয়েকগুণ বাড়ানো যায়। আপনি চাইলে দরজায় গাঢ় নীল রঙের ব্যবহার করতে পারেন। গাঢ় নীল একধরনের মোহমায়া আবেশ সৃষ্টি করে।

মানানসই দরজা; Source: stalbanswindows.co.uk

তাছাড়া নীল রঙের দরজা দেখে বাইরের লোকেরাও অন্যরকম আবেশে মুগ্ধ হবে। বেড়াতে আসা অতিথিরা দরজা দেখে মুগ্ধ হবে। লাল, নীল, কমলা বা হলুদ যেমন রঙে দরজা সাজান না কেন খেয়াল রাখবেন রং টা যেন চোখে ধাঁধা না লাগায়। তাছাড়া এমন কোনো বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করবেন না যার কারণে প্রতিবেশীদের কিঞ্চিত অসুবিধার সৃষ্টি হয়।

বহু আগে থেকে ঘরের দরজা হিসেবে কাঠ কালারকে প্রাধান্য দেওয়া হয়। আপনি যদি ঐতিহ্যগত বিষয় বিবেচনা করেন তাহলে কাঠের দরজা রাখতে পারেন। তবে যদি দরজায় নিখুঁত কাজ থাকে তাহলে তা আরো সুন্দর হয়ে উঠবে। দরজায় রং করতে গিয়ে যদি কোনো অংশে উক্ত রং মানানসই না হয়, তাহলে পুরো অংশে মানানসই হয় এমন রং করুন। নয়তো দেয়ালের সাথে বৈচিত্র্যতা রেখে দরজা সাজান।

প্রবেশদ্বারে প্রকৃতির ছোঁয়া

প্রকৃতির রূপ, রস, গন্ধে আমরা প্রতিনিয়ত ডুবে থাকি। মানুষের মন চেতন বা অবচেতনভাবে প্রকৃতির সৌন্দর্যকে কাছে ডাকে বারংবার। নগরবাসীরা বুকে প্রকৃতিকে লালন করলেও তার সান্নিধ্যে যেতে পারে না নানা ব্যস্ততার কারণে। তাই প্রবেশদ্বারে যদি আপনি প্রকৃতির নিবিড় ছোঁয়া রাখেন তাহলে তা দেখেই মন জুড়িয়ে যাবে। প্রবেশদ্বারের সামনে সুন্দর টবে আপনি রাখতে পারেন গাছ। আর গাছ নিঃসন্দেহে আপনার মন ভালো করে দেবে।

নান্দনিক প্রবেশদ্বার; Source: prothomalo.com

যেহেতু শহরে গাছ লাগানোর মতো প্রশস্ত জায়গা পাওয়া যায় না তাই প্রবেশদ্বারের সামনে গাছ রাখলে একদিকে অক্সিজেনের সরবরাহ বাড়বে অন্যদিকে চোখ ও মনের প্রশান্তি মিলবে। ইট পাথরের বাড়ির ভেতরে সবুজের ছোঁয়া নান্দনিকতা ও প্রশান্তি উভয় দেবে। প্রবেশদ্বারের সামনে আপনি রাখতে পারেন ক্যাকটাস, বিভিন্ন ধরনের অর্কিড, বিভিন্ন ধরনের ইনডোর প্ল্যান্ট ইত্যাদি।

বিভিন্ন ধরনের গাছ; Source: News18 Bengali

আপনি যদি আরো নান্দনিকতা ও বৈচিত্র্যতা সৃষ্টি করতে চান তাহলে বিভিন্ন ধরনের ফুল গাছ লাগাতে পারেন। সাদা, হলুদ, বেগুনি, নীল ফুলের মিশেলে আপনার প্রবেশদ্বার হয়ে উঠতে পারে আকর্ষণীয়।

একঘেয়েমি দূর করতে চাই বৈচিত্র্যতা

চোখ ও মনের প্রশান্তি আনয়নের জন্য বৈচিত্র্যতার বিকল্প নেই। প্রবেশদ্বারে যথেষ্ট জায়গা থাকলে খুব সুন্দর ভাবে তা সাজানো যায়। টবে গাছ, ফুল লাগানোর মাধ্যমে বৈচিত্র্যতা আনা যায়। সেই সাথে সামনে আয়না রাখলে ভালো দেখায়। কেউ কেউ প্রবেশদ্বারের সামনে জুতোর র‍্যাক রাখে। সেই র‍্যাকের ওপরে আবার টবসহ প্লাস্টিকের ফুল কিংবা জীবন্ত ফুল রাখে। পুরো বিষয়টা নির্ভর করে আপনার রুচির ওপর।

হাতপাখা আয়না; Source: AjkerDeal.com

প্রবেশদ্বারের সামনে যদি আয়না রাখেন তাহলে তা যেন অন্যান্য অনুসঙ্গের সাথে সামঞ্জস্য হয়, তা মাথায় রাখুন। বাজারে বিভিন্ন ধরনের আয়না কিনতে পাওয়া যায় যেমন কাঠ, বাঁশ, বেত, আয়রন, টেরাকোটা ইত্যাদি। আয়নার ফ্রেমের সাথে মিল রেখে এর মাঝে রাখতে পারেন ছোট ছোট টব ও শোপিস। তাছাড়া যেপাশে আয়না রাখবেন তার পাশে ঝুলিয়ে দিতে পারেন বাহারি রঙের অর্কিড কিংবা মানিপ্ল্যান্ট।

সামনে আরো কিছু জায়গা থাকলে জুতোর র‍্যাক রাখতে পারেন। আবার আয়নার সামনে ছোট ছোট দুইটা টুল রাখতে পারেন। প্রবেশদ্বারের সামনের দেয়াল ও পাশের দেয়ালের রঙেও বৈচিত্র্যতা আনতে পারেন। দুই পাশের দেয়ালে ভিন্ন রং করতে পারেন। আবার দেয়ালে একই রং রাখতে পারেন। যে পাশের দেয়াল খালি থাকবে সে পাশের দেয়ালে বড় পেইন্টিং ঝুলিয়ে দিতে পারেন। মোট কথা বাইরের মানুষ কিংবা আগত অতিথিরা প্রবেশদ্বার দেখেই আপনার রুচির প্রেমে পড়ে যাবে এবং আপনার প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়ে যাবে।

প্রবেশদ্বারের আলোকসজ্জা

ঘরের প্রবেশদ্বার গুরুত্বপূর্ণ একটি জায়গা। যেহেতু প্রবেশদ্বারের বাইরে সিঁড়ি ও চলাচলের জায়গা থাকে, সেহেতু এখানে আলোকসজ্জা নান্দনিক হওয়া চাই। অন্ধকার পথে হাঁটাচলা করা যায় না। তাছাড়া দূর্ঘটনা ঘটার ভয় থাকে। তাই পর্যাপ্ত কৃত্রিম আলোর ব্যবহার করা ভালো। দিনের বেলা প্রাকৃতিক আলো পেলেও রাতে চাই কৃত্রিম আলো। প্রবেশদ্বারের সৌন্দর্য বাড়িয়ে তুলতে সাদা আলো কিংবা হলুদ আলো ব্যবহার করতে পারেন। লাল আলো ব্যবহার না করা ভালো।

প্রবেশদ্বারের যত্ন

প্রবেশদ্বার যদি নান্দনিকভাবে সাজান তাহলে এর যত্ন নিতে হবে। নয়তো বাইরের ধুলোবালিতে তা নষ্ট হয়ে যাবে। দরজা, জানলা, গাছ, টব, আয়না, জুতোর র‍্যাক ইত্যাদির যত্ন নিতে হবে। রোজ রোজ গাছে পানি দেয়া, র‍্যাক মোছা ও দরজা মুখ পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে।  

Featured Image Source: prothomalo.com

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.