অতিরিক্ত ঘামে পোশাক নষ্ট হচ্ছে? জেনে নিন পরিত্রাণ পাওয়ার উপায়

ঘাম শরীরের জন্য অত্যাবশ্যকীয় প্রক্রিয়া। গ্রীষ্মের অতিরিক্ত গরমে কিংবা বর্ষার ভ্যাপসা আবহাওয়ায় ঘাম না হওয়াকে অসুস্থতার লক্ষণ হিসাবে ধরা হয়। তবে প্রয়োজনের অতিরিক্ত ঘাম ভালো নয়। হাত, পা, বগল, শরীর, মাথা ইত্যাদি প্রয়োজনের অতিরিক্ত ঘামলে তা অস্বস্তিকর। তাছাড়া অতিরিক্ত ঘামলে খুব সহজে পোশাকে দূর্গন্ধ সৃষ্টি হয়।

অতিরিক্ত ঘাম; Source: NewTimes

অতিরিক্ত ঘামকে চিকিৎসকদের ভাষায় হাইপারহিডরোসিস বলা হয়। সাধারণত অনিয়ন্ত্রিত স্নায়ু পদ্ধতির জন্য অতিরিক্ত ঘাম হয়ে থাকে। অতিরিক্ত ঘাম এমন একটি সমস্যা, যা থেকে খুব সহজে মুক্তি মেলে না। গোসল করে, দামী পারফিউম ব্যবহার করেও মেলে না মুক্তি। তবে রোজ কিছু অভ্যাস পালনের মাধ্যমে অতিরিক্ত ঘামের হাত থেকে অনেকটা পরিত্রাণ পাওয়া সম্ভব। জেনে নিন অতিরিক্ত ঘাম কেন হয় এবং তা থেকে মুক্তি লাভের উপায় সম্পর্কে।

  • শরীরে ময়েশ্চারাইজারের অভাব থাকলে অতিরিক্ত ঘামের সৃষ্টি হয়।
  • পোশাক আঠালো ও ভেজা থাকলে অতিরিক্ত ঘাম হয়।
  • ভিটামিন বি১২ এর অভাবে অতিরিক্ত ঘাম হয়। তাই ভিটামিন বি১২ জাতীয় খাবার বেশি করে খান।
  • ভিটামিন বি কমপ্লেক্সের অভাবে অতিরিক্ত ঘাম হয়।
  • পানি কম পান করলে এ সমস্যায় ভুগতে হয়।
  • অতিরিক্ত মানসিক চাপ ও দুশ্চিন্তার কারণে অতিরিক্ত ঘাম হয়।
  • ক্যাফেইন ও ধূমপান ঘামের পরিমাণ বাড়িয়ে দেয়। তাই এগুলো এড়িয়ে চলা উত্তম।
  • হাত, বগল, গলায় পাউডার ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকুন। কারণ এগুলো ঘাম কমায় না বরং বাড়ায়।
  • শারীরিক দূর্বলতা থেকে অতিরিক্ত ঘাম হয়ে থাকে। তাই খাদ্যতালিকায় শাকসবজি, ফলমূল ও পুষ্টিকর খাবার রাখার চেষ্টা করুন।

অতিরিক্ত ঘাম থেকে রক্ষা পেতে যেসব অভ্যাস পালন করবেন সেগুলো হলো

শরীর হাইড্রেট তথা সতেজ রাখুন

গ্রীষ্মের প্রচন্ড দাবদাহে ঘাম হওয়া স্বাভাবিক। তবে অতিরিক্ত ঘাম স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকরও বটে। অতিরিক্ত গরমে শরীর সতেজ রাখতে প্রচুর পানি পান করুন।

পানি পান; Source: Medical News Today

রোজ আট গ্লাস পানি পান করলে শরীর সতেজ থাকবে এবং অতিরিক্ত ঘাম থেকে আপনি রক্ষা পাবেন। অতিরিক্ত পানি পান করলে শরীরের সকল বিষাক্ত পদার্থ মূত্রের সাথে বের হয়ে যাবে এবং আপনার শরীর থাকবে টক্সিনমুক্ত।

সঠিক পোশাক নির্বাচন

জর্জেট, সিল্ক ও এ জাতীয় পোশাক পরিধান করলে অতিরিক্ত ঘাম হওয়াটা স্বাভাবিক। তাই গরমে পরার জন্য সুতি পোশাক বেছে নিন। সুতি পোশাক ঘাম শোষণ করতে সক্ষম। সুতি কিংবা লিনেনের পোশাক আপনাকে গরমে আরাম দেওয়ার পাশাপাশি দেবে স্বস্তি। সুতি পোশাক পরলে আপনার ঘাম কম হবে, শরীর থেকে দূর্গন্ধ বের হবে না। সুতি পোশাকের ভেতরে সহজে বাতাস চলাচল করতে পারে। জর্জেট, নাইলন ও অন্যান্য পোশাকে সহজে বাতাস চলাচল করতে পারে না।

সুতি পোশাক; Source: YouTube

অনেক সময় কালো কিংবা অতিরিক্ত উজ্জ্বল রঙের পোশাক পরিধান করলে ঘাম বেশি হয়। গরমে সঠিক রঙের পোশাক পরিধান করুন। হালকা গোলাপী, সাদা ও এই জাতীয় রঙের পোশাক পরলে অনেকটা স্বস্তিতে থাকা যায়। আপনার যদি অতিরিক্ত ঘামের সমস্যা থাকে তাহলে বাইরে গেলে হাতে রুমাল রাখুন। ঘামলে তা মুছে ফেলতে পারবেন। আর অতিরিক্ত ফিটিং পোশাক না পরে কিছুটা ঢিলেঢালা পোশাক পরলেও ঘামের হাত থেকে রক্ষা পাওয়া যায়।

সঠিক খাদ্যাভ্যাস

অতিরিক্ত ঘামের হাত থেকে রক্ষা পেতে খাদ্যতালিকায় প্রচুর পুষ্টিকর খাবার রাখুন। বিভিন্ন কাঁচা ফলমূল ও শাকসবজি যেমন গাজর, টমেটো, শশা, তরমুজ ইত্যাদি খাওয়ার চেষ্টা করুন। খাদ্যতালিকায় প্রচুর শাকসবজি রাখুন। কেননা শাকসবজি স্বাস্থ্যের জন্য ভালো। শাকসবজি ও ফলমূলে প্রচুর পানি রয়েছে যা শরীরকে সতেজ রাখতে সহায়তা করে।

ফলমূল ও সবজি; Source: YouTube

অতিরিক্ত ঝাল খাবার, মসলাদার খাবার সর্বদা এড়িয়ে চলুন। অতিরিক্ত ঝাল ও মসলাযুক্ত খাবার খেলে শরীরের তাপমাত্রা বেড়ে যায় এবং এ কারণে ঘাম বেশি হয়। তাই বাইরে গেলে অতিরিক্ত ঝাল ও মসলাযুক্ত খাবার খাওয়া থেকে বিরত থাকুন।

তাছাড়া প্রক্রিয়াজাতকৃত মাংস, সোডা জাতীয় খাবার, বিভিন্ন ধরনের ফাস্টফুড খাওয়া থেকে বিরত থাকুন। এসব ফাস্টফুড জাতীয় খাবার শরীরে টক্সিন জমা করে এবং তাপমাত্রা বাড়িয়ে দেয়।

ঘাম প্রতিরোধে সঠিক অভ্যাস

ঘাম প্রতিরোধ করা অনেকটা অভ্যাসের উপর নির্ভর করে। ঘাম প্রতিরোধের জন্য প্রতিদিন দুইবার গোসল করতে পারেন। রোজ দুই বার গোসল করলে আপনার শরীরের তাপমাত্রা স্বাভাবিক থাকবে।


গোসল; Source: Naukri Nama

গোসলের সময় অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল অথবা ডিওডরেন্ট সাবান ব্যবহার করুন যেন গোসলের মাধ্যমে ব্যাকটেরিয়াগুলো চলে যায়। গোসলে আপনি চাইলে হালকা বা কুসুম গরম পানি ব্যবহার করতে পারেন। তবে গরমের সময় কুসুম গরম পানি দিয়ে গোসল করলে শরীরের তাপমাত্রা আরো বেড়ে যায়। তাই ঠান্ডা পানি দিয়ে গোসল করা্র চেষ্টা করুন।

হাতে রুমাল; Source:YouRememberThat.Com

বাইরে গেলে হাতে অবশ্যই রুমাল রাখবেন, যেন অতিরিক্ত ঘেমে গেলে তা মুছে ফেলা যায়। সঙ্গে সর্বদা বডি স্প্রে রাখতে পারেন যেন ঘামের দূর্গন্ধ তাৎক্ষণিকভাবে দূর করা যায়।

দেখা যায় যাদের ওজন বেশি তারা স্বাভাবিক ওজনের মানুষদের চেয়ে একটু বেশি ঘামে। ওজন বেশি হলে ঘাম বেশি হওয়াটা স্বাভাবিক। তাই নিয়মিত ব্যায়াম ও শরীরচর্চার মাধ্যমে ওজন কমানোর চেষ্টা করুন। ওজন কমালে ক্ষতি নেই বরং লাভ আছে। ওজন কমালে আপনি স্বাস্থ্যগত দিক দিয়েও বেশ ভালো থাকবেন।

দুশ্চিন্তা দূর

অতিরিক্ত ঘামার আরেকটি কারণ হলো দুশ্চিন্তা। শুধু তাই নয় দুশ্চিন্তা ছাড়াও মানসিক চাপ, ভয়, উদ্বিগ্নতা, ব্যথা, নার্ভাসনেসের কারণে মানুষ অতিরিক্ত ঘামে। এগুলো স্বাস্থ্যের জন্যও ক্ষতিকর। নিজেকে ভালো রাখতে হলে, অতিরিক্ত ঘাম থেকে মুক্তি পেতে হলে দুশ্চিন্তাকে বিদায় জানান।

চিকিৎসকের পরামর্শ

অতিরিক্ত ঘাম থেকে যদি কোনোভাবেই মুক্তি না পান তাহলে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন এবং তার পরামর্শ অনুযায়ী পদক্ষেপ গ্রহণ করুন।

Featured Image Source: Australian Skin Face Body

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.