ঘরে বসেই দাগমুক্ত ত্বক পেতে করণীয়

Image Source: 29secrets.com

চাঁদের গায়ে দাগ থাকলেও চাঁদ সুন্দর। কিন্তু কতজন মানুষ তার মুখে দাগ নিয়ে থাকতে পছন্দ করে? কেউই পছন্দ করে না। এই ধুলাবালির ব্যস্ত শহরে খুব কম সময় থাকে নিজের ত্বকের যত্ন নেওয়ার জন্য। তাই অনেক সময় ব্রণ উঠে এবং কিছু কিছু ক্ষেত্রে ত্বক থেকে সেই ব্রণের দাগ যায় না।

শুধুমাত্র যে ব্রণ থেকে আপনার শরীরে দাগের সৃষ্টি হবে এমন কোন কথা নেই। হতে পারে কোন দুর্ঘটনা, আবার অনেক সময় অতিরিক্ত রোদে থাকলে সানবার্ণ হয়। আবার কিছু কিছু অপারেশনও আপনার শরীরে দাগ সৃষ্টি করে। এসব দাগ সহজে যেতে চায় না, অনেক সময় কিছু দাগ শরীরে স্থায়ী হয়ে  যায়। কিন্তু আপনি চাইলে কিছু ঘরোয়া পদ্ধতি অবলম্বন করে দেখতে পারেন যেগুলো সত্যিকার অর্থে কার্যকর। চলুন জেনে নেওয়া যাক সেই ঘরোয়া পদ্ধতিগুলো সম্পর্কে যেগুলো আপনার মুখের দাগ দূর করতে সাহায্য করবে।

লেবু

লেবু; Image Source: organicfacts.net

এজন্য আপনার যা যা প্রয়োজনঃ

  • লেবুর রস
  • কটন বল

যা যা করণীয়ঃ

  • প্রথমেই আপনার ত্বক ভালোমত পরিষ্কার করে নিন।
  • এরপর একটি কটন বল নিয়ে তা লেবুর রসে ভিজিয়ে ত্বকের যেই স্থানে দাগ রয়েছে তার উপর ১০ মিনিট চেপে ধরে রাখুন।
  • এরপর পানি দিয়ে জায়গাটি ধুয়ে ফেলুন এবং যদি এরপর বাইরে যাওয়ার পরিকল্পনা থাকে তবে সানস্ক্রীন ব্যবহার করুন।
  • প্রতিদিন ২- ৩ বার এই পদ্ধতি অবলম্বণ করুন।

এই পদ্ধতি কিভাবে কাজ করে?

লেবুতে রয়েছে আলফা হাইড্রক্সি এসিড এবং এটি ত্বকের মৃত কোষ দূর করতে সাহায্য করে এবং দাগের উপর অনেকটা প্রাকৃতিক ব্লিচের মত কাজ করে। লেবুর রসের রেগুলার ব্যবহারে ত্বকের দাগ প্রথমে হাল্কা হয়  এবং আস্তে আস্তে একদম চলে যায়।

মধু

মধু; Image Source: organicfacts.net

যা যা প্রয়োজনঃ

  • এক টেবিল চামচ মধু
  • ১ টেবিল চামচ বেকিং সোডা
  • ছোট রুমাল
  • গরম পানি

যা যা করণীয়ঃ

  • মধু এবং বেকিং সোডা একত্রে মিশিয়ে একটি পেস্ট তৈরী করুন।
  • এরপর আপনার দাগের উপর ৩ থেকে ৫ মিনিট ম্যাসাজ করুন।
  • এরপর ঐ স্থানে রুমাল গরম পানিতে ভিজিয়ে দিয়ে রাখুন। যখন রুমাল ঠান্ডা হয়ে যাবে তখন পুরো স্থান মুছে পরিষ্কার করুন।
  • প্রতিদিন দুইবার একই পদ্ধতি অনুসরণ করুন।

এই পদ্ধতি কিভাবে কাজ করে?

সেই প্রাচীন কাল থেকেই মধু ব্যবহার করা হচ্ছে মুখের দাগ দূর করবার জন্য। নতুন টিস্যু তৈরীকে ত্বরাণ্বিত করে এবং কাটা- ছেঁড়াতেও অনেক উপকারী। আর বেকিং সোডা আপনার ত্বকের মৃত কোষ দূর করতে সাহায্য করে, এটি অনেকটা স্ক্রাবের মত কাজ করে। ত্বক মসৃণ করে এবং দাগ হাল্কা করে।

এলোভেরা জেল

ত্বকের জন্য খুব উপকারী একটি গাছ হচ্ছে এলোভেরা বা ঘৃতকুমারী। এলোভেরা পাতা কাটলে এক ধরনের জেল পাওয়া যায়।

এলোভেরা; Image Source: organicfacts.net

যা সরাসরি ব্যবহার করতে পারেন  কিংবা বাজারে বিভিন্ন কোম্পানির এলোভেরা জেল রয়েছে সেগুলোও ব্যবহার করতে পারেন।

যা যা করতে হবেঃ

  • প্রতিদিনে ২- ৩ বার পুরো মুখে ভালোভাবে এলোভেরা জেল লাগাতে হবে এবং কিছু সময় ম্যাসাজ করতে হবে। কিন্তু ধুয়ে ফেলা যাবে না।

এই পদ্ধতি কিভাবে কাজ করে?

এলোভেরা জেলে রয়েছে এমন কিছু উপাদান যা আপনার ত্বকের জ্বালা রোধ করে। এটি ত্বকের দাগ দূরীকরণে বহুল ব্যবহৃত এবং নতুন কোষ তৈরী ত্বরাণ্বিত করে।

আমলকি

আমলকি; Image Source: greenfrsh.com

যা যা প্রয়োজনীয়ঃ

  • আমলকির গুড়া
  • অলিভ অয়েল

যা যা করণীয়ঃ

  • অলিভ অয়েল এবং আমলকির গুড়া দিয়ে একটি থকথকে পেস্ট তৈরী করতে হবে, খেয়াল রাখতে হবে খুব বেশী পাতলা যাতে  না হয় আবার খুব বেশী ঘনও না।
  • এটিকে ফেসপ্যাকের মত পুরো মুখে মেখে ১০- ১৫ মিনিট রেখে দিতে হবে।
  • এরপর নরমাল পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন

এই পদ্ধতি কিভাবে কাজ করে?

আমলকিতে রয়েছে ভিটামিন সি, যা দাগ দূরীকরণে খুব উপকারী। এই ফেসপ্যাক নিয়মিত ব্যবহারে ত্বকের দাগ চলে যায় এবং নতুন কোন দাগও হয় না। এই প্যাকে রয়েছে অলিভ অয়েল যা আপনার ত্বকে ময়েশ্চারাইজারের কাজ করবে।

টি ট্রি অয়েল

টি ট্রি অয়েল; Image Source: draxe.com

যা যা প্রয়োজনীয়

  • ২-৩ ফোঁটা টি ট্রি অয়েল
  • পানি কিংবা অলিভ অয়েল

যা যা করণীয়ঃ

  • অলিভ অয়েল কিংবা পানির সাথে টি ট্রি অয়েল মিশাতে হবে।
  • এরপর আক্রান্ত জায়গায় মিশ্রণটি ম্যাসাজ করতে হবে কিছু সময়।
  • সারারাত রেখে দিন এবং পরবর্তীদিন সকালে ধুয়ে ফেলুন।
  • প্রতিদিন রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে ব্যবহার করুন।

এই পদ্ধতি কিভাবে কাজ করে?

টি ট্রি অয়েলে রয়েছে ফাইটোকেমিক্যালস যা কিনা সার্জিকাল এবং ব্রণ দূরীকরণে খুব উপকারী। এটি ব্যবহারে ত্বকের রক্ত সঞ্চালন ভালো হয় এবং যে কোন ধরনের ইনফেকশনের হাত থেকে বাঁচায়।

উপরের পদ্ধতিগুলো আপনি খুব সহজেই বাসায় বসে করতে পারেন, এবং প্রতিটি উপাদানই আমাদের নিত্যদিনে ব্যবহারের মত। তবে কিছু জিনিস সবসময় খেয়াল রাখলে ত্বকে ব্রণ হবে না, যেমনঃ প্রতিদিন বাইরে থেকে এসেই ভালোমত মুখ পরিষ্কার করা, প্রতিদিন কমপক্ষে ৮ গ্লাস পানি পান করা, মেকাপ সামগ্রী ব্যবহার করলে তা অবশ্যই ভালোমত উঠানো।

উপরে উল্লিখিত ঘরোয়া পদ্ধতিগুলো ছাড়াও রয়েছে আরো কিছু উপায় যার মাধ্যমে সার্জিকাল এবং অনেক পুরাতন দাগ দূর করা সম্ভব। যেমনঃ ওষুধ, লেজার ট্রিটমেন্ট।

ওষুধ বা ক্রিম

ওষুধ; Image Source: nationaleczema.org

আজকাল বাজারে এমন অনেক ওষুধ পাওয়া যায় যা খেলে আপনার ত্বকের দাগ, ব্রণ দূর হবে আবার ভিতর থেকে জেল্লা আসবে। অনেক ধরনের ক্রিমও পাওয়া যায় যা একসাথে ত্বক উজ্জল,ফর্সা করে এবং মুখের দাগ দূর করে। তবে ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া এসব পথ্য সেবন করা উচিত নয়। চর্মডাক্তারের থেকে পরামর্শ নিয়ে সঠিক ওষুধ ব্যবহারে সব দাগ চলে যাবে।

লেজার ট্রিটমেন্ট

উপরে উল্লিখিত কোন উপায়ই যদি কাজ না করে তবে করে তবে একটি উপায়ই থাকে তা হচ্ছে লেজার ট্রিটমেন্ট। পদ্ধতিটি ব্যয়বহুল হলেও শতভাগ কার্যকরী। এখানে আলোকরশ্মির মাধ্যমে আপনার ত্বকের দাগ দূর করা হয়। বর্তমানে বাংলাদেশে অনেকগুলো হাসপাতাল এবং স্কিন কেয়ার সেন্টার রয়েছে যেখানে লেজার ট্রিটমেন্টে অভিজ্ঞ ডাক্তার রয়েছেন।

সবসময় নিজেকে সুস্থ রাখতে হলে স্বাভাবিক এবং স্বাস্থ্যকর একটি ডায়েটচার্ট এবং সুন্দর রুটিন মেনে চলতে হবে। প্রতিদিন নির্দিষ্ট পরিমাণ পানি পান করতে হবে এবং ৭- ৮ঘন্টা ঘুমাতে হবে। নিয়মমতো খাবার খেতে হবে। একটি সুন্দর রুটিন মেনে চললে আপনার ত্বক এবং জীবন নিজে নিজেই সুন্দর হয়ে যাবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.