প্রাকৃতিকভাবে চুল সোজা করার উপায়

সোজা ও সুন্দর চুল কে না চায়? তবে সবার চুল সোজা হয় না। অধিকাংশ ক্ষেত্রে দেখা যায় অনেকের চুল হয় কোঁকড়া এবং মিশ্র। যাদের চুল কোঁকড়া  তারা অনেক সময় হতাশা ও অসন্তুষ্টিতে ভোগেন। কারণ সোজা চুল দেখতে সুন্দর। সোজা চুলে যে প্রাণ থাকে, কোঁকড়ানো চুলে তা থাকে না। তাই সুন্দর ও সোজা চুল পাওয়ার জন্য অধিকাংশ নারী পার্লারে গিয়ে চুল সোজা করেন।

দেখা যায়, অনেক টাকা খরচ করে চুল সোজা করলে, নির্দিষ্ট সময় পর চুলের অনেক ক্ষতি হয়। কারণ চুলে যে মেডিসিন তথা চুল সোজা করার ওষুধ ব্যবহার করা হয়, তা রাসায়নিক বিভিন্ন উপাদান দিয়ে তৈরি করা হয়। যার ফলে চুল ভেঙে যায়, ফেটে পড়ে, চুলের গোড়া নরম হয়ে যায় ইত্যাদি। যদি প্রাকৃতিকভাবে চুল সোজা করেন, তাহলে এ ধরনের সমস্যা থাকবে না। জেনে নিন, প্রাকৃতিকভাবে চুল সোজা করার উপায় সম্পর্কে।

চুল সোজা করার জন্য নারকেলের দুধ ও লেবুর রস

প্রাকৃতিকভাবে চুল সোজা করার জন্য নারকেলের দুধ ও লেবুর রস কার্যকরী। প্রথমে ১/৪ কাপ নারকেলের দুধ ও এক টেবিল চামচ লেবুর রস নিন। মিশ্রণটি প্রস্তুতের জন্য নারকেলের দুধ ও লেবুর রস একসাথে মিশিয়ে নিন। পুরো মিশ্রণটি সারা রাত ফ্রিজে রাখুন। সকাল বেলা ঘুম থেকে উঠার পর পুরো মিশ্রণটি চুলের গোড়া থেকে আগা পর্যন্ত লাগান।

Photo: stylecraze.com

এই মিশ্রণটি ত্রিশ মিনিট চুলে রেখে ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। প্রয়োজনে শ্যাম্পু ব্যবহার করুন। মিশ্রণটি প্রস্তুত করতে সারা রাত লাগলেও, মাথায় দিয়ে রাখতে হবে মাত্র ত্রিশ মিনিট। সপ্তাহে একবার এই মিশ্রণটি চুলে ব্যবহার করুন।

এটি যেভাবে কাজ করে

লেবুর রস প্রাকৃতিকভাবে চুল সোজা করে। নারকেলের দুধের সাথে লেবুর শরবত মেশালে কন্ডিশনারের মতো কাজ করে এবং এই উপাদানগুলো মাথার ত্বকে ভিটামিন সি প্রদান করে। এই মিশ্রণটি ব্যবহার করলে আপনি বুঝবেন, এটি আপনার চুলকে কতটা সুন্দর করেছে। এটি প্রাকৃতিকভাবে চুল সোজা করার পাশাপাশি চুলকে করে সতেজ ও প্রাণবন্ত।

গরম তেলের ব্যবহার

হালকা গরম তেলের ম্যাসাজ চুলের জন্য খুব উপকারী। চুলের গোড়াকে শক্ত করতে এর জুড়ি নেই। এর জন্য প্রয়োজন এক টেবিল চামচ ক্যাস্টর অয়েল এবং এক টেবিল চামচ নারকেল তেল। মিশ্রণটি প্রস্তুত করতে মাত্র দুই মিনিট লাগবে। ক্যাস্টার অয়েলের সাথে ভালো করে নারকেল তেল মিশিয়ে নিন। তারপর হালকা গরম করুন। তেল হালকা গরম হয়ে গেলে তা মাথার ত্বক ও চুলে লাগান। মাথার ত্বকে পনেরো মিনিট গরম তেল ম্যাসাজ করুন।

Photo: stylecraze.com

ম্যাসাজ হয়ে গেলে ত্রিশ মিনিট অপেক্ষা করুন। তারপর ঠান্ডা পানি ও শ্যাম্পু দিয়ে চুল ধুয়ে ফেলুন। এভাবে আপনার চুল হবে সোজা ও সুন্দর। সপ্তাহে দুইবার এটি ব্যবহার করলে ভালো ফল পাবেন।

যেভাবে কাজ করে

ক্যাস্টর অয়েল চুলের কন্ডিশনার হিসেবে কাজ করে এবং ক্ষতিগ্রস্ত চুলেও প্রাণ ফেরাতে সাহায্য করে। চুলকে সতেজ ও প্রাণবন্ত করার পাশাপাশি চুলের কোঁকড়ানো ভাব নিয়ন্ত্রণ করে ।

চুল সোজা করার জন্য মিল্ক স্প্রে

চুল সোজা ও প্রাণবন্ত করার জন্য মিল্ক স্প্রে করতে পারেন। এর জন্য প্রয়োজন হবে ১/৪ কাপ দুধ এবং একটি স্প্রে করার বোতল। মাত্র দুই মিনিটে মিশ্রণটি তৈরি হয়ে যাবে। প্রথমে স্প্রে বোতলে দুধ ঢালুন। তারপর চুলে স্প্রে করুন যতক্ষণ না পুরো চুলে দুধের স্প্রে মেশে।

Photo: stylecraze.com

পুরো চুলে দুধ স্প্রে করার পর ত্রিশ মিনিট রেখে দিন। তারপর ঠাণ্ডা পানি দিয়ে চুল ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে এক দুই বার এটি ব্যবহার করতে পারেন।

এটি যেভাবে কাজ করে

দুধে প্রোটিন থাকায় এই স্প্রেটি চুলের উপকার করে। কারণ প্রোটিন চুলকে সতেজ, প্রাণবন্ত, ঝলমলে ও সুন্দর করে। এই স্প্রে আপনার চুলের কোঁকড়ানো ভাব নিয়ন্ত্রণ করে চুলকে সোজা করবে।

চুল সোজা করতে ডিম ও অলিভ অয়েলের ব্যবহার

ডিম ও অলিভ অয়েল চুল সোজা করতে ভূমি রাখে। মিশ্রণটি প্রস্তুতের জন্য দুইটি ডিম এবং তিন টেবিল চামচ অলিভ অয়েল লাগবে। মাত্র দুই মিনিটে এই মিশ্রণটি প্রস্তুত হয়ে যাবে।

ডিম ও অলিভ অয়েল ভালো করে মেশান। প্রয়োজনে ব্লেন্ডারে ব্লেন্ড করে নিন। তারপর তা চুলে ব্যবহার করুন।

Photo: stylecraze.com

পুরো চুলে মিশ্রণটি দেয়া হলে এক ঘন্টা অপেক্ষা করুন। তারপর পানি এবং মাইল্ড শ্যাম্পু দিয়ে চুল ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে একবার পুরো চুলে এই মিশ্রণ ব্যবহার করুন।

এটি যেভাবে কাজ করে

ডিমে প্রচুর প্রোটিন থাকে যা চুলকে করে প্রাণবন্ত ও সতেজ। অলিভ অয়েল চুলের কন্ডিশনার হিসেবে দারুণ কাজ করে। এই দুটো উপাদান দিয়ে তৈরি মিশ্রণ চুলে লাগালে আপনার চুল প্রাকৃতিকভাবে সোজা হবে।

চুল সোজা করতে দুধ ও মধুর ব্যবহার

মধুর নানা গুণের কথা আমরা সবাই জানি। মধু চুল সোজা ও সুন্দর করতেও সাহায্য করে। ১/৪ কাপ দুধে সাথে দুই টেবিল চামচ মধু মিশিয়ে একটি মিশ্রণ তৈরি করুন। মাত্র দুই মিনিটে মিশ্রণটি প্রস্তুত হয়ে যাবে।

Photo: stylecraze.com

এরপর পুরো চুলে মিশ্রণটি লাগান। তারপর দুই ঘন্টা অপেক্ষা করে শ্যাম্পু দিয়ে চুল ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে একবার এটি ব্যবহার করুন।

এটি যেভাবে কাজ করে

দুধ প্রোটিন হিসেবে কাজ করে এবং মধু চুলকে নমনীয় ও সতেজ করতে ভূমিকা রাখে। তাছাড়া দুটো উপাদানের মিশ্রণ কোঁকড়া চুল নিয়ন্ত্রণ করে এবং চুল সোজা করে। এর ব্যবহারে আপনার চুল হবে উজ্জ্বল ও প্রাণবন্ত।

ফিচার ইমেজ সোর্সঃ Steemit 

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.