লেবু ও বেকিং সোডা দিয়ে তৈরি ফেস মাস্ক

ত্বকের জন্য লেবু ও বেকিং সোডার তৈরি ফেসমাস্ক; Source: Youtube.com

যদি আপনাকে দিনের বেশিরভাগ সময় সূর্যের তাপ ও ধুলো ময়লার মধ্যে কাটাতে হয় তবে ফেস মাস্ক আপনার মুখে পরিষ্কারের জন্য অত্যাবশ্যকীয় জিনিস। এটি মুখের ব্ল্যাকহেডস, ওয়াইটহেডস, তৈলাক্ততা, ব্রণ, মুখের নানা জায়গায় রঙের অসামঞ্জস্যতা দূর করতে সাহায্য করে।

প্রায় প্রতিটি স্কিনকেয়ার ব্র্যান্ডই ফেস মাস্ক তৈরি করে। কিন্তু সেগুলোতে কিছু পরিমাণ হলেও কেমিক্যাল থাকে, যা আপনার ত্বকের ক্ষতি করতে পারে বা ত্বকের সমস্যাগুলোকে বাড়াতে পারে। অন্যদিকে আমরা ঘরে বসেই তৈরি করতে পারি কেমিক্যালবিহীন ফেস মাস্ক। এমনই একটি ফেস মাস্ক হল লেবু ও বেকিং সোডার ফেস মাস্ক। আজকে আমরা এই ফেস মাস্ক তৈরির উপায় ও এর উপকারিতা সম্পর্কে জানব।

লেবু ও বেকিং সোডার ফেস মাস্ক প্রস্তুত প্রণালী

এটি সবচেয়ে কম উপাদানে তৈরি সহজ ফেস মাস্ক, এতে কেবল লেবুর রস ও বেকিং সোডা লাগে। ব্রণপ্রবণ ত্বকের জন্য এই ফেস মাস্কটি খুবই উপকারী।

১. ফেস মাস্কটি বানানোর জন্য ১ টেবিল চামচ লেবুর রসের সাথে ২ টেবিল চামচ বেকিং সোডা মেশাতে হবে। বেকিং সোডা লেবুর রসের সাথে বিক্রিয়া করে বুদুবুদ তৈরি করতে থাকে। ক্রমাগত মেশাতে থাকলে বুদবুদ মিলিয়ে গিয়ে হলুদাভ পেস্ট তৈরি হয়।

২. পেস্টটি সারা মুখে ও গলায় ভালমতো লাগাতে হবে চোখের অংশটুকু বাদ দিয়ে। মুখের যেখানে তৈলাক্ত বেশি মনে হয় সেসব জায়গাগুলোতে যেমন: টি-জোনে ভালমতো ম্যাসাজ করতে হবে। যেহেতু বেকিং সোডা লেবুর সাথে বিক্রিয়া করতে থাকে, তাই প্রথমে একটু অস্বস্তি অনুভূত হতে পারে। তবে যদি খুব জ্বালাপোড়া করতে থাকে তাহলে সাথে সাথে মুখ ধুয়ে ফেলতে হবে এবং এই ফেস মাস্কটি আর কখনো ব্যবহার করা যাবে না। কারণ আপনার ত্বকের জন্য এটি মানানসই নয়।

৩. ফেস মাস্কটি লাগানোর পর ১৫ মিনিটের বেশি রাখা যাবে না। নইলে ত্বকে লাল র‍্যাশ দেখা দিতে পারে। একটু উষ্ণ পানিতে ভেজা তোয়ালে দিয়ে আলতোভাবে ফেস মাস্কটি তুলে ফেলতে হবে। এরপর ঠাণ্ডা পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলতে হবে, যেন মুখের উন্মুক্ত হওয়া ছিদ্রগুলো বন্ধ হয়ে যায়। এবার ত্বকের সাথে মানানসই ময়েশ্চারাইজার মুখে লাগাতে হবে যাতে ত্বক শুষ্ক না হয়ে যায়।

লেবু ও বেকিং সোডার সাথে অন্য উপাদান মিশিয়ে আমরা তৈরি করতে পারি নানা ধরনের ঘরোয়া রুপচর্চার প্যাক। চলুন, জেনে আসা যাক এমনই কিছু মিশ্রণের ব্যাপারে।

১. লেবু ও বেকিং সোডার টোনার

লেবু ও বেকিং সোডার টোনার; Source: makeupandbeauty.com

অল্প পরিমাণ লেবুর রস নিয়ে তাতে পানি মিশিয়ে লঘু করে নিতে হবে। এবার এতে ১ চা চামচ বেকিং সোডা মিশিয়ে মিশ্রণকে কটন প্যাড দিয়ে, মুখের ব্রণপ্রবণ জায়গায় লাগাতে হবে। ১৫ মিনিট রেখে ঠাণ্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে।

২. মধুর সাথে লেবু ও বেকিং সোডার ফেস মাস্ক

মধু, লেবু ও বেকিং সোডার ফেস মাস্ক; Source: pinterest.co.uk

ফেস মাস্কটি জন্য ১ টেবিল চামচ লেবুর রসের সাথে ২ টেবিল চামচ বেকিং সোডা লেবু ও ১ টেবিল চামচ খাঁটি মধু মেশাতে হবে। মধু প্রাকৃতিক অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল উপাদান হিসেবে কাজ করে। এটি মুখের লোমকূপে জমে থাকা ব্যাকটেরিয়াকে পরিষ্কার করে। ত্বককে ময়েশ্চারাইজ করে।

৩. ব্রাউন সুগারের সাথে লেবু ও বেকিং সোডার স্ক্রাব

মধু, ব্রাউন সুগার, লেবু ও বেকিং সোডার স্ক্রাবার; Source: wikihow.com

২ টেবিল চামচ বেকিং সোডা, ১/৪ কাপ লেবুর রস ও ২ টেবিল চামচ মিহি করা ব্রাউন সুগারের সমন্বয়ে স্ক্রাবটি তৈরি করা হয়। উপাদানগুলো ততক্ষণ মেশাতে হবে যতক্ষণ ভালমতো না মিশছে। এরপর এই স্ক্রাবটি ভেজা ও পরিষ্কার করা মুখে ম্যাসাজ করতে হবে, বিশেষ করে শুষ্ক হওয়া জায়গাগুলোতে। তারপর ১০ মিনিট রেখে হালকা গরম পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলতে হবে।

৪. এক্সট্রা ভারজিন অলিভ অয়েলের সাথে লেবু ও বেকিং সোডার মিশ্রণ

অলিভ অয়েনের সাথে লেবু ও বেকিং সোডার মিশ্রণ; Source: fabhow.com

১ চা চামচ এক্সট্রা ভারজিন অলিভ অয়েল, ১/২ চা চামচ খাঁটি মধু, ২ চা চামচ লেবুর রস ও ১ চা চামচ বেকিং সোডা মিশিয়ে এই মিশ্রণ তৈরি করা হয়ে থাকে। মিশ্রণ তৈরির পর একে আস্তে আস্তে ম্যাসাজ করতে হবে। এরপর ১০ মিনিট রেখে হালকা উষ্ণ পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে। এক সপ্তাহে একবার লাগাতে হবে।

 

ত্বকের জন্য লেবু ও বেকিং সোডার উপকারিতা

১. বেকিং সোডা মিহি দানাদার ধরনের হয় যা মুখে ম্যাসাজ করলে তা মুখ থেকে মৃত চামড়ার তুলে ফেলতে সাহায্য করে।

২. এটি মুখের ছিদ্রগুলোতে ময়লা ও তেল জমতে দেয় না। যার ফলে ব্রণ ওঠার সম্ভাবনাও কমে যায়। পাশপাশি এটি পুরো মুখের রঙে সামঞ্জস্য আনে এবং উজ্জ্বলতা লাভে সাহায্য করে।

৩. লেবুর রস যা সাইট্রিক এসিড ও ভিটামিন সি তে পরিপূর্ণ তা মুখ থেকে তেল দূর করে মুখকে পরিষ্কার করে। এটি ব্যাকটেরিয়াকে মেরে ফেলে। যার ফলে ব্যাকটেরিয়া থেকে ত্বকে ইনফেকশন হতে পারে না।

ব্ল্যাকহেডসের জন্য উপকারিতা

ব্ল্যাকহেডস মূলত মুখের ছিদ্রে ময়লা ও তেল জমে হয়। লেবুর রস তেলকে দূর করে। আর বেকিং সোডা ময়লাকে তুলে ফেলে। এই দুইটার সমন্বয় মুখের ত্বকে আগের ব্ল্যাকহেডস দূর করে ও নতুন করে ব্ল্যাকহেডস হতে দেয় না।

ওয়াইটহেডসের জন্য উপকারিতা

ওয়াইটহেডস ব্ল্যাকহেডসের চেয়ে কোনো অংশেই কম অপ্রীতিকর নয়। ওয়াইটহেডস তেল ও মরা চামড়ার সমন্বয়ে তৈরি হয়। লেবুর রস তেলকে দূর করে ও বেকিং সোডা মরা চামড়া তুলে ফেলে।

লেবুর রস মুখের ছোট ছিদ্রগুলোকে খুলে দিয়ে বেকিং সোডার জন্য ময়লা নিঃসরণকে সহজ করে দেয়। মুখের ছোট ছিদ্রগুলোকে একটু উন্মুক্ত করতে ফেস মাস্ক ব্যবহারের আগে গরম পানির ভাপ নেয়া যেতে পারে। আবার ছিদ্রগুলো উন্মুক্ত অবস্থায় রেখে দিলে তাতে আরও ময়লা জমতে পারে। তাই ফেস মাস্ক তুলে ফেলার পর ঠাণ্ডা পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলতে হবে। অথবা বরফের টুকরো দিয়ে মুখে ম্যাসাজ করা যেতে পারে। এতে ত্বক স্বাভাবিক অবস্থা ফিরে পাবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.