পৃথিবীর সবচেয়ে দামি কিছু বাড়ি

'source: http://myhdwallpapers.org'

বাড়ি বলতে সাধারণত আমরা আমাদের থাকার জায়গাকেই বোঝাই যেখানে আমরা রাত্রিযাপন করি, নিজেদের পরিবার নিয়ে বসবাস করি, আশ্রয় হিসেবে থাকি, সারাদিনের কাজকর্ম শেষে এসে বিশ্রাম করি।

এই বাড়ি যেমন কারো কাছে শুধু মাথা গোঁজার জায়গা, কারো কাছে আবার বিলাসিতা। কেউ হয়তো পলিথিন দিয়ে বাসা বানিয়ে থাকে, কেউ হয়তো ইট পাথরের দালানে থাকে আর কেউবা কোটি কোটি টাকা ব্যয় করে বাড়ি বানিয়ে থাকে।

এবারের আয়োজনে থাকছে সেরকম কিছু বাড়ির তথ্য যেখানে প্রাধান্য দেয়া হয়েছে- এই বাড়িটিকে অন্যরা কত টাকা দিয়ে কিনতে ইচ্ছুক, সম্পূর্ণ জায়গাটুকুর দাম,  ভেতরের ও বাইরের ডিজাইন এবং অন্যান্য ফিচার যুক্ত করার দাম, দর্শনীয় স্থান হিসেবে বাড়ির মূল্য কেমন এই বিষয়গুলোকে। উক্ত বিষয়গুলোর আলোকেই এখানে তুলে ধরা হচ্ছে কিছু বাড়ির নাম, বিবরণ ইত্যাদি।

চলুন জানি, সেসব দামি বাড়িগুলোর সম্পর্কে।

দ্য ব্রান ক্যাসেল

মূল্য: ১৫২ মিলিয়ন ডলার

অবস্থান: রোমানিয়া

‘ব্রান ক্যাসেল; source: www.bran-castle.com’

বাড়িটির আরেকটি নাম আছে, তা হচ্ছে ক্যাসেল অব ড্রাকুলা বা ড্রাকুলার প্রাসাদ। কারণ এখানেই বাস করতেন আসল ড্রাকুলা, অর্থাৎ তৃতীয় ভ্লাদ বা ভ্লাদ দ্য ইমপেলার। এটি রোমানিয়ার ট্রানসিলভেনিয়াতে অবস্থিত। যদিও এটি বর্তমানে জাদুঘর হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে, যেখানে আগে ভ্লাদ ও তার বংশধরেরা থাকতেন।

বাড়িটির দাম ৮০-১৫২ মিলিয়ন ডলারের মতো, যদিও ২০০৭ সাল সালে বাড়িটি কেনার জন্যে মানুষের হিড়িক পড়ে গিয়েছিল এবং অনেক বেশি আগ্রহও ছিল। কিন্তু পরবর্তীতে এটিকে জাদুঘর হিসেবেই ব্যবহার করা হচ্ছে।

ক্রিসপি হিকস এস্টেট

মূল্য: ১৩৫ মিলিয়ন ডলার

অবস্থান: টেক্সাস

‘ক্রিসপি হিকস এস্টেট; source: amp.businessinsider.com’

২০১৩ সালের ইতিহাসে আমেরিকান বাড়িগুলোর মধ্যে সবথেকে দামি বাড়ির তালিকায় ছিল এই বাড়িটি।

এই বাড়িটির জায়গার পরিমাণ ২৫ একর এবং বাড়িটির মালিক হচ্ছেন টম হিকস। যিনি লিভারপুল ফুটবল ক্লাব, ডালাস স্টার ও টেক্সাস রেঞ্জারসেরে মতো দলগুলোর মালিক। আর্কিটেক্ট মারিস ফাটিও কর্তৃক বাড়িটির ডিজাইন করা হয় এবং তৈরি করা হয় তার তত্ত্বাবধায়নেই। আর বাড়িটি তৈরির প্রজেক্টে প্রায় ১০০ মিলিয়ন ডলার খরচ হয়েছিল।

দ্য পিনাকেল

মূল্য: ১৫৫ মিলিয়ন ডলার

অবস্থান: মন্টানা, ইউএসএ

‘দ্য পিনাকেল; source: i.pinimg.com’

যদি আপনি পাহাড়ের পাশে এমন একটা জায়গা খুঁজে থাকেন থাকার জন্য কিংবা সেরা মানের একটা বাড়ি চান, তাহলে পিনাকেল হচ্ছে সেই জায়গা।

যদিও বাড়িটি বরফে ঘেরা অঞ্চলে অবস্থিত, তবুও এখানে থাকছে উষ্ণ মেঝে, ফায়ারপ্লেস ও আপনাকে সর্বদা দেখাশোনা করার জন্য গার্ড। বাড়িটির মালিক হচ্ছেন এডরা ও টিম ব্লিস্কিট। চাইলে আপনি ও আপনার প্রিয়জনকে নিয়ে ঘুরে আসতে পারেন কোনো এক শীতের মৌসুমে এই বাড়িটিতে।

ফ্রাঞ্চুক ভিলা

মূল্য: ১৬১ মিলিয়ন ডলার

অবস্থান: লন্ডন

‘ফ্রাঞ্চুক ভিলা; source: purbelinews.net’লন্ডনের বাড়িঘরগুলো এমনিতেই দামি বাড়ির লিস্টে অবস্থান করে, তাই বাদ যায়নি এই বাড়িটিও। যদিও এর সুযোগ-সুবিধার মূল্য গুণতে হলে আপনাকে গুনতে হবে ৫০০ মিলিয়ন ডলার পরিমাণ অর্থ, যদিও বাড়িটির দাম অতটা নয়।

বাড়িটিতে থাকছে একটি মুভি থিয়েটার, ইনডোর সুইমিং পুল; প্যানিক রুম, পারসোনাল জিমসহ আরো অনেক সুবিধা। তাই চাইলে ঘুরে আসতে পারেন লন্ডনের এই জায়গাটি থেকে।

হার্স্ট ম্যানশন

মূল্য: ১৬৫ মিলিয়ন ডলার

অবস্থান: ক্যালিফোর্নিয়া

‘হার্স্ট ম্যানশন; source: cdn.vox-cdn.com’

উইলিয়াম র‍্যানডলফ হার্স্ট ট্রাস্টের মালিকানাধীন এই বাড়িটি।

বাড়িটিতে রয়েছে ২৯টি কক্ষ, যা গডফাদার মুভিটিতে দেখানো হয়েছে। আর আমেরিকার প্রেসিডেন্ট জে. এফ. কেনেডি তার মধুচন্দ্রিমার জন্য এই বাড়িটি ব্যবহার করেছিলেন। সাধারণ মানুষের পক্ষে এই বাড়িটি কেনা কিংবা ভাড়া নেয়াটা হয়তো সম্ভব না। কিংবা একজন মধ্যবিত্তের সারাজীবনের সঞ্চয়েও হয়তো সম্ভব না, কিন্তু বিলাসিতা পছন্দকারী ব্যক্তিদের জন্যে এই বাড়িটি হয়তো কোনো ব্যাপারই না।

এলিসন এস্টেট

মূল্য: ২০০ মিলিয়ন ডলার

অবস্থান: উডসাইড, ক্যালিফোর্নিয়া

‘এলিসন এস্টেট; source: http://m.wsj.net’

বাড়িটির মালিক ল্যারি এলিসন, যিনি ওরাকলের ফাউন্ডার হিসেবে পরিচিত।

বাড়িটির পমোট জায়গার পরিমাণ ২৩ একর, যেখানে মোটমাট ১০টি দালান রয়েছে। বাড়িটি মি. ল্যারি এলিসন জাপানের সামুরাই যুগের আদলে তৈরি করেছেন। বাড়িতে পাবেন পুকুর, টি হাউজ, বাথ হাউজ ও নিজের শরীরকে বিশ্রাম ও সুস্থতা দেবার জন্য মনোরম পরিবেশ। বাড়িটিতে ঢোকার পরে আপনার মনে হবে, আপনি যেন আপনার সকল কর্মব্যস্ততা, ঝামেলা সব মুছে ফেলতে পারবেন এখানেই কারণ বাড়িটির পরিবেশ এভাবেই তৈরি করা।

কেনসিংটন প্যালেস

মূল্য: ২২২ মিলিয়ন ডলার

অবস্থান: লন্ডন

‘কেনসিংটন প্যালেস; source: www.royal.uk’

বাড়িটির মালিক লক্ষী মিত্তাল, যার আরেক নাম স্টিল ম্যাগনেট। তিনি ২০০৮ সালে এই বাড়িটি কিনেছিলেন।

দামে যাই হোক না কেন, মি. মিত্তাল বাড়িটি কিনে কোনোভাবেই ঠকেননি। কারণ বাড়িটি থেকে তিনি প্রতিবছরই লাভের অংক গুনে চলেছেন।

ফেয়ারফিল্ড

মূল্য: ২৪৮ মিলিয়ন ডলার

অবস্থান: নিউ ইয়র্ক

ফেয়ারফিল্ড; source: www.dewebsite.org

বাড়িটির মালিক ইরা লেনার্ট। বাড়িটির প্রতি বর্গফুটের দাম ২০০৭ সালের পরে মাত্র কিছু কমেছে, কিন্তু মিলিয়ন ডলার যেই সেই লোকের পক্ষে যোগাড় করাটা সম্ভব না।

ফায়ারফিল্ড নিউইয়র্কের অন্যতম একটা বড় মাপের প্রপার্টি, যার কারণে এটি যদি তালিকাভুক্ত না করা হয় তবে কিছু একটা ভুল হয়েই যাবে। এটির শক্তি সরবরাহের জন্যে আলাদা শক্তি উৎপাদন কেন্দ্রই আছে। তাহলে এবার চিন্তা করে দেখুন বাড়িটি কত বড় মাপের! বাড়িটির মোট জমির পরিমাণ ৬৩ একর, যাতে ২৯টি বেডরুমসহ আছে আরো নানান সুবিধা ও সেবা।

দ্য হোয়াইট হাউজ

মূল্য: ৩২০ মিলিয়ন ডলার

অবস্থান: ওয়াশিংটন ডি.সি

‘হোয়াইট হাউজ; source: www.whitehouse.gov’

লন্ডনের সাথে পাল্লা দিয়ে এগিয়ে চলেছে আমেরিকাও। তালিকা থেকে কোনোভাবেই সরে যাচ্ছে না তাদের বাড়িগুলোও।

আর হোয়াইট হাউজ নিশ্চয়ই চেনেন, খবর হোক কিংবা যেকোনো মাধ্যমের দ্বারাই হোক হোয়াইট হাউজের সম্পর্কে জেনে থাকবেন। যদিও ৩২০ মিলিয়ন বলা হচ্ছে তবুও বাড়িটির মূল্য এর থেকেও আরো অনেক বেশি। যদিও বাড়িটি সেরকম বড় কিংবা খুব একটা বিলাসবহুল তা কিন্তু নয়। তবুও দর্শনীয় স্থান এবং সরকার প্রধানের বাসভবন বিচারে এটির মূল্য এরকম আসাটা স্বাভাবিক।

ভিলা লিওপোল্ডা

মূল্য: ৭৩৬ মিলিয়ন ডলার

অবস্থান: ফ্রান্স

‘ভিলা লিওপোল্ড; source: amazing.zone’

আমাদের তালিকায় প্রথম বাড়ি যার দাম ৫০০ মিলিয়নের উপরে পৌঁছাল। আর হবেই বা না কেন? এটি যে ইউরোপের সবথেকে দামি ভিলাগুলোর মধ্যে একটি। ২০ একরের জমিযুক্ত এই বাড়িটির মালিক মিকেইল প্রুকোরুভ, যিনি ব্রুকলিন নেটসের মালিকও বটে। এত দামি বাড়িতে অন্যান্য বাড়ির মতো সব সুবিধা তো আছেই। সাথে থাকছে কিছু দারুণ দৃশ্য উপভোগ করার সুযোগও।

অ্যান্টিলা

মূল্য: ১ বিলিয়ন ডলার

অবস্থান: ভারত

‘অ্যান্টিলা; source: www.youngisthan.in’

আমেরিকা গেল, লন্ডন গেল, ফ্রান্স গেল এবারের যাত্রা শুরু ভারতে। আমাদের তালিকার দ্বিতীয় দামি বাড়ির সাথে। ২৭ তলা বিশিষ্ট এই বাড়িটি শুধুমাত্র একটি ফ্যামিলিরই বসবাসের জন্য তৈরি করা হয়েছে। বাড়িটির মালিক ভারতের অন্যতম ধনী ব্যক্তিত্ব মুকেশ আম্বানি। যার আয়ের ৫ শতাংশ ব্যয় করতে হয়েছে এই বাড়িটি তৈরি করতে। বাড়িটিতে প্রায় ৬০০ লোক প্রতিনিয়ত তাদের কাজ করে চলেছে বাড়িটিকে সঠিকভাবে পরিচালনা করার জন্য এবং বাড়ির বাসিন্দাদের সেবা দেয়ার জন্য।

বাকিনহাম প্যালেস

মূল্য: ১.৫৬ বিলিয়ন ডলার

অবস্থান: লন্ডন

‘বাকিনহাম প্যালেস; source: www.royal.uk’

একটা রাজকীয় প্রাসাদের দাম যদি বিলিয়ন ডলার না হয়, তবে কীসের হবে?

এই বাকিনহাম প্যালসই বর্তমানে সবচেয়ে দামি বাড়ির তালিকায় সর্বপ্রথম হিসেবে জায়গা দখল করে আছে। বাড়িটিতে লন্ডনের তথা ইংল্যান্ডের রাজপরিবারের সদস্যরা বসবাস করেন। বাড়িটিকে সেরা তালিকায় রাখার কারণ শুধু ডিজাইন কিংবা দাম নয়, এর ইতিহাস ও ঐতিহ্যও বটে। যুগ যুগ ধরে ইংল্যান্ডের রাজপরিবার এখানে বাস করে চলেছেন। তাই এর গুরুত্বও অনেক।

এই ছিল পৃথিবীর সেরা ও দামি বাড়িগুলোর তালিকা ও বিবরণ। সামনে থাকছে নতুন কিছু নিয়ে আয়োজন!

 

 

 

 

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.