রহস্য মানব মিস্টেরিও

সারা বিশ্ব এখন এন্ড গেম জ্বরে আক্রান্ত। মুক্তির মাত্র পনের দিনের মধ্যেই অ্যাভেঞ্জার্স সিরিজের চতুর্থ চলচ্চিত্রটি বিশ্বব্যাপী আয় করেছে প্রায় ২.৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এর চেয়ে বেশি অর্থ উপার্জনের রেকর্ড আছে শুধু জেমস ক্যামেরন পরিচালিত ২০০৯ সালের অ্যাভাটার চলচ্চিত্রটির।

এন্ড গেমের কিছু দিন পরেই মার্ভেল সিনেম্যাটিক ইউনিভার্সের ২৩ তম চলচ্চিত্র হিসেবে মুক্তি পাচ্ছে স্পাইডারম্যানঃ ফার ফ্রম হোম। নাম ভূমিকায় অভিনয় করছেন যথারীতি টম হল্যান্ড। মাকড়সা মানবের এবারের অভিযানে দেখা যাবে পিটার পার্কার তার বন্ধু বান্ধবদের সঙ্গে নিয়ে ইউরোপে শিক্ষা সফর করতে। আর সেখানেই তার সঙ্গে পরিচয় হবে কোয়েন্টিন বেক বা মিস্টেরিওর সঙ্গে

স্পাইডার-ম্যানঃ ফার ফ্রম হোম চলচ্চিত্রের পোস্টার; Source:
Newsweek

কমিক্সের ইতিহাসে মিস্টেরিও চরিত্রে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন মানুষকে দেখা গেলেও, সবচেয়ে বিখ্যাত বোধহয় কোয়েন্টিন বেকই। আর এই বেককেই দেখা যাবে ফার ফ্রম হোম চলচ্চিত্রে। কমিক্সের পাতায় কোয়েন্টিন বেক বা মিস্টেরিওকে প্রথম দেখা যায় ১৯৬৪ সালে প্রকাশিত অ্যামেজিং স্পাইডারম্যান কমিক্সের ১৩ নম্বর ইস্যুতে। চরিত্রটি তৈরি করেছেন কিংবদন্তিতূল্য শিল্পী স্ট্যান লী। অংকন করেছেন স্টিভ ডিটকো।

কমিক্সের পাতায় মিস্টেরিওর আগমণ; Source: Marvel.com

কমিক্সের চরিত্র হিসেবে মিস্টেরিওর বেশভূষা কিছুটা হাস্যকর লাগতে পারে। লাগবে নাই বা কেন, কটকটে সবুজ পোশাকের সাথে বেগুনী রঙের আলখাল্লা। মাথায় পরা বিশাল অর্ধাগোলাকার কাঁচের বাটি। দেখতে উদ্ভট হলেও মিস্টেরিও হলো স্পাইডার-ম্যানের সবচেয়ে বিপদজনক প্রতিপক্ষদের একজন।

ভানুমতীতে পারদর্শী মিস্টেরিও; Source:
Marvel

পেশায় কোয়েন্টিন বেক ছিল চলচ্চিত্রের স্পেশাল ইফেক্টসের শিল্পী। কিন্তু সেখানে নিজের প্রতিভার কদর না পেয়ে সুপারভিলেইন হবার সিদ্ধান্ত নেয় সে। অতিমনাবিক কোলো ক্ষমতা না থাকলেও বিভিন স্পেশাল ইফেক্ট আর কলাকৌশল দিয়ে নানা ধরণের ভ্রম সৃষ্টির মাধ্যমে স্পাইডিকে নানান ধরণের বিপদে ফেলত সে।

বেক যেহেতু একজন স্পেশাল ইফেক্টস এর শিল্পী ছিল, তাই নিজের শক্তিশালী দিকটাকেই কাজে লাগায় সে। তার তৈরি বিভিন্ন ছলনায় স্পাইডার ম্যানের মত সুপারহিরোকেও বোকা বনতে হত। স্পেশাল ইফেক্টস ছাড়াও রসায়ন, রোবোটিক্স আর হিপনোটিজমের ব্যাপারে বেকের জ্ঞান ছিল ঈর্ষণীয়। এই সমস্ত জ্ঞানকে ব্যবহার করেই এমন সব দৃশ্য উপস্থাপন করত সে, যাতে কল্পনা আর বাস্তবের ফারাক করাটা হয়ে যেত কষ্টসাধ্য। যে কারণে অনেকেই তাকে অতিমানব ভেবে ভুল করতেন।

মিস্টেরিওকে সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে স্পাইডি; Source:
ArtStation

দেখতে উদ্ভট হলেও কাজের দিক থেকে বেশ কার্যকরী মিস্টেরিওর পোশাকটি। নানান যন্ত্রপাতি আর অস্ত্রশস্ত্র লুকানো বেগুনী আলখাল্লার আড়ালের ওই সবুজ পোশাকটিতে। মাথার উপরে যে কাঁচের বাটির মত হেলমেটটি আছে সেটা শ্বাস কাজের জন্যে প্রয়োজনীয় বায়ু সরাবরাহ করে। এছাড়া নাটকীয় মুহুর্ত তৈরির জন্যে নানান গ্যাসের উৎসও ঐ বাটিটি। যেসব অস্ত্র মিস্টেরিওকে প্রায়ই ব্যাবহার করতে দেখা যায় তার মধ্যে অন্যতম হল এক ধরনের এসিড, যা স্পাইডার-ম্যানের ছুঁড়ে দেয়া জালকে পরাস্ত করতে দারুন কার্যকর।

সবুজ আর বেগুনী পোশাকে মিস্টেরিও; Source: ign.com

কমিক্সের রঙ্গিন পাতায় অভিষেকের পর থেকেই স্পাইডার-ম্যানের অভিযানে প্রায়ই দেখা যায় মিস্টেরিওকে। মাকড়সা মানবকে শায়েস্তা করতে মাঝে মাঝে একাই চেষ্টা চালায় এই ভানুমতী বিশারদ, আবার প্রায়ই তাকে সাহায্য করতো সুপার ভিলেইনদের দল সিনিস্টার সিক্স এর অন্যান্য সদস্যরা। তবে ভিলেইনদের সাহায্য নিয়ে সুবিধার চেয়ে অসুবিধাতেই বেশি পড়তে হয়েছে তাকে।

মিস্টেরিও সহ সিনিস্টার সিক্সের অন্যান্য সদস্যদের সাথে লড়ছে স্পাইডার-ম্যান; Source:
americanheritageusa.com

একবার স্পাইডার-ম্যানকে হারানোয় খুব কাছাকাছি চলে গিয়েছিলেন বেক। হিপনোটিজমের সাহায্য নিয়ে স্পাইডিকে বশীভূত করে তার মুখোশ উন্মোচনে প্ররোচিত করেন এই খলনায়ক। কিন্তু পিটার পার্কারের বস, ডেইলি বিউগল পত্রিকার সম্পাদক জে জোনাহ জেমেসনের হস্তক্ষেপে সে যাত্রায় রক্ষা পান স্পাইডার-ম্যান।

স্পাইডার-ম্যানকে হারাতে না পারলেও পাঠকদের কাছে জনপ্রিয়তায় কমতি ছিলনা মিস্টেরিওর। এজন্যে মার্ভেল ইউনিভার্সের অন্যান্য অনেক সুপারহিরোকেও তার বিরুদ্ধে লড়তে দেখা যায়। এরকমই একটি কাহিনী লেখেন কেভিন স্মিথ। জো কেসাডার আঁকা কমিক্সটির নাম ডেয়ার ডেভিলঃ গার্ডিয়ান ডেভিল।

এ গল্পে দেখা যায় নায়ক ম্যাট মারডক অদৃশ্য এক শত্রু দ্বারা প্ররোচিত হচ্ছেন। যদিও পরে মারডক ঠিকই টের পান যে এই ছল চাতুরীর পিছে আছে আসলে মিস্টেরিও।

ডেয়ার ডেভিল কাছে কুপোকাত মিস্টেরিও; Source:
pinterest.com

এরপরে আবারো স্পাইডার-ম্যানের প্রতিপক্ষ হিসেবেই দেখা যায় বেককে। নানান ধরণের কুকর্মে পাওয়া যায় তার প্রতিভার স্বাক্ষর। কুখ্যাত মাজিয়া ক্রাইম ফ্যামিলিকে সাথে নিয়ে হরেক রকম অপরাধ সংগঠন করে মিস্টেরিও। এছাড়া ধনকুবের নরম্যান অসবর্ন যখন মারা যাবার নাটক সাজান, তখন তাকেও সাহায্য করে মিস্টেরিও। এছাড়াও ডক্টর অটো অক্টেভিয়াস বা ডক অকের নতুন সিনিস্টার সিক্স দলেও তাকে ভিড়তে দেখা গেছে।

অসবর্নের সঙ্গে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত মিস্টেরিও; Source:
pinterest.com

কমিক্সের পাতায় ব্যাপক জনপ্রিয় এই চরিত্রটিকে দেখা গেছে স্পাইডার-ম্যান এর অনেক গুলো কার্টুন এবং ভিডিও গেমে। তবে বড় পর্দায় কখনোই দেখা যায় নি চরিত্রটিকে। স্পাইডার-ম্যানঃ ফার ফ্রম হোম চলচ্চিত্রটির মাধ্যমে প্রথম বারের মত রুপালী পর্দায় আসতে যাচ্ছে এই চতুর ভ্রমশিল্পী।

১৯৯৪ সালের স্পাইডার-ম্যান দি অ্যানিমেটেড সিরিজ কার্টুনটিতে মিস্টেরিও; Source:
YouTube

স্পাইডার-ম্যানঃ ফার ফ্রম চলচ্চিত্রটিতে মিস্টেরিওর ভূমিকায় অভিনয় করেছেন হলিউডের ডাকসাইটে অভিনেতা জেক গিলিয়ানহাল। ডনি ডার্কো, ব্রোকব্যাক মাউন্টেন, নাইটক্রলার, নক্টারনাল এনিম্যালসের মত চলচ্চিত্রে অভিনয় করে নিজের মুন্সীয়ানা প্রকাশ করেছেন বহুবার। আর তাই ভক্তরা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন প্রিয় তারকা কেমন করেন তা দেখতে।

মিস্টেরিও চরিত্রে জেক গিলিয়ানহাল; Source:
GamesRadar

জুলাই মাসের ২ তারিখে মুক্তির অপেক্ষায় থাকা চলচ্চিত্রটি পরিচালনা করেছেন কপ কার খ্যাত পরিচালক জন ওয়াটস। তিনি নিজেও দাবি করেছেন ভক্তরা মিস্টেরিও চরিত্রটিকে পছন্দ করবেন।

কমিক্স, কার্টুন এবং ভিডিও গেমে মিস্টেরিওকে খল চরিত্রের বদমাশরুপে দেখা গেলেও, স্পাইডার-ম্যানঃ ফার ফ্রম চলচ্চিত্রটির ট্রেইলার দেখে ভক্তরা কিছুটা ধাঁধাঁয় পরে গেছেন। ট্রেইলারটিতে দেখা যায় স্পাইডার-ম্যানের বন্ধু হিসেবে এলিমেন্টালস নামক অতিমানবিক শক্তি সম্পন্ন এক দল তরুণের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেন কোয়েন্টিন বেক। সে কি আসলেই শেষ পর্যন্ত বন্ধু থাকবেন নাকি এটিও মিস্টেরিওর কোন ভানুমতী তা জানতে ভক্তদের অপেক্ষা করতে হবে জুলাই মাসের ২ তারিখ পর্যন্ত।

Featur Image:Wallpaper Cave

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.