ঋতু পরিবর্তনের সময় পোশাক পরিচ্ছদ

আজ সকালে প্রতিদিনের চেয়ে দুই ঘণ্টা আগে বেরোতে হবে। বাইরে যেন ঠাণ্ডাটা একটু বেশিই মনে হচ্ছে। তাই সাত-পাঁচ না ভেবেই একটা গরম কাপড় গায়ে জড়িয়ে বেরিয়ে গেলেন। প্রেজেন্টেশনের সময় প্রায় দুপুরের দিকে। প্রেজেন্টেশনের জন্য উঠে দাঁড়াতেই বুঝতে পারলেন ঘাম বেয়ে পড়ছে আপনার সারা শরীরে। এখন গরম কাপড় খুলে রাখার মতো অবস্থা নেই, গরম বাড়তে বাড়তে এক পর্যায় বাধ্য হয়ে বিরতি নিতে হলো আপনাকে! কী যে বিব্রতকর অবস্থা!

আজ তো রোদ ওঠার কথা ছিলো না! Source: Aran Islands Knitwear

সকালে হিম ঠাণ্ডা বাতাস, দুপুরে বারোটা বাজতে না বাজতেই রোদ, বিকেল হতে হতে আবহাওয়া আবার ম্যাজম্যাজে, শান্ত সন্ধ্যা আর হালকা কুয়াশার রাত, এভাবেই এখন ২৪ ঘণ্টা পেরোচ্ছে আমাদের সবার। আবহাওয়া এখন স্থির নয় একদমই। প্রতি মুহূর্তে এতো বেশি তাপমাত্রার পরিবর্তন হচ্ছে যে সারাদিনের জন্য তৈরি হয়ে কোনো পোশাক বেছে নেয়া যাচ্ছে না। সকালে হয়তো গরম কাপড় জড়িয়ে বেরোলেন, ঠিক দুপুরেই আবার দরদর করে ঘামছেন, কী যন্ত্রণা!

কী পরবেন তা বাছাই করা মুশকিল! Source: PopSugar

আমাদের আজকের আয়োজন ঠিক এই সময়গুলোতে আপনার সারাদিনের পোশাক এবং আপনার বাড়তি প্রস্তুতি কেমন হতে পারে তা নিয়েই। শীত এবং শরতের মাঝামাঝি এই সময়ের জন্য আসলে বাজারে তেমন কোনো পোশাকও পাওয়া যায় না। এমন মিশেল আবহাওয়ার জন্য পোশাক বেছে নিতে হবে আপনাকেই।

কেমন ধরনের পোশাক মূলত প্রয়োজন

এই সময়ে আপনি খুব বেশি ঠাণ্ডা বা খুব বেশি গরমের মুখোমুখি সহসা হবেন না বলা যায়। তাই আগেই ভারি কাপড় বা পাতলা কাপড় তালিকা থেকে বাদ দিয়ে দিন। এই সময়ে আসলে মিলিয়ে কাপড় পরা ভালো। যেমন হয়তো আপনার একটি পাতলা ফুল তোলা সুন্দর কামিজ আছে, তার সাথে আপনি একটি সুতির কোটি বা পাতলা হাফ হাতা এবং বুক ফাড়া কোনো পোশাক পরে নিতে পারেন।

এতে করে গরম লাগলে আপনি সেটা সহজেই খুলে ফেলতে পারেন। শার্টের ক্ষেত্রে ভেতরে পাতলা হাফ হাতা গেঞ্জি এবং যারা টি-শার্ট পরে যাতায়াত করেন তারা সঙ্গে করে একটি শার্ট রাখতে পারেন যেন হঠাৎ ঠাণ্ডা বাতাস বইতে শুরু করলে আপনি তা গায়ে জড়িয়ে নিতে পারেন। তবে যাই বেছে নিন না কেন চেষ্টা করবেন যেন তা বুক ফাড়া বা সামনে বোতাম থাকে।

আলাদা করে ফেলুন কাপড়গুলো; Source: Time.com

শার্ট বা কোটি পরতে না চাইলে পাতলা নরম শালও ব্যবহার করতে পারেন। ব্যস, এক ঝটকায় খুলে বা পরে নেয়া যাবে।

যেভাবে কাপড় সাজাবেন

যেমনটা আগেই বলে এসেছি, তালিকা থেকে খুব ভারী বা খুব পাতলা পোশাক বাদ দিয়ে দিন। কাপড়ের তাকে সাজান সুতি, কটন গেঞ্জি বা ভয়েল কাপড় দিয়ে। এই ধরনের পোশাকের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো এর উপরে চাইলেই আপনি কিছু একটা জড়িয়ে নিয়ে বা কাপড়ের নিচে আরেকটা কাপড় পরে নিয়ে তাপমাত্রা সহজেই নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন। রং অনুযায়ী কাপড় আলাদা করে রাখুন। দিনের বেলায় হালকা রঙ এবং রাতে গাঢ় রঙের পোশাক পরুন।

লেয়ারিং

একটির উপর আরেকটি পোশাক জড়ানোর স্টাইলকে লেয়ারিং বলা হয়। লেয়ারিং সুন্দর হলে আপনার ফ্যাশনে বিচিত্রতা আসবে। তাই লেয়ারিং এর জন্য কাপড় বুঝে শুনে বেছে নিন।

চেক শার্ট পরতে পারেন একরঙা গেঞ্জির উপরে; Source: The Idle Man

যেমন কালো শার্ট কিংবা সাদা শার্ট আপনি যে কোনো গাঢ় বা হালকা রঙের সাথে মিলিয়ে পরে নিতে পারবেন। তবে যখন আপনার কোনো চেক শার্ট বা চেক শাল অথবা বাহারি ফুল তোলা কোটি পরার সময় আসবে, তখন পরনের পোশাকটি যেন খুব সাধারণ ডিজাইনের হয় সেদিকে আপনার লক্ষ্য রাখতে হবে। নতুবা পুরোটা মিলে একরকম জগাখিচুড়ি পাকিয়ে যাবে। তেমনিভাবে বেছে নিতে পারেন আপনার চকমকে রঙের পোশাকটির জন্য একরঙা শার্ট বা কোটি।

পরতে পারেন উল্টোটাও; Source: Just A Tina Bit

শালের ব্যাপারেও পছন্দ সম্পূর্ণ আপনার। তবে একই শেডের শাল না পরে বরং পোশাকের রঙের ঠিক উল্টো (কনট্রাস্ট) শেডের শাল পরলে চমৎকার মানাবে।

শালের পছন্দটা শুধুই আপনার; Source: Highgrove Gardens

আনুষঙ্গিক প্রস্তুতি

এমন আবহাওয়ায় ত্বক খুব সহজেই রুক্ষ হয়ে যায়। কারণ স্বাভাবিকভাবে বাতাস আর্দ্র মনে হলেও সেটা আসলে ঠাণ্ডা বাতাসের জন্য মনে হয়। প্রকৃতপক্ষে এই সময়ে বাতাসে জলীয় বাষ্প খুম কম থাকে, তাই সহজেই ত্বক রুক্ষ হয়ে যায়।

লোশন-ক্রিম হোক নিত্যসঙ্গী; Source: Dudette’s Talk – WordPress.com

এই সময়ে ঠোঁট, গালের নরম মাংস, নাকের ভাঁজ, কনুই, পায়ের গোড়ালি ইত্যাদি খুব রুক্ষ, খসখসে এমনকি ফেটেও যায়। প্রতিদিন বেরোবার সময় ব্যবহার করতে পারেন লোশন ও গ্লিসারিন। ঠোঁট, কনুই ও পায়ের গোড়ালির জন্য বাড়তি সুরক্ষা দিয়ে ব্যবহার করতে পারেন ভেসলিন। জুতা-মোজা পরে বেরোতে পারলে পায়ের ত্বকে আর্দ্রতা বজায় থাকবে। তবুও যদি এখনি আপনি জুতা-মোজার জন্য তৈরি না হতে পারেন তাহলে সাথে করে ভেসলিন বহন করুন। বাহির থেকে অফিসে ঢুকে পায়ে একটু ভেসলিন বুলিয়ে নিন।

ভেসলিন যখন ‘লাইফ সেভার’ ;Source: Shopee

ঠোঁট ফেটে গেলে জিহবা দিয়ে ঠোঁট ভেজাবেন না। বরং ব্যবহার করুন ভালো লিপবাম। সাথে আরও রাখতে পারেন পাতলা কাপড়ের মাফলার। কানে বা গলায় ঠাণ্ডা বাতাস লাগা থেকে বাঁচাতে জড়িয়ে নিন সেটি।

খুসখুসে কাশি যখন কাম্য নয়; Source: Myntra

সাথে আরও যা রাখতে পারেন সেটি হলো মাস্ক। বাতাসের শুষ্কতায় রাস্তার প্রচুর ধূলা-বালি হয় বছরের এই সময়টায়। তাই মাস্ক পরে বেরোন বা সাথে রাখুন।

বছরে তো ঋতু পরিবর্তন হবেই। তাই বলে কি বাইরে ঘোরাঘুরি বা বন্ধু-বান্ধবীর সাথে দেখা করার সুযোগ হারানো যায়? কখনওই না! ঋতুর সাথে সাথে আপনার ফ্যাশনে পরিবর্তন এনে যেকোনো আবহাওয়াতেই আপনি থাকুন একদম ফিট!

Feature image source: Right Now Air

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.