পড়াশোনা বা কাজের একঘেয়েমি কাটিয়ে উঠুন কিছু সামগ্রী দিয়ে

OLYMPUS DIGITAL CAMERA

স্কুল, কলেজ, ভার্সিটি বা অফিস খুলে গিয়েছে কিন্তু এখনও ছুটির আমেজ কাটেনি এমনটি আমাদের সবার সাথেই কমবেশি বহুবার ঘটেছে। তখন মনে হয়, ক্লাস করা বা ফিরে অ্যাসাইনমেন্ট করা, হোমওয়ার্ক করা বা প্রজেক্ট করা, কিংবা ৮ ঘণ্টা কাজ করার মত বিরক্তির কাজ বুঝি আর দ্বিতীয়টি নেই। কিন্তু একজন ছাত্র বা ছাত্রীর জন্য পড়াশুনাই প্রথম এবং প্রধান কাজ আর বস তো কাজ আদায় করেই নিবেন। তাই এই কাজে ফাঁকি কিছুতেই চলবে না। কিন্তু মনের বিরুদ্ধে গিয়ে কি আর পড়াশুনা হয়, কাজে কি সফলতা আসে?

আসে না, তবে মনকে প্রস্তুত করে তুলতে কিছু বুদ্ধি কাজে লাগানোই যায় যা কাজকেও আনন্দদায়ক করে তুলবে। আজকে আমরা বেশ কিছু সামগ্রী নিয়ে আলোচনা করবো যেগুলোকে সঙ্গী করে আপনি আপনার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বা কর্মস্থলে নিজের উপস্থিতিকে আনন্দদায়ক করে তুলতে পারেন।

১. একটি সুন্দর ব্যাগ

যদি আপনি আপনার যাতায়াতের সঙ্গী হিসাবে একটি সুন্দর ব্যাগ বেছে নিতে পারেন। তাহলে ব্যাগটা দেখেই মন চনমনে হয়ে উঠবে। মনে হবে, ব্যাগটা কাঁধে নিয়েই বেরিয়ে পড়ি কোথাও। এই উৎসাহকে কাজে লাগিয়ে আপনি প্রতিদিন বেরোতে পারেন ক্লাস বা অফিসের উদ্দেশ্যে এবং প্রতিদিনের একঘেয়ে রুটিনে যোগ করতে পারেন একটু রঙিন ছোঁয়া! এই রঙিন ব্যাগে ভরে ফেলুন সব প্রয়োজনীয় বইখাতা বা কাগজপত্র এবং রঙের ভিড়েই চাপা পড়ে যাক আপনার খারাপ লাগা!

সুন্দর একটি ব্যাগ হোক আপনার সঙ্গী; Source: Ramsey Design

২. এক টুকরা সুর

এক জোড়া ব্লুটুথ হেডফোন আপনার চলার পথকে আরও মজার করে তুলতে পারে। এতে তার পেঁচিয়ে যাবার ঝামেলাও থাকে না। বাসে, রিক্সায়, চলার পথে যেকোনো সময় গলায় ঝুলিয়ে নিন আপনার পছন্দের হেডফোনটি এবং গান শুনতে শুনতে এগিয়ে যান বিদ্যা বা খ্যাতি অর্জনের পথে।

ঝামেলাবিহীন সুরের সঙ্গী; Source: JBLaudio

৩. ছবি তোলা হোক নেশা

ছবি তুলতে পছন্দ করেন? তাহলে তো কথাই নেই! ঘণ্টাখানেক সময় হাতে রেখেই বেরিয়ে পড়ুন গন্তব্যের জন্য। যেতে যেতে তুলুন অসংখ্য ছবি! আপনার শখই হোক আপনার আনন্দের উৎস। ক্যামেরায় বন্দি করে নিন পছন্দের ছবিগুলো এবং অবসর সময় সাজিয়ে ফেলুন আপনার অ্যালবামটি।

ক্যামেরা বন্দি হোক সব অনুভূতি; Source: BestBuy

৪. রঙে রাঙিয়ে তুলুন ভুবন

ক্লাসের ফাঁকে অবসর সময়টিকে কাজে লাগান আপনার মনের মত করে। এক্ষেত্রে এক বক্স মার্কার হতে পারে আপনার যোগ্য সঙ্গী। কাঠপেন্সিল বা রংতুলি বহন করার চেয়ে এক বক্স মার্কার বহন করে দুটির কাজই একবারে করতে পারেন। ছবি আঁকার টানে হলেও স্কুল আপনাকে ঠিকই টানবে! আবার অফিসের কাজের ফাঁকে ১০/১৫ মিনিট বিরতি নিয়ে ছোটখাটো একটা ছবিও এঁকে ফেলতে পারেন।

এক বক্স মার্কার; Source: Ryman

৫. ম্যাগনেট কলমদানি

বারবার কলম পেন্সিল হারিয়ে ক্লান্ত আপনার জন্য অ্যামাজনে রাখা আছে এই কলমদানি। এতেই কলম পেন্সিল সংরক্ষণ করুন এবং দেখুন,আপনি চাইলেও আর হারাতে পারছেন না শখের কলম পেন্সিলগুলো।

কলমদানিতে কাগজ মুড়িয়ে দিতে পারেন নতুনত্ব; Source: Cut plus Keep

৬. কফির চুমুক

যদি কফির চুমুক আপনার সকালে ঘুমের নেশা কাটাতে পারে, তাহলে কিনে ফেলুন একটি কফি মেশিন। এক চুমুক কফিতে শুরু হোক আপনার দিন। এছাড়া রাত জেগে পড়াশুনার জন্য বা প্রজেক্ট তৈরিতে কতবারই তো মনে হয়, আহা এক কাপ কফি পাওয়া যেত! কিন্তু হয়তোবা বাতি জ্বালিয়ে ঘরের কাউকে সজাগ করার কিংবা  পাতিলে পানি ফুটিয়ে তারপর কফি বানানোর ইচ্ছেটা আপনার হয়নি। অতঃপর ঘুম ঘুম চোখে আপনার কাজ সমাপ্ত হয় এবং পরদিন ঢুলে ঢুলে সময় কাটে আপনার। রুমেই একটি কফি মেশিন থাকলে এই সমস্যার মুক্তি মেলে সহজেই।

কফি মেশিন আপনাকে দিক বাড়তি চনমনতা; Source: Connections At home

৭. গান চলুক অবিরাম

অনেকেই আছেন যারা গান শুনতে শুনতে পড়াশুনা করতে ভালবাসেন। কারো কারো তো গান ছাড়া অংকই মিলতে চায় না! তাদের জন্য সুখবর। অ্যামাজন থেকে সংগ্রহ করুন এই সাউন্ডবক্স এবং গান চলুক অবিরাম।

ছোটো হলে বহনও করতে পারবেন যে কোনো জায়গায়; Source: Philips

৮. বাড়তি শেলফ

বইখাতা অগোছালো থাকলে এমনিই পড়ার দিকে মন টানে না। ওই অগোছালো বই ঠিকঠাক করে পড়তে বসতেই অনেক সময় দেরি হয়ে যায়। কিন্তু অনেকেই এমন আছেন যারা অনেকগুলো বই খাতা একসঙ্গে নিয়ে পড়তে বসেন অথবা নোট করার জন্য একসাথে চার পাঁচটা বই লাগেই। তাদের জন্য এই বাড়তি স্ট্যান্ড শেলফ বিনা ঝামেলায় একটু বেশি জায়গা করে দিবে। আবার অফিসেও আপনার যত্নে রাখা কাগজপত্র গুছিয়ে রাখতে পারেন এতে। পড়াশুনা এবং কাজ হোক নির্ঝঞ্ঝাট!

একটু বাড়তি জায়গা, অনেকখানি স্বস্তি; Source: Amazon

৯. ব্যস্ততার সঙ্গী নোটবুক

পড়াশুনা, অফিসের কাজ, বাসার বাজারটা আরও কী কী যেন আজকের কাজের তালিকায়! আধা ঘণ্টা মাথা চুলকেও কিছুতেই মনে করতে পারলেন না। আবার আজ কী বইয়ের নাম যেন স্যার বলেছিলেন। রাইটারের নামটা এত কাঠখোট্টা ছিল যে পুরো নাম তো দূরে থাক, একটা অক্ষরও মনে পড়ছে না। পরিস্থিতি পরিচিত লাগছে? লাগাটাই স্বাভাবিক। এমন পরিস্থিতির সম্মুখীন হোন নি এমন মানুষ বোধ হয় খুঁজেই পাওয়া যাবে না। এই অবস্থায় আপনার সঙ্গী হতে পারে একটি সুন্দর মলাটের নোটবুক। নোটবুকে রোজ টুকে রাখুন প্রয়োজনীয় সব ছোটোখাটো বিষয়গুলো। মস্তিষ্ক এবার ছুটি কাটাক।

সুন্দর পাতাগুলো আপনাকে এমনিই টানবে; Source: Claire’s

১০. টেবিলে জ্বলুক হালকা আলো

পড়াশুনার মাঝে একটু বিরতি তো দরকার হয়ই। গান শোনার সরঞ্জাম, গুছানো টেবিল সবই আছে শুধু আলোটা যদি একটু নিষ্প্রভ হত পরিবেশটাই জমে উঠতো। তবে আর কী! সঙ্গী করে নিন পছন্দমত একটি টেবিল ল্যাম্প। প্রয়োজনে বাক্সে থাকা মার্কার দিয়ে রাঙিয়ে তুলুন ল্যাম্পশেড।

হালকা আলোয় অবসর; Source: CrowdyHouse

পড়াশুনার বা কাজের সময়টা কারোই খুব একটা ভালো কাটে না। কিন্তু তবুও যেহেতু এগুলো জীবনের অপরিহার্য অংশ তাই এই সময়টাতেও মনকে বিনোদন দিন। আনন্দময় হোক আপনার একঘেয়ে সময়গুলোও!

ফিচার ইমেজ সোর্স – Grup-pamsa.cat

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.