ফেরারি গাড়ির অজানা তথ্য

১৩ সেপ্টেম্বর ১৯৩৯ সাল। ইতালিতে জন্ম নেয় এক গতিদানব, যার লোগোতেই দেখা মেলে সেই গতির। কি, বুঝতে পারছেন না কার কথা বলছি? বলছি, একটি গাড়ির কথা। যাকে বিশ্বব্যাপী সবাই এক নামে চেনে আর সেই নামটি হলো ফেরারি। যাকে আরেক গতিদানব বলা যেতে পারে।

মি. এনজো ফেরারির হাত ধরে ১৯৩৯ সালে যাত্রা শুরু করে এই ফেরারি, যারা কিনা স্পোর্টস, রেসিং এবং বিলাসবহুল গাড়িগুলো তৈরি করে থাকে। ফেরারি বা ফেরারি এন.ভি. এর সদর দপ্তর নেদারল্যান্ডের আমস্টারডামে এবং ইতালির মারানিলোতে অবস্থিত। কোম্পানিটির বর্তমান চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করছেন মি. জন এলকান, ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে আছেন পিয়েরো ফেরারি এবং প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে যুক্ত আছেন মি. লুইস কামিলরি।

সর্বশেষ আপডেট অনুযায়ী কোম্পানি এপর্যন্ত ৮০১৪টি গাড়ি তৈরি করেছে এবং তাদের আইয়ের পরিমাণ ৩.০১৫ বিলিয়ন ইউরো। আর এই কোম্পানিটিতে গাড়ি তৈরির জন্য কাজ করে যাচ্ছে ৩১১৫ জন কর্মকর্তা। স্কুডেরিয়া ফেরারি এস.পি.এ নামের তাদের একটি অঙ্গপ্রতিষ্ঠানও রয়েছে।

চলুন জানি, তাহলে এই ফেরারির কিছু অজানা তথ্য সম্পর্কে।

এনজো ফেরারি ও রেসের জগত

‘এনজো ফেরারি; source: www.alux.com’

যদিও মি. ফেরারি ২০ বছর বয়সে রেসের ময়দানে পা রাখেন, তবুও তিনি এই স্বপ্ন ১০ বছর বয়স থেকে লালন করতেন নিজের মধ্যে।

এনজো ফেরারি ও কর্মজীবন

‘স্কুডেরিয়া ফেরারির লোগো; source: www.alux.com’

মি. এনজো ফেরারি একজন মেকানিক ও রেসার হিসেবে আলফা রোমেরোতে যোগদান করেন এবং অনেকের সাথে মিলে একটি পরিচিত রেসিং টিম/দল গড়ে তোলেন।

ফেরারির লোগো

‘ফেরারির লোগো; source: alux.com’

ফ্রান্সিসকো বারাক্কা নামের একজন পাইলট ছিলেন, যিনি কিনা তাঁর বিমানে ঘোড়ার চিহ্নযুক্ত একটি নিদর্শন রাখতেন। তিনি প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় মারা যান এবং মি. ফেরারি তাঁর মায়ের সাথে দেখা করেন। তখন সেই পাইলটের মা মি. ফেরারিকে গাড়ির লোগোতে একটি ঘোড়ার চিহ্ন রাখার প্রস্তাব করেন। যা কিনা ভালো ভাগ্যের প্রতীক হিসেবে কাজ করবে।

এনজো ও প্রতিযোগিতা

‘মি. এনজো ও একজন রেসার; source: alux.com

মি. এনজো খুব বেশি পরিমাণে প্রতিযোগিতার প্রতি (গাড়ির রেস) আগ্রহী ছিলেন। কারণ তিনি মনে করতেন প্রতিযোগিতা থেকেই ভালো ভালো লোকেরা বেরিয়ে আসে।

ফেরারি ও পৃথিবীর সবথেকে দামী গাড়ি

‘ফেরারি ২৫০ জিটিও; source: www.alux.com’

২০১৫ সালের আপডেট অনুযায়ী, ফেরারি জিটিও ২৫০ হচ্ছে পৃথিবির অন্যতম দামী গাড়ি। যার দাম ৩৮ মিলিয়ন ডলার।

এনজো ফেরারির বিদায়

‘মি. ফেরারি; source: www.alux.com’

মি. ফেরারি ১৯৮৮ সালে ৯০ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছিলেন এবং তিনি ঘুমের মধ্যেই মৃত্যুবরণ করেছিলেন।

ফেরারির সভাপতিত্ব

‘লুকা ডি মল্টেজেমোলো; source: www.alux.com’

বর্তমানে কোম্পানির সাবেক সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন মি. লুকা ডি মল্টেজেমোলো তিনি ছিলেন মি. এনজো ফেরারির নিজস্ব সহকারী।

ফেরারির ভাড়া

‘ফেরারি গাড়ি; source: www.alux.com’

আপনি যদি এতটাই সামর্থ্যবান না হোন, তাহলেও চিন্তার বিষয় নেই। আপনি ইচ্ছে করলে একটা ফেরারি ভাড়া নিতে পারবেন ঠিকই। আর এরজন্য প্রয়োজন পড়বে ২৫ হাজার রুবেল পরিমাণ অর্থ (এক দিনের জন্য)। আর প্রয়োজন হবে পেঙ্গুইন অটো প্রতিষ্ঠানটির। কারণ তারাই গাড়িটি আপনাকে ভাড়া দেবে।

ফর্মূলা ওয়ান রেস ও ফেরারি

‘এফ ওয়ান রেস; source: www.alux.com’

২০১০ সালের এফ ওয়ান রেস ফেরারির ইতিহাসের জন্য এক কলঙ্কজনক অধ্যায়। কারণ এই রেসে ফেরারি মাত্র আট পয়েন্ট জোগাড় করতে পেরেছিল।

মি. এনজো ও তাঁর স্ত্রী

‘মি. এনজো ও অন্যান্য গণ্যমান ব্যক্তি; source: www.alux.com’

১৯৬১ সাল, কোম্পানির মাঝে নেমে এলো এক ঝড়, প্রাকৃতিক কিছু নয়, মনুষ্য সৃষ্ট ঝড়। ফেরারি কোম্পানি মুখোমুখি হলো বিরাট এক অর্থ সংকটের। আর এর কারণ হিসেবে ছিল মি. ফেরারির স্ত্রী। যার ব্যবসায় নাক ডুবানোটা ভালোভাবে নিতে পারেনি মি. ফেরারির অন্যান্য সহযোগীরা। তাই খুব শীঘ্রই তাদের ব্যবসায়িক সম্পর্কে টানাপোড়ন শুরু হয়।

ফোর্ড কর্তৃক ফেরারি কিনে নেয়া

‘ফোর্ড বনাম ফেরারি; source: www.alux.com’

একবার মি. ফেরারি ঘোষণা দিয়েছিলেন, ফেরারি কোম্পানিকে বিক্রি করে দেবেন। তা শুনে মি. ফোর্ড উঠে-পড়ে লেগেছিলেন ফেরারি কোম্পানিকে কিনে নেয়ার জন্যে। এর পেছনে বহু অর্থও ব্যয় করেছিলেন। কিন্তু শেষদিকে এসে, মি. ফেরারি তাঁর কোম্পানির মর্মার্থ বুঝতে পারেন এবং কোম্পানি বিক্রির ঘোষণা বাদ দিয়ে দেন।

ফেরারি বনাম ল্যাম্বোরগিনি

‘মি. ল্যাম্বোরগিনি; source: www.alux.com’

মি. ফেরুসসিও ল্যাম্বোরগিনি প্রথম যখন ফেরারি কেনেন। কেনার পরে তাঁর মোটেও গাড়িটির সেবা পছন্দ হয়নি। এ থেকেই শুরু হয় মি. ফেরারি ও মি. ল্যাম্বোরগিনির মধ্যে প্রতিযোগিতা। আর জন্ম নেয় আরেকটি গতিদানব। যার নাম ল্যাম্বোরগিনি।

ফেরারির আরেক নিন্দুক

‘মি. শেবলি; source: www.alux.com

ফেরারিকে যে শুধু মি. ল্যাম্বোরগিনি খারাপ চোখে দেখতেন, তা নয়। তাকে ঘৃণার চোখে দেখতেন মি. শেবলি। যিনি কিনা আগে ফেরারি কোম্পানিতেই কাজ করতেন আর তখনও শেবলি নামক গাড়ির প্রচলন হয়নি। কিন্তু যখন মি. শেবলির এক অত্যন্ত ঘনিষ্ট বন্ধু মারা যান রেসিং এর ময়দানে (ফেরারি গাড়ি ব্যবহার করে রেস খেলেছিলেন), তখন তিনি ফেরারি কোম্পানি থেকে সেচ্ছায় অব্যাহতি নিয়ে নেন এবং এই দুর্ঘটনার জন্য মি. ফেরারিকে দায়ী করেন।

অ্যারোডায়নামিক ডিজাইন ও ফেরারি

‘এফ ৪০ মডেল; source: www.alux.com’

মি. ফেরারি একবার নিজেই বলেছিলেন, অ্যারোডায়নামিক ডিজাইন হচ্ছে তাদের জন্য যারা ইঞ্জিনই তৈরি করতে পারে না। কিন্তু পরবর্তীতে তিনি যখন এফ ৪০ মডেলটি বাজারে আনেন, সেটিতে তখনকার সময়ের সবথেকে ভালো মানের অ্যারোডায়নামিক ডিজাইন করা হয়েছিল।

মি. ফেরারি যেমন ছিলেন

‘মি. ফেরারি; source: www.alux.com’

মি. ফেরারি খুবই শৌখিন মানের মানুষ ছিলেন। ছবি দিতে হলে অবশ্যই তাঁর সেরা-হাসিখুশি থাকা ছবিগুলো দিতেন। আর ইন্টারভিউ কিংবা জনসম্মুখে শো কিংবা উদ্ধোধন কাজের সময় কোট, টাই, স্যুট আর সানগ্লাস পরতে ভুলতেন না।

তবে তাঁর চিফ ডিজাইনার একবার তাঁর সম্পর্কে বলেছিলেন, “মি. এনজো ফেরারি একজন ব্যবসায়ী হিসেবে খুব ভালো, কিন্তু মানুষ হিসেবে জিরো।”

প্রথম স্বয়ংক্রিয় গিয়ারবক্সযুক্ত গাড়ি

‘৪০০ জিটি মডেল; source: www.alux.com’

এটি ছিল ফেরারির ৪০০ জিটি মডেল, যাতে ছিল স্বয়ংক্রিয় গিয়ারবক্স।

এনজো ফেরারি

‘এনজো ফেরারি মডেল; source: www.alux.com’

না, মি. ফেরারির কথা বলছি না, বলছি তাদের কোম্পানির সেরা গাড়িটির কথা, যা হচ্ছে ফেরারি এনজো মডেল, যেটি ৬০০ অশ্বক্ষমতা সম্পন্ন ছিল।

প্রথম গাড়ি

‘১২৫ এস মডেল; source: www.alux.com’

এটি ছিল ফেরারির প্রথম মডেলের গাড়ি, যা সর্বপ্রথম বাজারজাত করা হয়েছিল। মডেল: ১২৫ এস।

এই ছিল ফেরারি গাড়ি নিয়ে অজানা কিছু তথ্য। এরপরে থাকছে আরো কিছু গাড়ির অজানা তথ্য নিয়ে আয়োজন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.