হাইকিং ব্যাগ কেনার আগে যে ৭টি বিষয় দেখা জরুরী

ক্যালেন্ডারের পাতা ঘুরে আবারো চলে আসছে নভেম্বর ডিসেম্বরের শীতকাল। বছরের শেষাশেষি, শীতটা পড়তে শুরু করবে। হাতে জমে যাবে কিছু সময়। ট্যুর বা হাইকিং এর সেরা সময় প্রায় আসতে চলেছে। ট্যুর পরিকল্পনাও হয়ত করতে শুরু করেছেন অনেকে। আর এই প্ল্যানের একটা বড় অংশ ব্যাগ। ব্যাগ হওয়া চাই যা সইতে পারবে ট্যুরের বড় সব ধাক্কা। সেই সাথে যা আপনার সব জিনিসের জন্য প্রচুর জায়গা দিবে।

হাইকিং বা ট্যুর ব্যাগ তাই কিনতে হবে অনেকটা ভেবে। চোখ কান খোলা রেখে। ব্যাগ কেনার আগে দেখে নিন নিচের সাতটি ব্যাপারে পছন্দের ব্যাগটি হ্যাঁ বলছে কিনা

১. ওজন

হাইকিং এর সময় আপনার তাবু খাটানো কিংবা স্লিপিং ব্যাগ থাকলে সেটাই হবে আপনার জন্য সবচে ভারি বস্তু। কিংবা তাবু বা স্লিপিং ব্যাগ না থাকলেও হাইকিং এ আপনাকে নিতে হবে অনেক কিছুই। ব্যাগের বাড়তি ওজন তাই আপনার ট্যুরে দেখা দিবে বাড়তি ঝামেলা হিসেবে। তাই চেষ্টা করুন যথাসম্ভব হালকা ব্যাগ কেনার।

ব্যাগের ওজন যথাসম্ভব কম রাখুন; Image source : outdoorrevival.com

সাধারণত ‘কিউবেন ফাইবার’ দিয়ে বানানো ব্যাগের ওজন বেশ হালকা হয়। হালকা ব্যাগের কারণে হাঁটার ক্লান্তির ভার বেশ কমে আসবে। এছাড়া যাত্রাপথে পাহাড়ি চড়াই থাকলে ভারি ব্যাগ হতে পারে মাথাব্যাথার কারণ।

২. দাম

একটা বিজ্ঞাপনে প্রবীণ অভিনেতা আবুল হায়াৎ বলেন, “জিনিস যেটা ভালো দাম তার একটু বেশি।” ট্যুর হয়তো বছরে দুটা বা তিনটা করবেন। আর একবছরেই কি সব শেষ? একই ব্যাগে আপনি নিশ্চয় বেশ কয়েকবছর নিশ্চিন্ত থাকতে চাইবেন। তাই ব্যাগ কেনার আগে নিজের বাজেট একটু বাড়িয়ে নিন। ভাল ব্যাকপ্যাক কেনার সময় বাড়তি কিছু অর্থ গেলেও নিশ্চিত করুন আপনার ব্যাগের জন্য যথার্থ খরচই আপনি করছেন

ব্যাগের দামের চেয়ে গুণে নজর দিন; Image source : unsplash.com

তবে বেশি টাকা মানেই ভাল ব্যাগ নয়। এক্ষেত্রে আপনাকে ব্যাগের ব্র‍্যান্ডের দিকেও খেয়াল করা দরকার। ব্র‍্যান্ডভেদে একই ব্যাগের নানা রকমের দাম আপনি পাবেন। মাথায় রাখবেন ট্যুর ব্যাগ বেশ ঝক্কিঝামেলা বহন করতে সক্ষম। দামটাও তাই বেশ ঝামেলাপূর্ণ ইস্যু।

৩. ব্যাগের গঠন

যেহেতু হালকা একটা ব্যাগ কেনার কথা আপনার মনে রয়েছে তাই এমন ব্যাগ বেছে নিন যার ওজন হবে কম। সেই সাথে ব্যাগ হবে যুগোপযোগী এবং সুন্দর ডিজাইনের।

আপনার সাথে নেয়ার জিনিসপত্র বেশি হলে আপনার উচিত এমন ব্যাগ কেনা যার ভিতরের কাঠামো অন্যান্য সাধারণ ব্যাগের তুলনায় খানিক শক্ত হবে। এক্ষেত্রে অবশ্য ব্যাগের ওজন খানিক বাড়তি হবে। তবে ব্যাগের এক্সট্রা প্যাডিং আপনাকে স্বস্তি দিতে পারে। সেটাও আপনি বিবেচনায় রাখতে পারেন।

ব্যাগের গঠন হওযা চাই শক্তপোক্ত; Image source : unsplash.com

ব্যাগের প্যাডিং কোথায় প্রয়োজন সেটাও জেনে নেয়া দরকার। দুই কাঁধে, কোমরের দুই পাশে প্যাড আবশ্যক। এছাড়া কোমরের বেল্টের খানিকটা যদি প্যাডিং যুক্ত হয় তবে তা হবে বাড়তি বোনাস।

 

৪. ব্যাগের উপাদান

সাধারণত হাইকিং ব্যাগের মূল উপকরণ হয় দুটি। প্রথমত, ‘কিউবেন ফাইবার’ যা হালকা তবে দাম খানিক বেশি। অন্যদিকে আছে ‘রিপস্টপ নাইলন’ যা ওজনে ভারী হলে তুলনামূলক কম দামের মাঝে পাওয়া যাবে। দুটোই আপনাকে দীর্ঘস্থায়ী ব্যাগের নিশ্চয়তা দিবে। তাই নিশ্চিন্তে ব্যবহার করতে পারেন। তাই ব্যাগ কেনার সময় অবশ্যই ব্যাগ তৈরির উপাদান নিয়ে জেনে নেবার চেষ্টা করবেন।

 

সেই সাথে আরেকটা দিক জানা দরকার। আপনার ব্যাগ কি ‘ওয়াটারপ্রুফ’? ওয়াটারপ্রুফ না হলে ব্যাগের সবদিক যতই সায় দিক না বলাই বাঞ্ছনীয়। আবহাওয়ার উপর হাত দেয়া চলে না। তাছাড়া যাত্রাপথে থাকতে পারে জলা জায়গা। ওয়াটারপ্রুফ না হলে বাড়তি বিপত্তি একদমই নিশ্চিত।

 

৫. ব্যাগের আয়তন

হাইকিং ব্যাগের ক্ষেত্রে আয়তন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দিক। আপনার উচ্চতা এবং দেহের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ আয়তনের ব্যাগ আপনার হাইকিং অভিজ্ঞতায় দারুণ সুবিধা দিবে। ব্যাগ কেনার সময় অবশ্যই খেয়াল রাখবেন ব্যাগের আকার আয়তন ট্যুরের সমস্ত জিনিস গুছিয়ে নেয়ার পর কেমন হচ্ছে এবং তা আপনার শারীরিক গড়নের উপযোগী কিনা। বাড়তি সাইজ স্বাভাবিক ভাবেই ব্যাগের ওজন বাড়িয়ে দিবে যা আপনার ট্যুরের জন্য নেতিবাচক একটি দিক।

নিজের উচ্চতার সাথে মানানসই ব্যাগ বেছে নিন; Image source : outdoorrevival.com

৬. ডিজাইন

বাংলায় একটা প্রবাদ আছে ‘আগে দর্শনদারি পরে গুণ বিচারি।’ ব্যাগ কেনার সময় চেইন, ব্যাগের কম্পার্টমেন্ট, বেল্ট, ক্লিপ অবশ্যই যথাযথ আছে কিনা দেখে নিন। শখের হাইকিং ব্যাগের ডিজাইন যেন অযথা মনে দাগ না কাটে সেদিকে লক্ষ্য রাখুন। আর যদি বেল্ট, ক্লিপ অতিরিক্ত মনে হয় সেক্ষেত্রে সাদামাটা ব্যাগের দিকে মনোযোগ দিতে পারেন।

যাচাই করুন পছন্দের ডিজাইন; Image source : unsplash.com

চেষ্টা করুন এমন ব্যাগ নিতে যা স্বাভাবিক অবস্থাতেই আপনার পুরো মেরুদণ্ড ঢেকে রাখবে। কিছুটা লম্বাটে ধরনের এইসব ব্যাগের কারণে আপনার মাঝে বাড়তি স্বস্তি কাজ করবে। যার ফলে আপনার ট্যুর হবে বেশ আনন্দময়।

৭. স্বাচ্ছন্দ্য

হাইকিং ব্যাগের সবচে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার হলো ব্যাগটি নিয়ে আপনি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছেন কিনা। সম্ভব হলে একবার দোকানেই কেনার আগে টুকিটাকি জিনিস নিয়ে দেখে নিবে ব্যাগটি কতটা স্বস্তি দিচ্ছে। ব্যাগের বিভিন্ন সাইজ এবং আয়তন থেকে আপনার জন্য যেটা অধিক স্বস্তিকর সেটাই কিনে নিবেন। ব্যাগ কাঁধে নেয়ার পর কোমরের কাছে বেল্ট অবশ্যই পরীক্ষা করবেন। ভারী জিনিসে ব্যাগ বোঝাই হয়ে গেলে এটি আপনাকে বাড়তি সাহায্য করবে।

ব্যাগ যেন হয় স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ; Image source : unsplash.com

সাধারণত লম্বাটে ধরনের ব্যাগে বাড়তি স্বাচ্ছন্দ্য পাওয়া যায়। এছাড়া ব্যাগের কাঁধের দিকে খানিক চওড়া হলে ব্যাগ বহন করতে খানিক বেশি সুবিধা হয়। একই কথা প্রযোজ্য কোমরের কাছের অংশটার ক্ষেত্রেও। এছাড়া প্যাডিং এর ব্যবস্থা তো আছেই। প্যাড যথাযথভাবে আপনার শরীরের সাথে যাচ্ছে কিনা সেটাও অবশ্যই দেখা উচিত।

 

উপরের ৭ টি বিষয়ই কিন্তু ব্যাগ কেনার সবকিছু নয়।  আপনার ব্যক্তিগত পছন্দ অবশ্যই মাথায় রাখুন। ব্যাগ কিনে ঘরে ফিরে যেন আফসোসে ভুগতে না হয়। নিজের মন এবং মস্তিষ্ককে প্রশ্ন করুন। মনের পছন্দ এবং মস্তিষ্কের যুক্তি যে ব্যাগে এক হবে সেই ব্যাগই হোক আপনার হাইকিং এর সঙ্গী।

 

 

 

 

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.