২০১৮ সালের সেরা ১০টি স্মার্টফোন

আইফোন এক্সএস এবং এক্সএস ম্যাক্স

দেখতে দেখতে আরেকটি বছর শেষ করার একেবারে কাছাকাছি চলে এসেছি আমরা। গত ৩৬০ দিনে অনেক কিছুই হয়েছে। অনেকবার উঠানামার ভিতর দিয়ে গিয়েছে প্রযুক্তির বাজার। বছরজুড়ে বেড়েছে স্মার্টফোনের চাহিদা। ভোক্তাদের চাহিদা মাথায় রেখে সারাবছরই বিভিন্ন ফিচারের, বিভিন্ন মডেলের ফোন বাজারে এনেছে নামী সব ব্র্যান্ড। তবে শীর্ষ দশে ছিল কারা? দেখে নিব এবারের আয়োজনে।

১০। স্যামসাং গ্যালাক্সি এস নাইন/এস নাইন প্লাস (Samsung Galaxy S9/S9 plus)

বিশ্বসেরা স্মার্টফোন ব্র্যান্ড স্যামসাং এ বছরের একেবারে শুরুর দিকে বাজারে আনে গ্যালাক্সি এস নাইন এবং এস নাইন প্লাস। এস সিরিজের ফোনের ক্ষেত্রে ঠিক বিপ্লবী না হলেও বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েই যাত্রা করেছে ফোন দুটি। ফোন দুইটিকে বলা যেতে পারে একেবারে “ক্লোজ টু পারফেকশন”।

স্যামসাং গ্যালাক্সি এস নাইন এবং এস নাইন প্লাস ; Source – zdnet.com

স্যামসাং এর ইনফিনিটি ডিসপ্লে বিগত বছরের শেষদিকে বাজারে এসেই অনেকের মন জয় করে নিয়েছিল। সেই মুগ্ধতা বজায় ছিল এই ফোনের মাঝেও। ৬ জিবি র‍্যাম, সবচেয়ে দ্রুত গতির কোয়ালকম স্ন্যাপড্রাগন এইট ফরটিফাইভ (Qualcomm snapdragon 845)  মোবাইল প্রসেসর, সেই সাথে দুয়েল এ্যাপাচার ক্যামেরার কারণে দারুণ জনপ্রিয় হয়ে ওঠে এই ফোন। আর এস নাইন প্লাসে ছিল সুপার স্লো মোশন ক্যামেরা। গ্যালাক্সি এস নাইন এবং এস নাইন প্লাসে ব্যবহার করা হয়েছে এনড্রয়েড ৮.০ ওরিও।

রেটিং – ৮.৮

 

৯। সনি এক্সপেরিয়া এক্সজেড থ্রি (Sony xperia XZ3)

 

নামের দিক থেকে সনি এক্সপেরিয়া সবসময়ই ঈর্ষণীয় একটি ফোন। দারুণ সব ফিচারের সাথে অসাধারণ বিল্ড ইন কোয়ালিটি জনপ্রিয়তার শীর্ষে রেখেছে এই ব্র্যান্ডকে। এবছরের মাঝামাঝি সময়ে বাজারে আসে সনির নতুন স্মার্টফোন এক্সপেরিয়া এক্সজেড থ্রি। ৪ জিবি র‍্যামের সাথে ৬৪ জিবি স্টোরেজ ক্ষমতা এবং এন্ড্রয়েড নাইন পাই ভার্সন সব মিলিয়ে দারুণ একটি ফোন যে কারো জন্য।

সনি এক্সপেরিয়া এক্সজেড থ্রি ; Source – zdnet.com

ফোনের ব্যাটারি ৩৩০০ মাইক্রো এ্যাম্পিয়ার এবং মোবাইল প্রসেসর হিসেবে ছিল কোয়ালকম স্ন্যাপড্রাগন এইট ফরটিফাইভ (Qualcomm Snapdragon 845)। এছাড়া তারবিহীন চার্জ সুবিধা এক্সজেড থ্রি কে নিয়ে এসেছে তালিকার নয় নাম্বার স্থানে। ফোনের পেছনে রয়েছে ১৯ মেগাপিক্সেল এবং সামনে রয়েছে ১৩ মেগাপিক্সেল ক্ষমতার ক্যামেরা।

 

৮। এলজি ভি ফরটি থিঙ্ক (LG V40 thinq)

একের পর এক দারুণ সব ফোন এনেও যেন ভাগ্য ফিরছেনা এলজি কোম্পানির। এখন পর্যন্ত বেশ ভাল গ্রাহক থাকলেও স্মার্টফোন বাজারে বেশ অনেকটা পিছিয়ে আছে এই নামী কোম্পানি। তবে ফোন বাজারে আনার ক্ষেত্রে তারা মোটেই পিছিয়ে নেই। হুয়াওয়ে প্রথমবারের মত একসাথে তিনটি ব্যাক ক্যামেরার ফোন আনলেও তাদের ছাড়িয়ে গিয়েছে এলজির ভি ফরটি।

এলজি ভি ফরটি থিঙ্ক ; Source – zdnet.com

এর আগে দুই ক্যামেরার ফোনে অসাধারণ ল্যান্ডস্কেপ ছবির জন্য এলজি দারুণ সুনাম অর্জন করলেও এবারের ক্যামেরায় ছাড়িয়ে গিয়েছে সবকিছু। সেই সাথে ৩৩০০ মাইক্রো এ্যাম্পিয়ার ব্যাটারি নিশ্চিত করে দীর্ঘস্থাইয়ী ব্যবহার।

 

৭। এ্যাপল আইফোন এক্সআর (Apple Iphone XR)

 

চলতি বছর সবমিলিয়ে তিনটি ফোন বাজারে এনেছিল এ্যাপল। যার মাঝে দুটি স্থান করে নিয়েছে সেরা দশে। ঠিক যেমনটি এ্যাপল থেকে সকলের প্রত্যাশা ছিল। সেই তালিকায় একটু পিছনে আছে আইফোন এক্সআর। আইফোন এক্সআরে রয়েছে এলইডি স্ক্রিন, এটি থ্রিডি টাচের জন্য প্রযোজ্য নয়। একটি মাত্র ব্যাক ক্যামেরার এই ফোনের ডিসপ্লে ৬.১ ইঞ্চি। এতে ব্যবহার করা হয়েছে এ্যাপলের নিজস্ব এ্যাপল এ১২ বায়োনিক প্রসেসর (Apple A12 bionic processor)।

আইফোন এক্সআর ; Source – zdnet.com

১২ মেগাপিক্সেল ক্যামেরার এই ফোনে ব্যবহার করা হয়েছে আধুনিক ফেইস আনলক এবং আইফোন এক্সপেস থেকে বেশ উন্নত ব্যাটারি। আপনার জন্য হাতের নাগালে কিন্তু উচ্চ বাজেটের ফোন হিসেবে দারুন মানানসই হতে পারে আইফোন এক্সআর।

৬। হুয়াওয়ে পি টুয়েন্টি প্রো (Huawei P20 PRO)

 

হুয়াওয়ে পি টুয়েন্টি বলতে গেলে এবছর তাদের সেরা ফোন হতে যাচ্ছিলো। প্রায় ৬৮ মেগাপিক্সেলের তিন ক্যামেরার এই ফোন বেশ অনেক সময় ধরে মার্কিন বাজারে বিক্রির দিক থেকে শীর্ষ অবস্থানে ছিল। ক্যামেরা বর্তমান সময়ে স্মার্টফোনের বাজারে খুব বড় প্রভাব ফেলতে পারে। এবং হুয়াওয়ের নতুন ফোনের ক্ষেত্রে ঠিক তাই ঘটেছে। দারুণ ছবি তোলার ক্ষত্রে বছরের মাঝামাঝি সময়ে প্রায় অপ্রতিদ্বন্দী ছিল পি টুয়েন্টি প্রো।

হুয়াওয়ে পি টুয়েন্টি প্রো ; Source – zdnet.com

৪০০০ মাইক্রো এ্যাম্পিয়ার ব্যাটারি, আধুনিক কিরিন ৯৭০ প্রসেসর এবং পানিতে টিকে থাকার ক্ষমতা সহ অনন্য সব ফিচারের এই ফোন থাকছে তালিকার ছয় নাম্বারে।

৫। ওয়ানপ্লাস সিক্স টি (OnePlus 6T)

 

ওয়ানপ্লাস তাদের নতুন ফোন সিক্স টি বাজারে আনে এ বছরের অক্টোবরের  একেবারের শেষদিকে। আর এই অল্প কদিনেই ফোনটী উঠে এসেছে ইউজার রেটিং এর সেরা পাঁচে। আগে দর্শনদারী পরে গুণবিচারী। প্রথম দেখায় যে কেউ এই ফোনের প্রেমে পড়ে যেতে পারেন। সিলভার এবং কালো দুটী আলাদা রঙে ফোনটি বাজারে আনে অপেক্ষাকৃত নতুন এই কোম্পানি।

ওয়ানপ্লাসের এই সেটের এমন বিষ্ময়কর সাফল্যের পিছনে আছে মার্কিন মধ্যবিত্ত সমাজের উপযোগী দামে ফোন বাজারে ছাড়া। এছাড়া সবচেয়ে আধুনিক সব ফিচার সম্বলিত এই ফোনের কাজ করার ক্ষমতাও অসাধারণ।

ওয়ান প্লাসের আলড়ন তোলা সিক্স টি; Source – zdnet.com

মার্কিন প্রযুক্তিবিদদের মতে, সাধারণের ক্রয়ক্ষমতার হিসেবে যদি ২০১৮ সালের সেরা কিছু ফোন বেছে নিতে বলা হয়, তবে সেটা অবশ্যই ওয়ানপ্লাস সিক্স টি। ৬ জিবি র‍্যাম এবং ১২৮ জিবি স্টোরেজ সুবিধার এই ফোনের রেটিং ৮.৯।

 

৪। এ্যাপল আইফোন এক্সএস ম্যাক্স/এক্সএস (Apple Iphone XS max/ XS)

 

বছরজুড়ে নানা সমালোচনার মাঝেও দারুণ কিছু ফোন বাজারে এনেছে এ্যাপল। স্টিভ জবসের অনুপস্থিতি এখনো যে এ্যাপলে প্রবল সেটা বেশ ভালভাবে বোঝা যাচ্ছিলো তাদের কার্যক্রমে। দামের দিক খুব চড়া সব ফোন বাজারে এনে বেশ একটা নিন্দার ঝড়ে পড়তে হয়েছে নামী এই ব্র্যান্ডকে।

আইফোন এক্সএস এবং এক্সএস ম্যাক্স ; Source – zdnet.com

তবে সব সমালোচনা উৎরে গিয়েছে এবছরে বের হওয়া তাদের ফোন এক্সএস ম্যাক্স এবং এক্সএস। দামের দিক থেকে চড়া হলেও এই ফোনের ফিচার এবং কাজ ছিল দুর্দান্ত। অসাধারণ ওলেড স্ক্রিন (OLED), দীর্ঘস্থায়ী ব্যাটারি এবং একেবারেই নতুন একটি ক্যামেরা সফটওয়্যার সবার নজর কেড়ে নিতে সক্ষম হয়। সেই সাথে এ্যাপলের নতুন এ টুয়েলভ বায়োনিক চিপের কল্যাণে ফোনটি চলে আসে সেরা চারে। যার ইউজার রেটিং ৮.৯।

 

৩। গুগল পিক্সেল থ্রি এক্সএল এবং পিক্সেল থ্রি (Google pixel 3 XL/ Pixel 3)

 

পারফেকশন বলতে পৃথিবীতে কিছুই নেই। তাই গুগল পিক্সেল থ্রি এক্সএল এবং পিক্সেল থ্রি কে আমরা ক্লোজ টু পারফেকশন বা পারফেকশনের কাছাকাছি বলব। আগে দেখা যাক কি কি আছে এই ফোনে।

গুগল পিক্সেল ; Source – zdnet.com

পিক্সেল থ্রি এক্সএল এর রয়েছে ৬.৩ ইঞ্চির ১৮;৯ অনুপাতের ডিসপ্লে। স্ন্যাপড্রাগন এইট ফরটীফাইভ মোবাইল প্রসেসরের সাথে আছে ৪ জিবি র‍্যাম এবং ১২৮ জিবি স্টোরেজ ক্ষমতা। সেই সাথে ১২.২ মেগাপিক্সেলের ব্যাক ক্যামেরা এবং ডুয়াল ফ্রন্ট ক্যামেরা ক্রেতাদের কাছে একে প্রায় অপ্রতিদ্বন্দ্বী করে তুলেছে। আর ৩৪৩০ মাইক্রো এ্যাম্পিয়ার ব্যাটারি নিশ্চিত করে এর দীর্ঘ সময় কাজ করার ক্ষমতা। আর পিক্সেল থ্রি তে ব্যাটারিও ছিল ২৯১৫ মাইক্রো এ্যাম্পিয়ার এবং ডিসপ্লে ৫.৫ ইঞ্চির।

আপনার কাছে যদি ছবি তোলা খুব গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে থাকে তবে এটি আপনার জন্য একেবারেই উপযুক্ত একটি ফোন। রেটিং ৮.৯।

 

২। হুয়াওয়ে মেইট টুয়েন্টি প্রো (Huawei MATE 20 Pro)

 

সম্ভবত এই কোম্পানির নাম নিয়েই আমাদের সবচেয়ে বেশি ঝামেলায় পড়তে হয়। যাইহোক, হাওয়াই বা হুয়াই নয়। চাইনিজ এই কোম্পানির নাম হুয়াওয়ে।

হুয়াওয়ে মেইট টুয়েন্টি প্রো; Source – zdnet.com

এযাবৎ হুয়াওয়ে যত ফোন বাজারে এনেছে তার মাঝে সেরা ফোন এবারের মেইট টুয়েন্টি প্রো। তালিকার ২য় স্থানে থাকার মতই একটি ফোন। প্রথমবারের মত এই ফোনে আনা হয়েছে মাত্র ৭ ন্যানোমিটারের এন্ড্রয়েড চিপ সাথে অতি আধুনিক কিরিন নাইন এইটি (Kirin 980) প্রসেসর। দুটি আলাদা প্রসেসিং ইউনিট, ফোর্থ জেনারেশন ইমেজিং সেন্সর সব মিলিয়ে অসাধারণের চেয়েও বড় কিছু এই হুয়াওয়ে মেইট টুয়েন্টি প্রো। ৪২০০ মাইক্রো এ্যাম্পিয়ার ব্যাটারি, আট, বিশ এবং চলিশ মেগাপিক্সেলের তিনটি ব্যাক ক্যামেরা, দারুণ বিল্ড কোয়ালিটি এবং এন্ড্রয়েড ৯.০ পাই প্রসেসর সব মিলিয়ে বছরের সেরা ফোনের তালিকার দুই নাম্বারে থাকছে হুয়াওয়ে।

 

১। স্যামসাং গ্যালাক্সি নোট নাইন (Samsung Galaxy Note 9)

 

বিশ্বের ১ নাম্বার স্মার্টফোন ব্র্যান্ড স্যামসাং। বছরের অন্যতম সেরা ফোনটিও উপহার তারাই দিয়েছে। আপনার অফিসিয়াল কাজের জন্য নোট নাইন থেকে ভাল কোন ফোন হতেই পারে না। নোট এইটের ব্লুটুথ পেন নোট নাইনে আরো বেশি দারুণভাবে উপস্থাপিত হয়েছে। এছাড়া বেড়েছে র‍্যাম এবং স্টোরেজ ক্যাপাসিটি।

বছরসেরা ফোন স্যামসাং গ্যালাক্সি নোট নাইন; Source – zdnet.com

৪০০০ মাইক্রো এ্যাম্পিয়ার ব্যাটারি, ব্লুটুথ এস পেন, অসাধারণ এমোলেড (AMOLED) স্ক্রিন সব মিলিয়ে অফিস এলাকায় আকর্ষণীয় এক ফোন হতে পারে নোট নাইন। কোয়ালকম স্ন্যাপড্রাগন এইট ফরটিফাইভ টু পয়েন্ট থ্রি ফাইভ গিগাহার্জ কোয়াডকর প্রসেসর নিয়ে নোট নাইন রীতিমতো আলোড়ন তুলেছিল আগস্টে বাজারে আসার পরপরই। প্রসেসর হিসেবে ছিল ৮.১ অরিও প্রসেসর। এরচেয়ে ভাল কিছু হবার সম্ভাবনা এবছর খুব কমই ছিল।

 

Feature Image Source – zdnet.com

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.