ট্রেন্ডি হলেও নিজেকে ব্যক্তিত্বসম্পন্ন করে তুলতে যে বিষয়গুলো বাদ দিতে হবে

সময়ের সাথে সাথে মানুষের ফ্যাশন, লাইফস্টাইল সবকিছু পরিবর্তন হচ্ছে। ষাটের দশকে কার্ডিগান তুমুল জনপ্রিয় ছিল, আশির দশকে জনপ্রিয় ছিল বড় ছাপার জামা। সত্তরের দশকের আবিষ্কৃত জিনস এখনো মানুষকে রাস্তাঘাটে পরতে দেখা যায়। সময়ের স্রোতে ভেসে ফ্যাশন বদলে যাচ্ছে। আবার কয়েক বছর পর পর পূর্বের ফ্যাশনেও ফিরে যাচ্ছে মানুষ। গবেষকরা মনে করেন একটি ফ্যাশন কমপক্ষে দশ থেকে পনেরো বছর পর্যন্ত স্থায়ী হয়। তারপর এর পরিবর্তন হয়।

প্রথম দুই বছরে মানুষ বর্তমান সময়ের ফ্যাশনেবল পণ্য চিনতে শেখে, তারপরের পাঁচ বছরে সবার কাছে উক্ত ফ্যাশনটি গ্রহণযোগ্য হয়ে ওঠে এবং পরবর্তী পাঁচ বছরে ফ্যাশনটি সাফল্যের চূড়ায় পৌছে যায়। তারপর কোনো একটি সময়ে বা দুই তিন বছরের মধ্যে উক্ত ফ্যাশনটির গুরুত্ব কমে যেতে থাকে। এভাবে চলতে থাকে ফ্যাশনজগত কিংবা লাইফস্টাইল। পরপর্তী সময়ে আবারও পূর্বের ফ্যাশনে সাজাতে চায় মানুষ। এসবকিছুই সময়ের সাথে সাথে পরিবর্তিত হয়।

ফ্যাশন হোক, আর পণ্যই হোক আপনার সর্বদা মাথায় রাখতে হবে কোন পণ্যে আপনাকে ব্যক্তিত্ববান লাগছে, কোন ফ্যাশন আপনাকে ভদ্র সমাজে গ্রহণযোগ্য করে তুলছে। যদি তা না ভাবেন তাহলে অন্যদের কাছে নিজের গুরুত্ব হারাবেন। হ্যাঁ, আজ আলোচনা করব ট্রেন্ডি পণ্য হলেও নিজেকে ব্যক্তিত্ববান করে তুলতে যেসব বিষয়গুলোকে বাদ দিবেন তা সম্পর্কে।

হাতে অনেকগুলো আংটি পরা

আপনার বাসায় হয়তো অনেকগুলো ফ্যাশনেবল আংটি আছে। প্রতিটি আংটি বেশ দামী ও স্মার্ট। অনেকগুলো আংটি আছে বলে হাতের প্রতিটি আঙুলে আংটি পরে বাইরে বের হওয়াটা বোকামি। আপনি হয়তো নিজে নিজে ভাববেন আপনাকে সুন্দর লাগছে। বাস্তবে কিন্তু তা নয়। এক হাতে একটি বা দুটি আংটি পরলে আপনাকে সুন্দর ও আকর্ষণীয় লাগবে।

Photo: brightside.me

নয়তো আপনাকে অন্যেরা ব্যক্তিত্বহীন, রুচিহীন ভাববে। তাই অন্যের কাছে নিজেকে ব্যক্তিত্ববান করে তুলতে স্মার্টভাবে চলুন। ফ্যাশনেবল, ট্রেন্ডি হলেও কিছু কিছু বিষয়কে এড়িয়ে চলুন। ডায়মন্ড, স্বর্ণ, রুবি পাথরের আংটি বা জুয়েলারি হলেও ব্যবহারের ক্ষেত্রে সচেতনতা অবলম্বন করুন।

সস্তা বুননের সোয়েটার কিংবা পোশাক পরা

একজন ফ্যাশন সচেতন মানুষ হিসেবে আপনি সবসময় চেষ্টা করুন ভালো ও উন্নতমানের পোশাক পরিধান করতে। ভালো পোশাক বলতে দামী পোশাকের কথা বলা হয়নি। ভালো পোশাক বলতে ভালো বুননের পোশাকের কথা বলা হয়েছে। একবার চিন্তা করুন তো, রাস্তায় হাঁটার এক পর্যায়ে জামার সেলাই বা বুননের কোনো অংশ খুলে গেলে তখন নিশ্চয় খুব লজ্জাজনক পরিস্থিতিতে পড়বেন।

Photo: brightside.me

তাই যেকোনো পোশাক কেনার আগে তার বুনন ও কাপড়ের মান দেখে নিবেন। অনেক ছেলেরা কাটা ছেড়া আছে এমন পোশাকে নিজেকে সাজাতে চায়। তবে এমন পোশাক কি তাকে ব্যক্তিত্বসম্পন্ন করে? নিশ্চয়ই না। পোশাক হতে হবে মার্জিত, ভদ্র ও নম্র। নয়ত অফিসিয়াল যোগাযোগ বা সামাজিক যোগাযোগের ক্ষেত্রে আপনি পিছিয়ে পড়বেন।

বাজারে অনেক পোশাক আছে যেগুলো খারাপ এবং সস্তা কাপড়ের তৈরি। এইসব পোশাক পরলে এলার্জি, ত্বকের সমস্যাসহ অন্যান্য সমস্যা হতে পারে।

আঁটসাঁট পোশাকে বাইরে যাওয়া

অনেকে মনে করেন ঢিলেঢালা জামা পরিধান করলে আনস্মার্ট দেখা যায়। তাই তারা কোথাও বেড়াতে যাওয়ার আগে কিংবা বাইরে বেরোবার আগে অতি আঁটসাঁট পশাক পরিধান করে। আর এইসব আঁটসাঁট পোশাকে তাকে দেখতে খুব বাজে লাগে। তাছাড়া পোশাকের নিচে যেসব ছোট পোশাক পরিধান করে সেগুলোও আরো স্পষ্ট হয়ে যায়।

Photo: brightside.me

পেটের ভাঁজসহ গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলোর ছাপ বোঝা যায় আঁটসাঁট পোশাক পরিধান করলে। আঁটসাঁট পোশাক পরিধান করা কখনো ফ্যাশন হতে পারে না। তাছাড়া এই পোশাকে আপনাকে ব্যক্তিত্ববান লাগবে না। এর চেয়ে বরং একটু ঢিলেঢালা, আরামদায়ক পোশাক পরিধান করলে আপনাকে সুন্দর ও আকর্ষণীয় লাগবে। অন্যদের কাছেও আপনি সম্মানের পাত্র হয়ে উঠবেন।

আনুসঙ্গিক জিনিসপত্রের অনুপস্থিতি

নিজেকে সুন্দরভাবে উপস্থাপন করার জন্য অনেক পণ্য রয়েছে। অতিরিক্ত সাজসজ্জায় নিজেকে না রাঙিয়ে, সাধারণ তবে নান্দনিক সাজসজ্জায় নিজেকে রাঙাতে।

Photo: brightside.me

অর্থাৎ বাইরে গেলে হাতে একটি ঘড়ি পরতে পারেন, একটি সিম্পল ব্রেসলেট পরতে পারেন কিংবা প্রয়োজনীয় জুয়েলারি পরতে পারেন। কোথাও বেড়াতে গেলে প্রয়োজন হলে মাথায় একটি টুপি পরতে পারেন। এতে আপনাকে সুন্দর ও গোছানো ব্যক্তিত্বের বলে মনে হবে। তবে আপনি যদি কিছুই ব্যবহার না করেন অথবা অতিরঞ্জিত দ্রব্যাদি ব্যবহার করেন তাহলে অন্যের কাছে আপনি ব্যক্তিত্বহীন হয়ে উঠতে পারেন।

পায়জামা স্টাইলের পোশাক

অনেকেই পায়জামা স্টাইলের পোশাক পরিধান করে। এই স্টাইলটি অবশ্য বেশ কয়েক বছর আগের। তবে এখনো অনেকেই এটি অনুসরণ করে। এই স্টাইলটি নিঃসন্দেহে ভালো। তবে মধ্যবয়স্ক একজন মহিলাকে নিশ্চয়ই এটি ভালো লাগবে না।

Photo: brightside.me

তাই এই পোশাকটি আপনি আপনার সন্তানকে পরতে দিন, আপনি নিজে পরবেন না। সাধারণত কিশোরীদের এই পোশাকে ভালো মানায়। এটি তাদের ব্যক্তিত্বের সাথেও যায়। সর্বদা পোশাক পরিধানে আপনার বয়স বিবেচনায় রাখুন।

চেহারার সাথে বেমানান সানগ্লাস

সানগ্লাস আপনার ব্যক্তিত্বকে দারুণভাবে প্রকাশ করে। তাই সানগ্লাস কেনার সময় আপনার ব্যক্তিত্বের সাথে যায়, বয়সের সাথে যায়, চেহারার সাথে মানানসই- এমন সানগ্লাস কিনুন।

Photo: brightside.me

নয়ত আপনাকে পুরো আজব মনে হবে। শুধু অযাযিত ফ্যাশন করলেই হবে না। চেহারা ও ব্যক্তিত্বের সাথে মানানসই ফ্যাশন করতে হবে। তবেই আপনাকে সুন্দর ও আকর্ষণীয় মনে হবে।

লম্বা ও ধারালো নখ

লম্বা ও ধারালো নখের ফ্যাশন ছিল কয়েক বছর আগের। এখন সময় বদলে গেছে। বর্তমান সময়ে সবচেয়ে বেশি স্মার্ট নখের ফ্যাশন হলো বৃত্তাকার নখের ফ্যাশন।

Photo: brightside.me

তাই মেনিকিউর করার সময় খেয়াল রাখবেন আপনার নখ যেন বৃত্তাকার শেপে কাটা হয়। তারপর পোশাকের সাথে রঙ নির্বাচন করে, যেকোনো রঙের নেইলপলিশ বা নেইলপেইন্ট লাগাতে ভুলবেন না।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.