ভালোবাসা দিবসের পোশাক ও সাজসজ্জা

ফেব্রুয়ারি মানেই উৎসবের মাস। ফেব্রুয়ারি এলেই বাংলার আকাশ বাতাস ধ্বনিত হয় ফাল্গুনের আমেজ, ভালবাসা দিবসের আবেশ। ফেব্রুয়ারিকে ভাষার মাস হিসেবেও আখ্যা দেয়া হয়। কারণ ফেব্রুয়ারি মাসেই বাংলা ভাষার দাবিতে বাংলার দামাল ছেলেরা রাজপথ রঞ্জিত করেছে বুকের তাজা রক্তে। ফেব্রুয়ারি তাই শোক ও সুখের মাস।

এ মাসে বাঙালির যেমন বিষাদ রয়েছে তেমনি রয়েছে আনন্দের অনেক সংবাদ। প্রতি বছর শীতকে বিদায় জানিয়ে প্রকৃতিতে হাজির হয় ফাল্গুন। আর দোসরা ফাল্গুন সারা পৃথিবীতে বিশ্ব ভালবাসা দিবস হিসেবে পালিত হয়। আরেক ভাবে বলা যায় ভালবাসা দিবস পালিত হয় বসন্তের দ্বিতীয় দিন, অর্থাৎ ১৪ই ফেব্রুয়ারি।

প্রেমিক যুগল; Source: Notunalo24

ভালবাসা দিবস হলো এমন একটি দিন যে দিনে প্রেমিক প্রেমিকাকে, বন্ধু বন্ধুকে, ছেলে মেয়েরা বাবা মাকে, শিক্ষার্থীরা শিক্ষককে ভালবাসা দিবসের শুভেচ্ছা জানায়। যদিও সবার প্রতি সবার ভালবাসার বহিঃপ্রকাশ ঘটে এ দিনে, তবুই প্রেমিক প্রেমিকার ভালবাসাটা যেন সবকিছুকে ছাড়িয়ে যায়। ভালবাসা দিবস প্রতিটি প্রেমিক যুগলের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ দিন।

প্রেমিক যুগল কিংবা প্রেমিক প্রেমিকা তার প্রিয় মানুষটিকে হৃদয়ের সবটুকু আবেগ দিয়ে অফুরন্ত ভালবাসার শুভেচ্ছা জানায়। আর এ দিনে প্রেমিক প্রেমিকার সাজসজ্জারও শেষ থাকে না। তারা নিজেকে সবচেয়ে সুন্দরভাবে উপস্থাপন করতে চায় তাদের প্রিয় মানুষটির কাছে।

ভালোবাসা দিবসের পোশাক

ভালবাসা দিবসের সুনির্দিষ্ট কোনো পোশাক নেই। তবে ভালবাসার রং হিসেবে লালকে প্রাধান্য দেয়া হয়। এ দিনে সারা পৃথিবী ব্যাপি লাল রঙের পোশাক পরে দিনটিকে উদযাপন করা হয়। গোলাপ যেমন লাল, তেমনি কাল্পনিকভাবে লালও ভালবাসার রং। তবে মনস্তাত্ত্বিকগণ বলেন ভিন্ন কথা। তাদের মতে লাল আতঙ্কের রং, বিপদের চিহ্ন।

লাল শাড়িতে নারী; Source: মেহজাবীন স্বর্না

ভালবাসা দিবসে পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষ বিভিন্ন পোশাক পরে। বাঙালি নারীরা শাড়িকে প্রাধান্য দেয়। তাছাড়া বাঙালি নারী শাড়িতে বেশি সুন্দর। ভালবাসা দিবসে লাল রঙের জর্জেট শাড়ি, সুতি শাড়ি, জামদানি শাড়ি, এপ্লিকের শাড়ি, কোটা শাড়ি, হাফ সিল্কের শাড়ি, কাতান শাড়ি পরা যেতে পারে। আপনি আপনার রুচি ও অভিরুচি অনুযায়ী পছন্দের শাড়ি পরতে পারেন।

শাড়ি পরার সময় অবশ্যই মাথায় আরামদায়কতার বিষয়টি রাখা উচিত। কেননা ১৪ই ফেব্রুয়ারিতে বেশ গরম থাকে। শীত তার সমস্ত স্মৃতি নিয়ে প্রকৃতির কোল থেকে বিদায় নেয়। আর ফাল্গুন তার স্বভাবগত রূপের পসরা নিয়ে প্রকৃতিতে থেকে যায়।

ভিন্ন রঙের শাড়ি; Source: অনুপা

ভালবাসা দিবসে নারীরা লাল শাড়ি ছাড়াও ভিন্ন রঙের শাড়ি পরে থাকে। অনেকে মনে করেন নিজেকে সবার চেয়ে ভিন্ন আঙ্গিকে প্রকাশ করাটা উত্তম। তাই তারা বেছে নেয় গাঢ় নীল, বেগুনি, বাদামি, গোলাপি কিংবা খয়েরি রঙের শাড়ি।

লাল পোশাক ও সুন্দর সাজ; Source: মেহজাবীন স্বর্না

অনেকে আবার ভালবাসা দিবস উদযাপন করে ফতুয়া, সালোয়ার কামিজ, কুর্তি পরে। আপনি যেভাবে নিজেকে গুছিয়ে রাখতে পারেন সেভাবেই আপনাকে লাগবে অনন্যা।

ভিন্ন শাড়িতে ভালবাসা উদযাপন; Source: অনুপা

ভালবাসা দিবসে ছেলেরা পাঞ্জাবি পরতে ভালবাসে। সাদা কিংবা লাল পাঞ্জাবীকে তারা বেশি প্রাধান্য দেয়। তবে অনেকে লাল টি-শার্ট, শার্ট ছাড়াও বিভিন্ন ধরনের শার্ট, টি-শার্ট পরে। আপনি চাইলে টি-শার্টের সাথে টুপি পরতে পারেন। কারণ টুপি ফ্যাশনে অন্যরকম অনুসঙ্গ প্রদান করে।

বাসন্তী রঙে ভালবাসা উদযাপন

ভালবাসা দিবস তথা ১৪ই ফেব্রুয়ারির আগের দিন ফাল্গুনের এক তারিখ। পহেলা ফাল্গুনে নিজেকে সুন্দরভাবে সাজানোর অনেক পরিকল্পনা গ্রহণ করে নারীরা। কেউ কেউ ভালবাসা দিবসেও ফাল্গুনের রঙে ও ঢঙে সাজতে ভালবাসে।

বসন্তের আমেজে ভালবাসা দিবস উদযাপন; Source: অনুপা

আপনি ফাল্গুনের বাসন্তী রঙের শাড়ি কিংবা হলুদ শাড়ি পরে, খোঁপায় ফুল দিয়ে প্রিয় মানুষটিকে চমকে দিতে পারেন। শাড়ি যেমনই হোক না কেন প্রিয়জনের কাছে নিজেকে উপস্থাপন করা হলো মুখ্য। তাই ভালবাসা দিবসে আপনি নিজেকে রাঙাতে পারেন বাসন্তী সাজে।

যেথায় পাবেন পোশাক

ভালবাসা দিবসের জন্য শাড়ি কিনতে হলে প্রথমে ঘুরে আসতে পারেন নিউমার্কেটের হকার্সের দোকানগুলোতে। কারণ এখানের শাড়িগুলো সাশ্রয়ী মূল্যে পাওয়া যায়। অনেকগুলো শাড়ির মধ্যে থেকে বেছে বেছে আপনি পছন্দের শাড়ি খুঁজে নিতে পারবেন। তাছাড়া বসুন্ধরা শপিং কমপ্লেক্স, গাউছিয়া, টোকিও স্কয়ার, বাসন্তী, অঞ্জন্স, আড়ংসহ বিভিন্ন ফ্যাশন হাউজগুলোতে পাবেন সুন্দর শাড়ি ও সালোয়ার কামিজ।

পুরুষেরা তাদের পাঞ্জাবীর জন্য বেছে নিতে পারেন রিচ ম্যান, ইজি, প্লাস পয়েন্ট, ইয়ালো, জারা ইত্যাদি ব্রান্ডগুলোকে। তাছাড়া হকার্স মার্কেট, টোকিও, বসুন্ধরা শপিং কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন ফ্যাশন হাউজগুলোতে ঢুঁ মারতে পারেন পাঞ্জাবী, টি শার্ট, শার্ট, ফতুয়া ইত্যাদি দেখার জন্য।

যেমন হবে মেকআপ

ভালবাসা দিবসে আপনি যদি লাল রঙের পোশাক পরেন তাহলে মেকআপে তা ফুটিয়ে তুলুন। লাল রঙের পোশাকের সাথে মিল রেখে ব্লাসন, শ্যাডো, লিপস্টিক ইত্যাদি নির্বাচন করুন। খুব ভারি মেকআপ করার প্রয়োজন নেই কেননা বাইরের রোদ ও তাপের কারণে মেকআপ নষ্ট হয়ে যাবে। তাই হালকা মেকআপে নিজেকে সাজাতে পারেন। মুখে প্রথমে ফাউন্ডেশন লাগাতে পারেন, তারপর চোখের নিচের কালো ভাব দূর করার জন্য লাগান কনসিলার। তারপর ফেসপাউডার দিন। পোশাকের সাথে মিল রেখে গালে ব্লাসন লাগান এবং ঠোঁটে লিপস্টিক দিন।

চোখের সাজ

মেয়েদের চোখের সাজ হওয়া চাই আকর্ষণীয়। চোখের সাজ সুন্দর হলে পুরো মেকআপ দেখতে ভালো লাগে। চোখে গাঢ় করে কাজল ও আইলাইনার লাগাতে পারেন। মোটা করে আইলাইনার লাগিয়ে পাশ দিয়ে টান দিলে দেখতে খুব ভালো লাগে।

চোখের সাজ; Source: thedailystar.net

তাছাড়া চোখে মাশকারা লাগাতে ভুলবেন না। পোশাকের সাথে মিল রেখে চোখের ওপরে শ্যাডো লাগাতে পারেন। যারা চশমা পরেন তারা চাইলে চশমার পরিবর্তে কন্টাক্ট লেন্স পরতে পারেন।  

চুলের সাজ

ভালবাসা দিবসে চুল ছেড়ে রাখতে পারেন। তবে আপনি যদি চুল ছেড়ে আরামবোধ না করেন তাহলে খোঁপা করতে পারেন।

চুলের সাজ; Source: thedailystar.net

চুলে খোঁপা করে এক পাশে ফুল দিলে অনেক সুন্দর লাগবে। লম্বাটে চেহারার মেয়েদের উচিত সামনের দিকে চুল ফুলিয়ে পেছনে বেণী করা। তাহলে দেখতে খুব ভালো লাগবে।

Featured Image Source: The Town Bird

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.